৫ই এপ্রিল, ২০২০ ইং, রবিবার
১২ই শাবান, ১৪৪১ হিজরী

লালমনিরহাটে সির্ন্দুরমতি মেলা ও পুণ্যস্নান বন্ধ 

প্রকাশিত: ৬:২৯ অপরাহ্ণ , মার্চ ২৫, ২০২০

লালমনিরহাটে সির্ন্দুরমতি মেলা ও পুণ্যস্নান বন্ধ 
লালমনিরহাট প্রতিনিধিঃ করোনাভাইরাস প্রতিরোধে কয়েকশত বছরের পুরনো ঐতিহাসিক সির্ন্দুরমতি, শুকানদিঘী মেলা ও ঐতিহাসিক চিলমারীর পুণ্যস্নান উৎসব, চৈত্রমাসে অনুষ্ঠিত সকল প্রকার মেলা ও গণজমায়েত বন্ধ ঘোষনা করা হয়েছে। কয়েকশত বছরের মধ্যে এবারেই প্রথম ঐতিহাসিক মেলা ও পুণ্যস্নান বন্ধ ঘোষনা করা হলো।
এতে স্থানীয় গ্রামের মানুষের মধ্যে ভাইরাস আতংক থেকে স্বস্তি ফিরে আসেছে।  লালমনিরহাট জেলা প্রশাসনের সূত্রে জানা গেছে, আগামী দুই এপ্রিল জেলা সদরের পঞ্চগ্রাম ইউনিয়নের সির্ন্দুরমতি গ্রামে সির্ন্দুরমতি মেলা ও একই উপজেলার মহেন্দ্রনগর ইউনিয়নে শুকানদিঘীর পুকুরপাড়সহ বিভিন্ন নদ নদীর মোহনায় মেলা অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা ছিল।এই মেলা অনুষ্ঠান হলে স্থানীয়রা মেলার দিনে নানা নিত্যপ্রয়োজনীয় জিনিসপত্র বিক্রি করে আয় করে থাকেন। কিন্তু মেলা বন্ধে হয়ে যাওয়া আর্থিক ক্ষতি হবে। তবুও গ্রাম গুলোর মানুষ করেনাভাইরাস ঝুঁকিমুক্ত থাকবে। এই জন্যই সকলকিছু বন্ধের ঘোষনা করা হয়েছে।
পঞ্চগ্রাম ইউনিয়নের পুঁজা উদযাপন কমিটির সভাপতি বলরাম রায় জানান, পৌরানীককাহিনী মতে পশুরাম রাজা তার মাকে কুঠার দিয়ে আঘাত করে হত্যা করে। মাকে হত্যার পর তার হাত হতে কুঠার খুলছিলনা। মাকে হত্যায় তিনি পাপিষ্ট হয়ে যান। এই পাপ মুছোনে তিনি হিমালয়ে চলে যান। হিমালয়ের পাদদেশ ধরে পঞ্চগ্রাম ইউনিয়নের পরেই চিলমারীতে ব্রক্ষপুত্র নদের আসেন। সেখানে স্নান করলে তার হাত হতে কুঠারটি খুলে যায়। এতে তিনি মনে করেন দেবতারা তার পাপমুছন করে দিয়েছেন। তখন থেকে প্রতিবছর বাংলা চৈত্রমাসে অষ্টমীর দিন ব্রক্ষপুত্র নদে হিন্দু সম্প্রদায়ের মানুষ পাপমুছোন করতে স্নান করে আস ছিল। এবং নবমীতে সির্ন্দুরমতির পুকুরে পুণ্যস্নান করে। একই দিন শুকানদিঘীতেও পুণ্যস্নান করে আসছে।
লালমনিরহাট জেলার জেলা প্রশাসক মোঃ আবু জাফর জানান, হিন্দুসম্প্রদায়েল সির্ন্দুমতি পুকুরে পূন্যস্নান ও মেলাসহ জেলায় চৈত্রসংক্রান্তর সকল মেলা ও গণজমায়েত নিষিদ্ধ করা হয়েছে। সির্ন্দুমতি, শুকানদিঘীসহ সকল মেলা বন্ধে সরকারিভাবে ইজারা কার্যক্রমও বন্ধ রাখা হয়েছে। জেলায় সকল মেলা বন্ধে গণবিজ্ঞপ্তি ও মাইকিং করা হবে।


সিএনআই’র প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।