বুধবার, ২৭শে মে, ২০২০ ইং

বিনিয়োগ খরা কাটাতে কয়েক দফা সুপারিশ

প্রকাশিত: ১২:৪০ অপরাহ্ণ , মে ১১, ২০২০

বিনিয়োগ খরা কাটাতে কয়েক দফা সুপারিশ

সিএনআই ডেস্কঃ করোনাকালীন ও পরবর্তী সময়ে দেশে উদ্যোক্তাদের বিনিয়োগে আকৃষ্ট করতে ব্যবসাবান্ধব ভ্যাট-ট্যাক্স প্রণয়নের পাশাপাশি শিল্পকারখানায় ব্যবহৃত বিদ্যুৎ-গ্যাস-পানির দাম কমানোসহ ১৪ দফা সুপারিশ অর্থ মন্ত্রণালয়ে দিয়েছে বাংলাদেশ বিনিয়োগ উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ (বিডা)।

সম্প্রতি বিডা’র পরিচালক মো. আরিফুল হক স্বাক্ষরিত এ সংক্রান্ত একটি সুপারিশমালা অর্থ মন্ত্রণালয়ের অর্থসচিব আব্দুর রউফ তালুকদারের নিকট পাঠানো হয়েছে। বিডার এসব সুপারিশ অর্থ মন্ত্রণালয় পর্যালোচনা করেছে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে।

সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন, ২০১৯ সালে বিশ্বে করোনাভাইরাসের কোনো প্রভাব ছিল না। তারপরও দেশে বিদেশিদের বিনিয়োগ কমেছে। গত বছর দেশে মোট বিদেশি বিনিয়োগ এসেছে ৩৪০ কোটি মার্কিন ডলার, যা আগের বছরের চেয়ে ৬ শতাংশের মতো কম। একইসঙ্গে দেশে স্থানীয় বিনিয়োগও ভালো নয়। এর ওপর এসেছে করোনাভাইরাসের মরণ কামড়। ফলে আগামীতে বিনিয়োগ ভয়াবহ আকারে কমার আশঙ্কা রয়েছে। বিনিয়োগ না হলে কমবে কর্মসংস্থান, বাড়বে বেকারত্ব। তাই আগামীতে দেশে বিনিয়োগ খরা কিছুটা কাটাতে এসব সুপারিশ করেছে বিড়া।

করোনাকালে ও পরবর্তী সময়ে ব্যবসা-বাণিজ্যে গতি ফেরাতে সরকারকে একটি উচ্চক্ষমতা সম্পন্ন টাস্কফোর্স গঠন করতে হবে। এ টাস্কফোর্স সঙ্কট নিরসনে কি কি পদক্ষেপ গ্রহণ করা যায়, সে বিষয়ে উদ্যোগ গ্রহণ করবে। সব সেক্টর বিশেষ করে গুরুত্বপূর্ণ সেক্টরের জন্য বিদেশি ঋণ গ্রহণের পথ সহজ করা যেতে পারে। বহির্বিশ্বের ঋণদাতাদের কাছ থেকে ঋণের ব্যবস্থা করা যেতে পারে। আমদানি কমানোর জন্য অতি প্রয়োজনীয় পণ্য উৎপাদনে দরকারি কাঁচামাল দেশে উৎপাদনের উদ্যোগ গ্রহণ করতে হবে। মাসিক ভ্যাট প্রদানের সময়সীমা বাড়ানো যেতে পারে।

ইনকাম ট্যাক্স অর্ডিন্যান্স ১৯৮৪ অনুযায়ী ৬০ দিনের মধ্যে ট্যাক্স প্রদানের যে বিধিমালা রয়েছে সেটা শিথিল করা যেতে পারে। ওয়ার্কার্স প্রফিট পার্টিসিপেশন ফান্ড (ডব্লিউপিপিএফ) এবং প্রভিডেন্ট ফান্ড (পিএফ) স্থগিত রাখা যেতে পারে। ব্যবসাবান্ধব ভ্যাট ও ট্যাক্স ব্যবস্থা প্রবর্তনের পাশাপাশি ব্যবসায়ীদের ব্যাংক অ্যাকাউন্ট ফ্রিজ বা ক্লোজিং বিষয়ে ছাড় দেয়া যেতে পারে। অনাবাসিক বাসিন্দা বা ব্যক্তিদের কর অব্যাহতি দেয়া যেতে পারে। কোনো ব্যবসা প্রতিষ্ঠান নিবন্ধনে বিডা থেকে যেসব ফি আরোপ করা হয়, সেগুলো মহামারিকালীন সময়ে ছাড় দেয়া যেতে পারে। করোনাকালীন সময়ে বন্দরের চার্জ দেয়ার সময় বাড়ানো যেতে পারে।

বিনিয়োগ ক্ষেত্রে প্রয়োজনীয় ডকুমেন্ট জমাদানের সময় বাড়ানো যেতে পারে। শিল্পকারখানায় ব্যবহৃত বিদ্যুৎ-গ্যাস-পানির দাম কমানো কিংবা অন্ততপক্ষে বিল পরিশোধে সময়সীমা বাড়ানো যেতে পারে। নির্ধারিত কিছু কোম্পানির কাছ থেকে সংবিধিবদ্ধ ডকুমেন্ট জমাদানের সময়সীমা বাড়ানো যেতে পারে। কিন্তু দেরিতে জমা দিলে সেক্ষেত্রে কোনোরকম জরিমানা আদায় করা যাবে না।


সিএনআই’র প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।