বুধবার, ২৭শে মে, ২০২০ ইং

মাটির তৈরি পাতিলের ঢাকনা দিয়ে করোনা প্রতিরোধের চেষ্টা!

প্রকাশিত: ১:০২ অপরাহ্ণ , এপ্রিল ৮, ২০২০

মাটির তৈরি পাতিলের ঢাকনা দিয়ে করোনা প্রতিরোধের চেষ্টা!

 

সিএনআই ডেস্ক: যুগ যুগ ধরে বিভিন্ন অঞ্চলে নানা কুসংস্কার চালু রয়েছে। করোনাভাইরাসের এই মহামারির সময়ও মানুষকে বিভিন্ন কুসংস্কার মানতে দেখা যাচ্ছে। তেমনি কক্সবাজারে বরোনা (মাটির তৈরি পাতিলের ঢাকনার স্থানীয় নাম) দিয়ে চলছে করোনা প্রতিরোধের চেষ্টা!

কক্সবাজার জেলার বিভিন্ন গ্রামগঞ্জের কিছু মানুষ বিশ্বাস করেন কোনো দৈত্য মহামারি বহন করে নিয়ে এসে এলাকায় দিয়ে যায়। সেখান থেকেই পরবর্তীতে তা ছড়িয়ে পড়ে। এসব মানুষের বিশ্বাস-মহল্লা, পাড়া এবং নিজ নিজ ঘর-দুয়ার যদি তাবিজ-দোয়া, পানি পড়া দিয়ে বন্ধ করে দেওয়া যায় তাহলে নিজেরা রক্ষা পাবে।

সরেজমিনে দেখা গেছে, করোনা প্রতিরোধ করতে কক্সবাজারের অনেকেই তাবিজ-দোয়া, পানি পড়া দিয়ে পাড়া এবং ঘরের চারিদিকে মাটির তৈরি ‘বরোনা’ টাঙিয়ে দিয়েছেন। আবার কেউবা কাপড় দিয়ে পতাকা তৈরি করে তা কিছুদূর অন্তর টাঙিয়েছেন। আবার কেউ তাবিজ-দোয়া লিখে ‘বরোনা’ এবং কাপড় টাঙিয়ে প্রতিরোধের চেষ্টা করছেন মহামারিবাহী দৈত্যকে।

উখিয়া উপজেলার হলদিয়া পালং ইউনিয়ন কমিউনিটি পুলিশিং ফোরামের সভাপতি আজিজুর রহমান জানিয়েছেন, তার গ্রাম পাতাবাড়ী এলাকার মহল্লায় এরকম মহামারি প্রতিরোধক বরোনা টাঙানো হয়েছে। স্থানীয় মৌলভী ডেকে মাটির তৈরি এসব বরোনায় দোয়া-দরুদ লিখে টাঙ্গানো হয় বরোনাগুলো। পূর্বপাতাবাড়ী বালুছড়া এলাকার নুরুল আলমের ঘরেও এরকম বরোনা টাঙ্গিয়ে দেওয়া হয়েছে জানান তিনি।

হলদিয়া পালং ইউনিয়ন পরিষদেরসাবেক চেয়ারম্যান ফজলুল করিম সিকদার বলেন, ‘এলাকায় কোনো সময় মহামারি দেখা দিলে এরকম পদ্ধতি যুগ যুগ ধরেই চালু রয়েছে। আমাদের এলাকার মানুষ এটাকে বিশ্বাস করে। আমার মহল্লায়ও দেওয়ার কথা ছিল। কিন্তু এখন লোকসমাগম নিষিদ্ধ করায় তা করা হচ্ছে না।’

তিনি বলেন, ‘বেশ কয়েকজন আলেম মিলে সূরা ফাতেহা পড়ে এসব করতে হয়।’

উখিয়া উপজেলার জালিয়া পালং ইউনিয়নের চেপটখালী গ্রামের বাসিন্দা মৌলভী আবুল বাশার বলেন, ‘গত রোববার সোনার পাড়া ও চেপটখালী ২টি গ্রামেই আলেমদের দিয়ে দোয়া-দরুদের মাধ্যমে কাপড়ের পতাকা টাঙিয়ে দেওয়া হয়েছে। মহামারি যাতে গ্রামে আক্রমণ করতে না পারে সেজন্যই এসব দেওয়া হয়েছে।’

আর টেকনাফের বাহারছড়া ইউনিয়ন কমিউনিটি পুলিশিং সভাপতি আজিজ উল্লাহ জানিয়েছেন, ৩ নম্বর ওয়ার্ডের উত্তর শীলখালী গ্রামের পাড়াটি তাবিজ-দোয়ার মাধ্যমে কাপড় দিয়ে ‘বন্ধ’ করা হয়েছে। এলাকার রোহিঙ্গা মৌলভী শফি হুজুর পাড়া ‘বন্ধের’ কাজটি করে দিয়েছেন।

কক্সবাজারের উখিয়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. নিকারুজ্জামান চৌধুরী বলেন, ‘আগের জামানায় এরকম করার রেওয়াজ ছিল। কিন্তু এখন মানুষ অনেক সচেতন। আগের কুসংস্কার থেকে অনেকেই বেরিয়ে এসেছে। তবে অনেক পাড়া-মহল্লায় কিছু লোক এখনো তাবিজ-দোয়া দিয়ে মাটির তৈরি বরোনা ঢাকনা টাঙিয়ে থাকেন বলে খবর পেয়েছি।’

তিনি বলেন, ‘লোকজনকে আরও সচেতন করার চেষ্টা অব্যাহত রয়েছে, যাতে কুসংস্কারে কেউ বিশ্বাস না করে।’


সিএনআই’র প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।