বুধবার, ২৭শে মে, ২০২০ ইং

বাবাকে বাঁচাতে জবি শিক্ষার্থীর করুণ আকুতি!

প্রকাশিত: ১২:১০ অপরাহ্ণ , মে ৬, ২০২০

বাবাকে বাঁচাতে জবি শিক্ষার্থীর করুণ আকুতি!
জবি প্রতিনিধিঃ জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় (জবি) এর দর্শন বিভাগের চতুর্থ বর্ষের শিক্ষার্থী ফরহাদ রেজার বাবা রাশেদুল ইসলাম দীর্ঘদিন যাবৎ টিউমার ক্যান্সারে আক্রান্ত রয়েছেন। তার বাবার অপারেশন ও চিকিৎসার জন্য প্রায় ৪ লক্ষ টাকা প্রয়োজন।
পারিবারিক সূত্রে জানা যায়, ফরহাদ রেজা ঢাকায় টিউশনি করে চলেন। তার ছোট বোন গ্রামীণ ব্যাংকের ঋণের টাকায় নার্সিং এ ২য় বর্ষে আরেকজন অষ্টম শ্রেণিতে পড়েন। কুড়িগ্রাম জেলার চিলমারি উপজেলার নয়ারহাট ইউনিয়নের চর ক্ষেদাইমারিতে তার গ্রামের বাড়ি। তারা নিজেদের খরচে পড়াশুনা করে। তাদের বাবা সংসার চালান। আর এখন তার এ অবস্থায় দুশ্চিন্তায় পড়ে গেছে ফরহাদ সহ তার পুরো পরিবার।
ফরহাদ রেজার সাথে কথা বলে জানা যায়, তার বাবা রাশেদুল ইসলাম এ বছরের জানুয়ারি মাস থেকেই অসুস্থ ছিলেন। এলাকায় চিকিৎসা দেয়ার পরও সুস্থ না হওয়ায় ফরহাদ ঢাকা থেকে বাড়িতে গিয়ে তাকে রংপুরে এক মাস মেয়াদি চিকিৎসা চালায়। সেখানেও তার অবস্থার উন্নতি না দেখে মার্চ মাসের ৬ তারিখ উনাকে ঢাকা নিয়ে আসা হয়। ঢাকা মেডিকেল, মিডফোর্টসহ বেশ কয়েকটি হাসপাতালে চিকিৎসা নিয়েও কোনো ফলাফল পাওয়া যায় নি। তারপর সাহেব বাজার
পপুলার ব্রাঞ্চে ফরহাদের বাবার টিউমার ধরা পড়ে। মার্চ মাসের ২৩ তারিখ তার অপারেশন করানো হয়। অপারেশনের পর টেস্টেও অনেক টাকা খরচ করতে হয়। এপ্রিলের ৭ তারিখ মহাখালী হাসপাতালে ভর্তির কথা থাকলেও করোনার জন্য তা সম্ভব হয় নি। অবস্থার অবনতি ঘটলে সিরাজগঞ্জের এনায়েতপুরে খাজা ইউনুস আলি মেডিকেলে উনাকে ভর্তি করানো হয়। বর্তমানে তিনি সেখানে চিকিৎসাধীন রয়েছেন। ব্রহ্মপূত্রের চরে শেষ সম্বল ১০ কাঠা জমি ১ লক্ষ টাকা বিক্রি করে চিকিৎসার জন্য নিয়ে আসে। ইতিমধ্যে ৪৫ হাজার টাকার মতো খরচ হয়ে গেছে। এর আগে বাড়িতে গরু বিক্রি করে ও ধার দেনা করে ৭০ হাজার টাকার মতো জোগাড় করা হয়েছিলো।
ফরহাদ রেজা তার বাবাকে বাঁচাতে সকলের কাছে অনুরোধ করে বলেন, অভাবের সংসারে বাবার চিকিৎসার জন্য বাড়ির শেষ সম্বলটুকু ও বিক্রি করে দিয়েছি। বাবার অপারেশন, কেমোথেরাপি, ঔষধ ও অন্যান্য চিকিৎসার জন্য প্রায় ৪ লক্ষ টাকা প্রয়োজন।আমি আপনাদের কাছে আমার বাবার চিকিৎসার জন্য সাহায্য চাই। আপনারা সকলে সহযোগিতা করলে আমি আমার বাবাকে আবার বাবা বলে ডাকতে পারবো। আমার বাবার কিছু হয়ে আমাকে আমার পরিবারের হাল ধরতে হবে। আমার ও আমার বোনের পড়াশোনা বন্ধ হয়ে যাবে। এমতাবস্থায় জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের মাননীয় উপাচার্য মহোদয় ও সমাজের বিত্তশালীদের সাহায্য ছাড়া বাবার চিকিৎসা করানো সম্ভব না। এখন আপনাদের সাহায্যই আমার বাবার চিকিৎসার শেষ ভরসা।


সিএনআই’র প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।