মঙ্গলবার, ৭ই জুলাই, ২০২০ ইং

আশুগঞ্জ বেদে পল্লীতে শিশুদের দুধ কেনার টাকা নেই!

প্রকাশিত: ১১:২১ পূর্বাহ্ণ , এপ্রিল ৩০, ২০২০

আশুগঞ্জ বেদে পল্লীতে শিশুদের দুধ কেনার টাকা নেই!

ব্রাহ্মণবাড়িয়া হাসান জাবেদ:  ব্রাহ্মণবাড়িয়ার আশুগঞ্জে উপজেলা চরচারতলা  ইউনিয়নে মরপ পাড়ায় বেদে পল্লীর ৩০টি পরিবারের মানবেতর জীবন যাপন, দেখার কেউ নেই চলমান করোনা পরিস্থিতিতে আশুগঞ্জে কর্মহীন হয়ে পড়া গরীব অসহায় বেদে পল্লীর মানুষরা না খেয়ে অর্ধাহারে অনাহারে দিন কাটাচ্ছেন তারা। চলমান দূর্যোগে তাদেরকে দেখার কেউ নেই।

সরেজমিনে বেদে সম্প্রদায়ের বসবাস স্থলে গিয়ে দেখা যায় আশুগঞ্জ চরচারতলা মরব পাড়ে এলাকায় এই বেদে পল্লীর অবস্থান। বিগত ৩ বছর আগ থেকে এখানে বসবাস করছে তারা। তাদের জীবনযাপনের করুণ চিত্র এখানে আশ্রয় নিয়েছে বেদেদের ৩০টি পরিবার করোনা পরিস্থিতিতে দু’চোখে অন্ধকার দেখছে এসব বেদেরা। রোজগারের সকল পথও বন্ধ। এখন খেয়ে না খেয়ে দিন পার করছে নারী ও শিশুসহ বেদে পরিবার।

আজ দুপুরে বেদে পল্লীর পাশ দিয়ে যাচ্ছিলাম। উক্ত প্রতিবেদককে দেখে বেদে পল্লীর বৃদ্ধ নারী-পুরুষ ছোট ছোট শিশু সবাই দোঁড়ে এসে আমাকে গিরে ধরে দু’হাত পেতে বলেন ভাইয়া আমাদের খাদ্য দেন আমরা এখানে ৩০ পরিবার আছি। তাদের এই অসহায়ত্ব,অভাব অনটনের আত্বচিৎকার দেখে আমার চোখের পানি ধরে রাখতে পারলাম না।

আমি সকলকে শান্ত হতে বললাম। পরে বেদে সম্প্রদায়ের সরদার আবুল কালাম আমার হাত ধরে একটি দোকানে নিয়ে বসান। তারা প্রথমে আমার পরিচয় জানতে চাইলো। আমার পরিচয় দিয়ে তাদের দু:খের কথা জানতে চাইলাম। বৃদ্ধ বলেন আমি দীর্ঘদিন অসুস্থ টাকার অভাবে চিকিৎসা করতে পারছি না। কেউ সাহায্য সহযোগিতা করছে না।

আজ বেশ কয়েকদিন আমরা না খেয়ে মরতে বসেছি। আমাদের বেদে পল্লীতে সবাই বেকার কোন কর্ম নেই। আমরা ভাসমান মানুষ। কয়েকদিন পর পর এক জায়গা থেকে অন্য জায়গায় গিয়ে জীবিকা নির্বাহ করি। পথেই থাকতে হয় স্ত্রী সন্তান নিয়ে। এ পর্যন্ত কোন এমপি, জেলা প্রশাসক, চেয়ারম্যান ,মেম্বার কেউ খবর নেয়নি, সহযোগিতা ও করছেনা।

রাবেয়া বেগম , শিরিনা আক্তার, সকিনা ও রোকেয়া আত্তার বলেন আজ ৫ দিন ধরে আমরা ভাত রান্না করি নাই। আমাদের ছেলে মেয়েরা না খেয়ে মরতে বসেছে।
আমাদের জায়গা জমি ঘর বাড়ি কিছুই নেই। আমরা কি করে খাব। এখন কাজ কর্ম নেই। সবাই বেকার এই দুর্দিনে কেউতো আমাদের খবর নিতে আসছে না আমরা কি মানুষ না। আমরা কেন সহযোগিতা পাব না।

বেদে মুন্নি বেগম বলেন, ‘করোনা পরিস্থিতিতে সরকার যা বলছেন আমরা সব মেনে চলার চেষ্টা করছি। কিন্ত তিন-চার দিন ধরে চাল ফুরিয়ে গেছে। কি করব জানিনা। একদিকে পেটে তো খিদা আছেই। তারপরে ছোট বাচ্চারা যখন খাবারের জন্য কাঁদে তখন চোখের পানি ধরে রাখতে পারি না। যে করে হোক আমাদের খাবারের ব্যবস্থা করুন বলে কান্নায় ভেঙ্গে পড়েন এই নারী।

আশুগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী মো.নাজিমুল হায়দার জানান, উপজেলার বেদে সম্প্রদায়ে পরিবার গুলোতে গত দুই দিন ধরে খাবারের অভাবে চুলা জ্বলছে না এমন সংবাদ পেয়ে তাৎক্ষনিক খাদ্য সামগ্রী নিয়ে তাদের কাছে হাজির হই। এসময় তাদের প্রতিটি পরিবারের মাঝে আমি নিজে এ খাদ্য সামগ্রী তুলে দেই এসময় যারা দিনমজুর কর্মহীন হয়ে পরেছেন, তাদের খাদ্য  বাড়ি বাড়ি গিয়ে পৌঁছে দেওয়া হচ্ছে।

আশুগঞ্জ উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান মো.হানিফ মুন্সি, জানান, বেদে পল্লীতে একবার খাদ্যসামগ্রী দেওয়া হয়েছে। খোঁজ নিয়ে দেখব যদি পুনরায় তাদের খাবার প্রয়োজন হয়, তাহলে তাদেরকে প্রয়োজনীয় খাদ্যসামগ্রী পৌঁছে দেওয়া হবে।

তবে প্রশাসন থেকে কিংবা স্বেচ্ছাসেবী সংগঠনের পক্ষ থেকে খাদ্যদ্রব্য পৌঁছাবে সেই আশাতেই তাকিয়ে এলাকাবাসী।


সিএনআই’র প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।