৮ই এপ্রিল, ২০২০ ইং, বুধবার
১৫ই শাবান, ১৪৪১ হিজরী

নীলফামারী উত্তরা ইপিজেডের ৩৪ হাজার শ্রমিক করোনা ঝুকিতে!

প্রকাশিত: ৪:৩৬ অপরাহ্ণ , মার্চ ২৫, ২০২০

নীলফামারী উত্তরা ইপিজেডের ৩৪ হাজার শ্রমিক করোনা ঝুকিতে!

নীলফামারী প্রতিনিধিঃ গোটা দেশের ন্যায় করোনা আতঙ্কে রয়েছে নীলফামারতেও। জনসমাগম রোধে দেওয়া হয়েছে বিশেষ নির্দেশনা। শহরে টহলে রয়েছে সেনাবাহিনী। বন্ধ করা হয়েছে নিত্য প্রয়োজনীয় সামগ্রি ও ওষুধের দোকান বাদে সকল ব্যবসা প্রতিষ্ঠাণ। কিন্তু খোলা রয়েছে উত্তরা ইপিজেড’র ১৮টি শিল্প প্রতিষ্ঠান। যেখানে কর্মরত রয়েছে ৩৪হাজার শ্রমিক।

যার অর্ধেকেরও বেশী নারী শ্রমিক। সুর্যের আলো ফোটার সাথে সাথে তারা দল বেধে ছুটছে কাজে যোগ দিতে। এখানে মানা হচ্ছে না সরকারের কোন নির্দেশনা। যেন এটি ভিন্ন গ্রহের কোন প্রতিষ্ঠান। গত বুধবার সকালে নীলফামারী সদর উপজেলার সংগলশী ইউনিয়নে অবস্থিত উত্তরা ইপিজেডে গিয়ে দেখা যায়, কর্মরত শ্রমিকরা দল বেঁধেই কর্মস্থলে ছুটছেন। শ্রমিকেরা মুখে মাস্ক পরলেও করোনা আতঙ্কে কপালে বলি রেখার ভাঝ স্পষ্ট। তারপরেও জীবিকার তাগিদে মৃত্যুকে হাতের মুঠোয় নিয়ে চলছে তাদের এ জীবন যুদ্ধ। ইপিজেড কেন্দ্রীক গড়ে ওঠা বাজারের দোকানগুলো নির্দেশনা মেনে বন্ধ থাকলেও আগের মতোই শ্রমিকরা সাইকেল, মোটর সাইকেল ও অটোরিকশা করে দল বেধে ছুটছেন কাজে। ইপিজেডের প্রবেশ করছেন একে অপরের গায়ে ঘেঁষে। নূন্যতম দূরত্বও বজায়
রাখছেন না তারা।

সেকশন সেভেন’এ কর্মরত দিনাজপুরের খানসামা উপজেলার ফারজানা বলেন, শোনা যাচ্ছে সারা বিশ্বের ন্যায় বাংলাদেশে সব কর্মস্থল বন্ধ ঘোষনা করেছে সরকার। আমরা বন্ধ চাইনা, আমরা কাজ চাই। কারন ফ্যাক্টরি বন্ধ হলে আমাদের দিন কাটবে কেমন করে? খাবই বা কী? এখানে কাজ করে চলে আমাদের জীবন।

এভারগ্রীন প্রোডাক্ট বিডি লিমিটেড কেম্পানিতে কর্মরত সৈয়দপুর শহরের ইয়াকুব আলী, আমরা গরীব মানুষ, পেটের দায়ে চাকরি করছি। হঠাৎ করোনা ভাইরাসের মহামারী শুরু হওয়ায় বেশ চিন্তায় আছি। ছুটি না দিলে কিছু করার নেই। হাজারীহাট এলাকার আদর ইসলাম বলেন, করোনা ভাইরাস নিয়ে টেনশনে আছি। পেটে খায় তাই আসি, তবে যত তাড়াতারি বন্ধ করা যায় ততই ভালো।

উত্তরা ইপিজেডের মহাব্যাবস্থাপক মোহাম্মদ এনামুল হক বলেন, শিল্প-কারখানা বন্ধে সরকারি কোন সিদ্ধান্ত হয়নি। এ মুহূর্তে প্রতিষ্ঠানগুলো পুরোপুরি বন্ধের ক্ষেত্রে সিন্ধান্তহীনতা রয়েছে। কয়েকটি প্রতিষ্ঠান লে-অফ (শ্রম আইন অনুযায়ী অর্ধেক বেতন অগ্রীম প্রদান করা সাপেক্ষে শ্রমিকদের ছুটি প্রদান) করার পরিকল্পনা চলছে। কোন কোন প্রতিষ্ঠান সীমিত আকারে চালু রাখার পরিকল্পনায় আছে।

শ্রমিকদের ছুটি দিয়ে বড় বড় প্রতিষ্ঠঠানগুলো এতো বেতন দেবে কেমন করে। প্রোডাকশন নাই, কাচামাল নাই এগুলো নিয়েই প্রতিষ্ঠানগুলো চিন্তিত। নীলফামারী জেলা সিভিল সার্জন রণজিৎ কুমার বর্মন বলেন, উত্তরা ইপিজেড নিয়ে একটু বেশীই চিন্তিত। কারন ওখানে যারা বিদেশ থেকে আসে তারা হোম কোয়ারেন্টাইন মেনে চলে না, আমার সাথে যোগাযোগও করে না। বিদেশী বিশেষতঃ চীনের নাগরিকদের তথ্য চেয়ে বিভিন্ন সময়ে আমি এবং আমার ষ্টাফদের মাধ্যমে তাদের তথ্য নেওয়ার চেষ্টা করেছি। তারা আমার সাথে কো-অপারেট করেনি। এখন তাদের সাথে আমাদের সার্বক্ষণিক যোগাযোগ হয় জেলা প্রশাসকের মাধ্যমে।

সর্বশেষ যে ১৫ জন চীনা নাগরিক এসেছে। তার ১৪ জন কোয়ারেন্টাইন শেষ করেছে। এখনও একজন কোয়ারেন্টিনে আছে। তাদের মেডিকেল টিমও আমাদের সাথে যোগাযোগ করে না, আমাদের ষ্টাফদের তো ভিতরেই ঢুকতে দেয় না নীলফামারী জেলা পরিষদ চেয়ারম্যান মুক্তিযোদ্ধা জয়নাল আবেদীন বলেন, ্প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা নীলফামারীতে উত্তরা ইপিজেড স্থাপনের পর এই অঞ্চলের মঙ্গা দূরীকরণে এবং নারীর ক্ষমতায়নে বিশেষ সহায়ক ভূমিকা পালন করেছে। কিন্তু বর্তমান বিশ্ব স্বাস্থ্য পরিস্থিতির দিকে লক্ষ্য রেখে কোভিট-১৯ প্রতিরোধে উত্তরা ইপিজেডের ৩৪ হাজার শ্রমিক তথা নীলফামারীকে রক্ষা করতে ইপিজেড বন্ধ রাখা কিংবা সিমিত আকারে পরিচালনা করা উচিত।

স্বাস্থ্য বিভাগের রংপুর বিভাগীয় পরিচালক ডাঃ আমিন আহমেদ খান জানায়, আমরা বলছি পাশাপাশি দুজন থাকলে ৩ফুট দুরত্বে থাকতে হবে। এক সাথে অনেক লোক কাজ করছে, দুরত্ব মেইন্টেইন করছে কি না, তাছাড়াও ওখানে বিদেশীরা কাজ করছে, তারা ঠিকমতো কোয়ারেন্টাইন মানছেন কি না সব মিলেই উত্তরা ইপিজেডের শ্রমিকরা স্বাস্থ্য ঝুঁকিতে রয়েছেন।

উল্লেখ্য যে, ২০০১ সালে ২১৩ একর জমিতে প্রতিষ্ঠিত উত্তরা ইপিজেডে দেশী-বিদেশী ১৮টি কোম্পানিতে প্রায় ৩৪হাজার শ্রমিক কাজ করছে। করোনা ভাইরাসের উৎপত্তিস্থল চীনের নিয়ন্ত্রিত চারটি কোম্পানির প্রায় ২৫ হাজার শ্রমিক কাজ করেন। এভারগ্রীন প্রডাক্ট ফ্যাক্টরী বিডি লিঃ, ম্যাজেন বিডি লিঃ, সনিক বাংলাদেশ লিঃ ও ভ্যানচুরা লেদার অয়্যার বিডি লিঃ এ চার কোম্পানিতে কাজ করেন ৪২৬ জন চায়না নাগরিক।


সিএনআই’র প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।