বুধবার, ২৭শে মে, ২০২০ ইং

লকডাউনে পুঁজি হারিয়ে পথে বসার আশঙ্কায় পঞ্চগড়ের ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীরা

প্রকাশিত: ১২:৫৬ অপরাহ্ণ , মে ৪, ২০২০

লকডাউনে পুঁজি হারিয়ে পথে বসার আশঙ্কায় পঞ্চগড়ের ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীরা
পঞ্চগড়  প্রতিনিধি: দেশে করোনাভাইরাস আতঙ্কে সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে ক্ষুদ্র ও ভ্রাম্যমাণ ব্যবসায়ী এবং নিম্ন আয়ের মানুষ। বৈশ্বিক মহামারি করোনা ভাইরাসের প্রভাবে  দেশে এর মোকাবেলায়   সরকার ঘোষিত জেলায় জেলায় লকডাউন, এর থেকে বাদ পড়েনি উত্তরের সর্বশেষ জেলা পঞ্চগড়ও।
পঞ্চগড়ের  ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীদের মতে, ঈদ-উৎসব হচ্ছে না, দোকানপাট বন্ধ ফলে অন্যান্য বছরের ন্যায় এ বছর জমজমাট কিছু নেই। সব ফাঁকা সর্বত্রই সুনসান নীরবতা। করোনার প্রভাবে এবার বদলে গেছে সেই চিত্র। ফোন না-ধরা দোকানিরা এবার বাড়িতে বসে হিসাব কষছেন লোকসানের। লকডাউনে শপিং মল থেকে শুরু করে ফুটপাতের সব দোকান বন্ধ।
ঈদ-উৎসব ঘিরে এ বছর মাথায় হাত পড়েছে পঞ্চগড়ে হাজার হাজার ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীর। ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীরা বর্তমানে পুঁজি হারানোর পথে। ব্যবসায়ীরা জানান এভাবে আর কিছুদিন চললে তাদের পুঁজি হারিয়ে পথে বসতে হবে।
করোনাভাইরাস দেশে কত দিন থাকবে,আর কত দিন ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীদের ব্যবসা বন্ধ থাকবে সেটার ওপর নির্ভর করছে বস্ত্র, গার্মেন্টস, সু- ও কসমেটিকস পণ্যের দোকানগুলো বড়ো ধরনের আর্থিক সংকটের মুখে পড়তে যাচ্ছে।
বাবলা হোসিয়ারী এন্ড গার্মেন্টস এর প্রোপাইটর  আনোয়ার হোসেন বাবলা, কাপড়ের ব্যবসা আমাদের রমযান মাস একমাস ব্যবসা করব  এগারো মাস ঘর ভাড়া ও শ্রমিকের বেতন দিয়ে সংসার চালাবো।  আসছে ঈদ-উৎসব দোকান বন্ধ থাকছে। দিতে হচ্ছে ঘর ভাড়া ও শ্রমিকের বেতন । করোনা ভাইরাসের প্রভাব দীর্ঘদিন থাকলে  এর ফলে বড়ো আকারের আর্থিক ক্ষতির মুখে পড়ে ব্যবসা টিকিয়ে রাখা সম্ভব হবে না বলে জানান তিনি।
কথা হয় ফুটপাতে চা বিক্রি করা আব্দুল গনির সাথে তিনি বলেন, চা বিক্রি করেই আমার সংসার চলতো করোনা পরিস্থিতিতে কিছু দিন ধরে দোকান বন্ধ। সরকারের ত্রান সহায়তা ১০ কেজি চাল পেয়েছি ৬ সদস্যের সংসার কয়দিন যায় ওই চাল । সামনে ঈদ-উৎসব ভেবে পাচ্ছিনা কিভাবে কি করব খাবারও শেষ।
বস্ত্র বিতানের কর্মরত আমিরুল ইসলাম বলেন, করোনায়  মাসব্যাপী দোকান বন্ধ বেতন দিবে বলে মনে হয় না মালিক পক্ষ। অভাব অনটনে দিনযাপন করছি।
ঈদ-উৎসবে এক থেকে দুই মাস আগেই ধার দেনা করে বিনিয়োগ করেছেন ব্যবসায়ীরা। করোনাভাইরাসের প্রার্দুভাব এভাবে ছড়িয়ে পড়বে তা ভাবতেই পারেননি। এসব পণ্য এখন বিক্রি করতে পারছেন না। ঈদ-উৎসব পার হলে পণ্যে গুলোর চাহিদাও থাকবে না। তাই পঞ্চগড়ে প্রায় হাজারও অধিক ক্ষুদ্র বিনিয়োগকারীকে বইতে হবে লোকশানের বোঝা। সরকার ঘোষিত প্রণোদন ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীরা পাবে কি না তা নিয়েও দু:চিন্তায়।
পঞ্চগড় বস্ত্র ব্যবসায়ী মালিক সমিতির সভাপতি শহিদুল ইসলাম খান বলেন,অন্যান্য দোকানের ন্যায় সামাজিক দুরত্ব বজায় রেখে সরকার যদি আমাদের কোথাও দোকান করার জন্য সুযোগ করে দেয় তাহলে হয়ত শ্রমিকদের নিয়ে আমরা দু,বেলা দু,মুঠো খেয়ে লোকসানের বোঝাটা কমিয়ে আনতে পারব।


সিএনআই’র প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।