বৃহস্পতিবার, ৯ই জুলাই, ২০২০ ইং

দিনাজপুরে জুট মিলে বকেয়া বেতনের দাবিতে শ্রমিকদের বিক্ষোভ

প্রকাশিত: ৬:০১ অপরাহ্ণ , মার্চ ২৬, ২০২০

দিনাজপুরে জুট মিলে বকেয়া বেতনের দাবিতে শ্রমিকদের বিক্ষোভ

দিনাজপুর প্রতিনিধিঃ  দিনাজপুরের বিরলে রুপালী বাংলা জুট মিলে শ্রমিকদের বিক্ষোভ, পুলিশের সাথে সংঘর্ষরে
ঘটনায় পুলিশ বাদী হয়ে ১১শ’ জনের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করেছে। এদিকে এই ঘটনায় জেলা প্রশাসন ও পুলিশ প্রশাসনের পক্ষ থেকে পৃথক দু’টি তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে।

আজ বৃস্পতিবার দুপুরে নিহত পান দোকানদার সুরত আলীর লাশ ময়না তদন্তের পর পর পরিবারের নিকট হস্তান্তর এবং পারিবারিক কবর স্থানে লাশ দাপন করা হয়েছে । তবে পুলিশ বলছে এখন পর্যন্ত নিহতের ঘটনায় কোন মামলা দায়ের করেনি পরিবার কিংবা শ্রমিকরা। নিহতের মরদেহ ময়না তদন্তের জন্য মর্গে প্রেরন করা হয়েছে। বিরল থানার ওসি শেখ নাসিম হাবিব জানান, বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি ভাংচুর ও পুলিশের উপর হামলার ঘটনায় ১০/১২ জনের নাম দিয়ে অজ্ঞাত আরও এক হাজার থেকে ১১শ’ জনকে আসামী করে একটি মামলা দায়ের করেছেন বিরল থানার এসআই আব্দুল কাদের।

তবে নিহতের পরিবারের পক্ষ থেকে কোন অভিযোগ পাওয়া যায়নি বলে জানান তিনি। একটি ইউডি মামলা দায়ের করে নিহতের মরদেহ ময়না তদন্তের জন্য দিনাজপুর এম. আব্দুর রহিম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে প্রেরন করা হয়েছে। এদিকে ওই ঘটনায় জেলা পুলিশের পক্ষ থেকে ৩ সদস্য বিশিষ্ট ও জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে ২ সদস্য বিশিষ্ট পৃথক দু’টি তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে। পুলিশের পক্ষ থেকে ৩ সদস্য বিশিষ্ট কমিটির প্রধান করা হয়েছে ডিএসবি’র অতিরিক্ত পুলিশ সুপার সচিন চাকমাকে।

বাকী দু’জন সদস্য হলেন- অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (সদর) হাফিজুল ইসলাম ও জেলা গোয়েন্দা শাখা (ডিবি)’র ওসি এটিএম গোলাম রসুল। আর জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে ২ সদস্য বিশিষ্ট কমিটির প্রধান অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিষ্ট্রেট শরিফুল ইসলাম ও সদস্য বিরল উপজেলা নির্বাহী জিনাত রহমান। দু’টি কমিটিই আগামী ৭ কার্যদিবসের মধ্যে তদন্ত প্রতিবেদন দাখিল করবেন।

দিনাজপুর জেলা পুলিশ সুপার আনোয়ার হোসেন বিষয়টি নিশ্চিত করে বলেন, কমিটির প্রতিবেদনের ভিত্তিতেই প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণ করা হবে। উলে­খ্য, বুধবার বিকেলে কোন প্রকার নোটিশ ছাড়াই বিরল উপজেলার রুপালী বাংলা জুট মিল বন্ধ করে দেয় কর্তৃপক্ষ। এ সময় বকেয়া বেতনের দাবিতে,শ্রমিকরা জড়ো হয়ে বিক্ষোভ শুরু করে। পরিস্থিতি নিয়ে কর্তৃপক্ষের সাথে আলোচনা হলেও কোন প্রকার সিদ্ধান্ত হয়নি। যাতে করে শ্রমিকরা বকেয়া বেতনের দাবিতে ভাংচুর শুরু করে। এসময় পুলিশ বিষয়টি নিয়ন্ত্রনে আনার চেষ্টা করলে পুলিশের সাথে শ্রমিকদের সংঘর্ষ হয়। এ সময় পুলিশ কয়েক রাউন্ড গুলি করে,

যাতে সুরত আলী নামে একজন পান দোকানী নিহত হয়। এই সংঘর্ষের ঘটনায় প্রায় ১৫ জন আহত হয়েছে বলে জানিয়েছে স্থানীয়রা। আর পুলিশ দাবি করেছে- এই ঘটনায় তাদের ৬ জন পুলিশ সদস্য আহত হয়েছে। নিহত সুরত আলী বিরল পৌরসভা এলাকার হোসনা গ্রামের মোহাম্মদ আলীর ছেলে।


সিএনআই’র প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।