শনিবার, ৩০শে মে, ২০২০ ইং

‘আমাগো গ্রাম পুলিশের কথা কেউ তো লেখেনা’

প্রকাশিত: ১১:২১ পূর্বাহ্ণ , মে ১২, ২০২০

‘আমাগো গ্রাম পুলিশের কথা কেউ তো লেখেনা’

কাউখালী প্রতিনিধি: আমরা রাইত দিন করোনা ঠেকাইতে মাঠে কাম করছি। আমাগো জীবনের তো নিরাপত্তা নাই । আমাগো জীবন রক্ষার কোনও উপকরণ নাই। হেরপর লকডাইনে আমরাও অভাবে আছি। আমাগো গ্রাম পুলিশের কথা কেউ তো লেখেনা। পিরোজপুরের কাউখালীতে করোনা সংকটে মাঠ পর্যায়ে  কর্মরত  করোনা যোদ্ধা গ্রাম পুলিশ পঞ্চাশোর্ধ বয়সি আব্দুল মান্নান এমন আক্ষেপের কথা বলেন।

প্রাণঘাতী করোনা ভাইরাসের বিস্তার রোধে পিরোজপুরের কাউখালী উপজেলা প্রশাসন ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সাথে কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে অবিরাম কাজ করে যাচ্ছেন উপজেলার ৪৯জন গ্রাম পুলিশ সদস্য। একদিকে লকডাইনে পরিবারে অভাব আর অন্যদিকে জীবনের ঝুঁকি নিয়ে করোনা সংকটের শুরু থেকে মাঠে নিবেদিত হয়ে কাজ করছেন এসব গ্রাম পুলিশ সদস্যরা।

জানাগেছে, ঢাকা, নারায়ণগঞ্জ সহ দেশের বিভিন্ন জেলা ও বিদেশ থেকে আগত ব্যক্তিদের খুঁজে বের করে তালিকা তৈরি ও তাদের হোম কোয়ারেন্টাইন নিশ্চিত করার পাশাপাশি প্রতিষ্ঠানিক কোয়ারেন্টাইনে রাখা ব্যক্তিদের নজরদারি, সামাজিক দুরত্ব সম্পর্কে সচেতন করা সহ অন্যান্য সেবা প্রদানে নিয়োজিত রয়েছে গ্রাম পুলিশ সদস্যরা। এছাড়া সন্ধ্যায় বিভিন্ন অলিতে-গলিতে, মোড়ে- মোড়ে দোকান পাট বন্ধ রাখা ও বাজারে লোকজনের ভিড় কমাতে যেমন কাজ করছে তেমনি জিআর, ভিজিডি, ভিজিএফ সহ বিভিন্ন ত্রাণ বিতরণ কার্যক্রম যেগুলোতে প্রচুর পরিমানে ভিড় হয় সেখানেও দায়িত্ব পালন করছে। পর্যাপ্ত সুরক্ষা উপকরণ ছাড়া এসব দায়িত্ব পালন করার কারণে গ্রাম পুলিশ সদস্যরা অন্যদের তুলনায় অধিক পরিমাণে করোনা আক্রান্তের ঝুঁকিতে রয়েছে। উপজেলায় কর্মরত আছেন মোট ৪৯ জন গ্রাম পুলিশ।

বাংলাদেশ গ্রাম পুলিশ বাহিনী কর্মচারী ইউনিয়ন পিরোজপুর জেলার সভাপতি দফাদার আঃ মান্নান জানান, করোনা বিস্তার রোধে আমরা মাঠ পর্যায়ে কাজ করছি। আমাদের কোনো সুরক্ষা উপকরণ নেই। সামান্য বেতনে চাকরি করি করোনা আক্রান্ত হলে পরিবারের কি হবে সৃষ্টিকর্তাই ভালো জানেন? করোনা ভাইরাসের বিস্তার রোধে আমরা মাঠ পর্যায়ে কাজ করছি, গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকারের মাননীয় প্রধানমন্ত্রী জননেত্রী শেখ হাসিনার কাছে আকুল আবেদন করছি সারা বাংলাদেশের ৪৭ হাজার গ্রাম পুলিশের ৬ হাজার ৫শত এবং ৭ হাজার টাকা বেতন নির্ধারণ থাকলেও ইউপি অংশের অর্ধেক বেতনের টাকা করোনা ভাইরাসের কারণে দেশের বিভিন্ন উপজেলায় ৮মাস পর্যন্ত বকেয়া রয়েছে। যাহা ১% পরিবর্তে ২% নির্ধারণ করে বেতন পরিশোধের জন্য অনুরোধ করছি এবং আগামী জাতীয় বাজেটে গ্রাম পুলিশ বাহিনীকে ৪র্থ শ্রেণীর কর্মচারী হিসেবে অর্ন্তভূক্ত করা হয়।
উধ্বর্তন কর্তৃপক্ষের নিকট আমাদের আবেদন গ্রাম পুলিশদের জন্য যেন সুরক্ষা উপকরণ সহ ঝুঁকি ভাতা, স্বাস্থ্য বীমা ও প্রণোদনার ব্যবস্থা করা হয়।


সিএনআই’র প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।