বুধবার, ২৭শে মে, ২০২০ ইং

ধস বড় উৎসের আমদানিতে

প্রকাশিত: ৮:২৮ পূর্বাহ্ণ , মে ৩, ২০২০

ধস বড় উৎসের আমদানিতে

হারুন-অর-রশিদ: তৈরি পোশাকসহ রপ্তানিমুখী শিল্প খাত ও স্থানীয় শিল্প খাতের কাঁচামাল আমদানি করতে হয় বিভিন্ন দেশ থেকে। এর বাইরে বিভিন্ন খাদ্যপণ্য আমদানি করা হয়। এসব আমদানির দ্বিতীয় সর্বোচ্চ উৎস ভারত। কিন্তু ভারতসহ অঞ্চলের নয়টি দেশের সঙ্গে বাংলাদেশের আমদানি অর্ধেকে নেমে এসেছে। এ নয়টি দেশের আমদানি বিল পরিশোধ করা হয় এশিয়ান ক্লিয়ারিং হাউসের (আকু) মাধ্যমে। সেই আকুর বিল ৪৮ শতাংশ কমে গেছে।

মার্চ এপ্রিল এই দুই মাসে বিল এসেছে মাত্র ৮৫ কোটি ডলার। গত এক যুগের মধ্যে সর্বনিম্ন। এই আমদানি কমে যাওয়া বৈদেশিক মুদ্রার চাপ কমাতে সহায়ক হলেও স্থানীয় বাজারে বিভিন্ন খাদ্যপণ্য সরবরাহ সংকট এবং শিল্পের কাঁচামালের সংকট দেখা দিতে পারে বলে আশঙ্কা সংশ্লিষ্টদের।

জানা গেছে, বাংলাদেশ, ভুটান, ভারত, ইরান, মিয়ানমার, নেপাল, পাকিস্তান, শ্রীলংকা ও মালদ্বীপ- এই নয়টি দেশ বর্তমানে আকুর সদস্য। এই দেশগুলো থেকে বাংলাদেশ যেসব পণ্য আমদানি করে তার বিল দুই মাস পরপর আকুর মাধ্যমে পরিশোধ করা হয়ে থাকে। বাংলাদেশ সর্বশেষ গত মার্চ মাসের প্রথম সপ্তাহে জানুয়ারি-ফেব্রুয়ারি মেয়াদের আকুর বিল পরিশোধ করেছে। চলতি মে মাসের প্রথম সপ্তাহে মার্চ ও এপ্রিল মেয়াদের আকুর বিল পরিশোধ করতে হবে।

বাংলাদেশ ব্যাংক সূত্র জানায়, মার্চ এপ্রিলে বাংলাদেশের আকুর বিল এসেছে ৮৫ কোটি ডলার। ২০০৮ সালের পর আর কখনো আকুর বিল এত কম আসেনি বলে বাংলাদেশ ব্যাংক সূত্রে জানা গেছে। আগের বছরের একই মাসে এ বিল ছিল ১২৪ কোটি ডলার। আকুর বিল কমেছে ৪৮ শতাংশ। আর জানুয়ারি ফেব্রুয়ারি এ দু মাসে বাংলাদেশ আকুর বিল দেয় ১১৫ কোটি ডলার। অর্থাৎ আগের মাসের তুলনায় আকুর বিল কমেছে ৪৩ শতাংশ। করোনা সংক্রমণের কারণে এ অবস্থা তৈরি হয়েছে বলে জানান সংশ্লিষ্টরা।

উল্লেখ্য, জানুয়ারির শুরুতে চীনে কোনো সংক্রমণ ধরা পড়ে। মার্চ থেকে তা এখন সারাবিশ্বে ব্যাপক হারে ছড়িয়ে পড়েছে। করোনা সংক্রমণ এড়াতে বিশ্বের দেশগুলো সব ধরনের যোগাযোগ নিষিদ্ধ করেছে। এ জন্য পৃথিবীর সব দেশের আমদানি-রপ্তানি কমে গেছে।

বেসরকারি গবেষণা প্রতিষ্ঠান সেন্টার ফর পলিসি ডায়ালগের (সিপিডি) গবেষণা পরিচালক খন্দকার গোলাম মোয়াজ্জেম বলেন, করোনা সংক্রমণের কারণে অর্থনৈতিক কর্মকা- স্থবির হয়ে পড়ায় আমদানিতে বড় ধরনের আঘাত এসেছে। আকুর বিল কমে যাওয়ার মূল কারণ ভারত থেকে আমদানি কমে যাওয়া। অর্থাৎ ভারত থেকে খাদ্য ও শিল্পের কাঁচামাল আমদানি কমে গেছে। এর প্রভাবে খাদ্য সরবরাহ সংকট দেখা দিতে পারে; হতে পারে শিল্পের কাঁচামালের সংকট।

তবে আমদানি কমে যাওয়া এ মুহূর্তে স্বস্তিদায়ক। এখন রপ্তানি কম, রেমিট্যান্স আসছে কম। আমদানি কম থাকায় বৈদেশিক মুদ্রার চাপ সৃষ্টি হবে না। ফলে রিজার্ভ স্বস্তিদায়ক অবস্থায় রয়েছে। তবে আমদানি-রপ্তানি বাণিজ্য এখন যে নিম্নপর্যায় রয়েছে তার থেকে স্বাভাবিক অবস্থায় ফিরে আসতে হবে।

বাংলাদেশ ব্যাংক সূত্র জানায়, আকুর বিলের প্রায় ৯৫ শতাংশ ভারতের। সামান্য কিছু বিল আছে শ্রীলংকা ও নেপালের। বাণিজ্যিক ব্যাংকগুলোর পক্ষে বাংলাদেশ ব্যাংক ভারতের কেন্দ্রীয় ব্যাংকের মাধ্যমে পরিশোধ করে।

গত বৃহস্পতিবার বাংলাদেশ ব্যাংকের বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ বেড়ে দাঁড়ায় ৩৩ বিলিয়ন ডলার (৩ হাজার ৩১৩ কোটি ডলার)। হঠাৎ রিজার্ভ বাড়ার কারণ হচ্ছে এডিবি বিশ্বব্যাংক আইএমএফ থেকে বাংলাদেশ কিছু ঋণ পেয়েছে। চলতি সপ্তাহে বাংলাদেশকে আকুর বিল এবং সরকারের বৈদেশিক ঋণ পরিশোধ করতে হবে। এই ঋণের পরিমাণ ১৮ কোটি ৫০ লাখ ডলার। এগুলো পরিশোধ করার পর বাংলাদেশ ব্যাংকের রিজার্ভ ফের ৩২ বিলিয়ন ডলারের নেমে আসবে।

উল্লেখ্য, বাংলাদেশ মোট আমদানির ২৬ দশমিক ১ শতাংশ করে চীন থেকে। এর পর তৃতীয় সর্বোচ্চ ১৪ দশমিক ৭ শতাংশ আমদানি করা হয় ভারত থেকে। এ ছাড়া এশিয়া এবং এই অঞ্চলের অন্য দেশগুলো থেকে সামান্য কিছু আমদানি করে বাংলাদেশ। এদিকে রপ্তানি ও রেমিট্যান্স কমে যাওয়ায় দেশের বাণিজ্যিক ব্যাংকগুলোয় ডলার সংকট দেখা দিয়েছে। এখন যেসব আমদানিকারক আমদানি বিল পরিশোধ করছেন তাদের কাছ থেকে ডলারের দাম আগের তুলনায় বেশি রাখছে বাণিজ্যিক ব্যাংকগুলো। তারা বলছে তাদের কাছে ডলার নেই কেন্দ্রীয় ব্যাংকের কাছ থেকে ডলার কিনে আমদানি ব্যয় পরিশোধ করছে। করানোর সময় ডলার বিক্রি অব্যাহত রেখেছে কেন্দ্রীয় ব্যাংক। গত বৃহস্পতিবার তিন কোটি ৭০ লাখ ডলার বিক্রি করা হয়েছে। সব মিলিয়ে চলতি অর্থবছরে এখন পর্যন্ত প্রায় ৭৬ কোটি ডলার বিক্রি করেছে বাংলাদেশ ব্যাংক।


সিএনআই’র প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।