বুধবার, ২৭শে মে, ২০২০ ইং

মাশরাফি তামিমদের দেয়া ত্রাণ ছিনতাই!

প্রকাশিত: ১১:০৬ অপরাহ্ণ , মে ১৪, ২০২০

মাশরাফি তামিমদের দেয়া ত্রাণ ছিনতাই!

সিএনআই ডেস্ক: বাংলাদেশ জাতীয় ক্রিকেট দলের খেলোয়াড় মাশরাফি, রিয়াদ, তামিম ও মুশফিকের টাকায় কেনা ত্রাণ ছিনতাই ও হামলার ঘটনায় মামলা হলেও এখন পর্যন্ত কাউকে গ্রেফতার করতে পারেনি ময়মনসিংহের গফরগাঁও পুলিশ। এ ঘটনায় ক্ষোভ জানিয়ে দ্রুত অপরাধীদের আইনের আওতায় আনার দাবি জানিয়েছেন বাংলাদেশ টি-২০ দলের অধিনায়ক মাহমুদুল্লাহ রিয়াদ। বাংলাদেশ জাতীয় ক্রিকেট দলের টিম বয় নাসির মিয়া বলেন, করোনা দুর্যোগে মাশরাফি, রিয়াদ, তামিম ও মুশফিকের সহযোগিতায় তার নিজ গ্রাম বাঙ্গালকান্দি ও পার্শ্ববর্তী সৈয়দপাড়ায় ২০০ পরিবারের মাঝে ত্রাণ দেওয়ার উদ্যোগ নেন গত ৪ মে। বাঙ্গালকান্দি গ্রামে কিছু মানুষকে ত্রাণ দিয়ে সৈয়দপাড়ায় ত্রাণ দিতে গেলে ছিনতাই ও হামলার ঘটনা ঘটে। হামলায় তিনি ও তার বড় ভাই বাবুলসহ বেশ কয়েকজন আহত হয়।

তিনি আরও বলেন, লংগাইর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান আব্দুল্লাহ আল-আমিন বিপ্লবের অনুমতি না নিয়ে ত্রাণ দেওয়ায় চেয়ারম্যানের লোক রফিক, আপন, খাইরুল, রুবেল ও রাব্বিসহ ৮-১০জন তাদের উপর হামলা করে ৪৫ প্যাকেট ত্রাণ ছিনিয়ে নিয়ে যায়। তারা হুমকী দেয় চেয়ারম্যানের অনুমতি ছাড়া ভবিষ্যতে ইউনিয়নে কোন কাজ করলে আরো পস্তাতে হবে।

এঘটনায় থানায় মামলা করতে গিয়েও ভোগান্তি পোহাতে হয় নাসিরকে। তিনি জানান, থানায় অভিযোগ করতে ওসি শাহিনুজ্জামান খান তাকে জায়ামাত শিবির বলে রুম থেকে বের করে দেয়। পরে তিনি বিষয়টি মাশরাফি এবং রিয়াদকে অবহিত করলে ঘটনার ৪ দিনপর ৮ মে মামলা নেয় পুলিশ। তবে আসামীরা বাড়িতে থাকলেও পুলিশ তাদেরকে ধরছেনা বলে অভিযোগ নাসিরের। উল্টো মামলা তুলে নিতে হুমকী দিচ্ছে।

নাসিরের বড় ভাই বাবুল মিয়া বলেন, হামলায় আহত হয়ে তিনি ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসা নিয়েছেন। হামলা ও ছিনতাইয়ের ঘটনায় মামলা করায় তাদের উপর ছাগল ছুরির অভিযোগ দেয়া হয়েছে। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে তা প্রকাশ করে মানহানি ঘটাচ্ছে চেয়ারম্যানের লোকজন।

নাসিরের আরেক বড় আলতাফ হোসেন বলেন, প্রথমে পাগলা থানার ওসি স্যার আমাদের সাথে খুব খারাপ ব্যাবহার করছে। পরে মাশরাফি ভাইয়ের সহযোগিতায় মামলা হয়েছে। রফিক, আপন, খাইরুল, রুবেল ও রাব্বি আমাদের হুমকী দিচ্ছে মামলা তুলে নিতে। অন্যথায় আমাদের নামে ছাগল চুরির মামলা করবে বলে হুমকী দিচ্ছে। ছোট ভাই নাসির আসছিল বাড়িতে করোনার জন্যে কয়েকদিন থাকবে বলে, কিন্তু তাদের হুমকীতে প্রাণ নাশের ভয়ে নাসির ঢাকায় চলে গেছে। এবিষয়ে থানায় জানালেও তারা কোন ব্যবস্থা নেয়নি।

স্থানীয় মুক্তিযোদ্ধা আকবর আলী বলেন, নাসির হচ্ছে আমাদের এলাকার গর্ব। তারা আমরা সবাই সম্মান করি। সে করোনা দুর্যোগে মানুষকে সহযোগিতা করতে ছেয়েছিল। বিনিময়ে আমরা তাকে অসম্মান করেছি যা মোটেও কাম্য নয়। যারা ত্রাণ ছিনতাই করে হামলা চালিয়েছে, তাদের নামে একাধিক মামলা রয়েছে। তারা সবসময় ক্ষমতাশীল দলের লোকজনের হয়ে কাজ করে। এখন তারা বিপ্লব চেয়ারম্যানের লোক। চেয়ারম্যানের ইশারায় এই কাজটি হয়েছে। আমরা এর সুষ্ঠ বিচার দাবি করছি।
ফরিদপুর গ্রামের আবুল হোসেন, খাজা গ্রামের ফরিদুর বলেন, নাসির ত্রাণ দিবে বলে শুনে তারা খুবই খুশি হয়েছিল। কিন্তু ত্রাণ ছিনতাই এবং হামলার ঘটনা তাদেরকে ব্যতিত করেছে। যারাই এর সাথে জড়িত থাকুক না কেন তাদের বিচার দাবি করেছেন তারা।

লংগাইর ইউনিয়ন পরিষদের ৩ নম্বর ওয়ার্ডের সদস্য মাহবুব আলম বলেন, সন্ধ্যার পর ঘটনাটি ঘটেছে। যখন ত্রাণ ছিনতাই ও হাতাহাতি হচ্ছে তখন মাশরাফি, তামিম, রিয়াদ ও মুশফিকের নাম আসলে পরিস্থিতি স্বাভাবিক হয়। যে যার মতো চলে যায়।

লংগাইর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান আব্দুল্লাহ আল-আমিন বিপ্লব বলেন, ওসি কিংবা তার অনুমতি ছাড়া রাতের আধারে ত্রাণ দেয়া নিষেধ। তাই এমন হট্টগোলের ঘটনা ঘটেছে। তবে ত্রাণ দেওয়ার সময় ছাত্রদলের এক নেতা নাসিরের সাথে অংশ নেওয়ায় এমন পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছিল বলে তার দাবি। তিনি আরো বলেন, নৌকা নিয়ে বিপুল ভোটে তিনি চেয়ারম্যান হয়েছেন। তাই ইউনিয়নের অনেকেই তার লোক তথা সরকারের লোক।

পাগলা থানার ওসি শাহিনুজ্জামান খান বলেন, ত্রাণ নিয়ে হামলার ঘটনায় সরেজমিন তদন্ত করে তিনি মামলা নিয়েছেন। এখন আসামী ধরার চেষ্টা করছেন। তবে নাসিরকে তিনি জামায়াত শিবির বলেননি বলে দাবি করেন শাহিনুজ্জামান। ওসি আরো বলেন, নাসিরের ভাই বাবুলের বিরুদ্ধে ছাগল চুরির একটি অভিযোগ এসেছে সেটিও তদন্ত করে দেখা হচ্ছে। তাদের হুমকী দেয়ার বিষয়ে কোন অভিযোগ পায়নি। অভিযোগ পেলে অবশ্যই ব্যবস্থা নেয়া হবে।

ত্রাণ ছিনতাই ও নাসিরের পরিবারের উপর হামলার ঘটনায় ক্ষোভ জানিয়ে দোষীদের দ্রæত আইনের আওতায় আনার দাবি জানিয়েছেন বাংলাদেশ টি-২০ দলের অধিনায়ক মাহমুদুল্লাহ রিয়াদ। তিনি মুঠোফোনে বলেন, নাসির ২০-২২ বছর ধরে জাতীয় ক্রিকেট টীমে চাকরী করছেন। সে অত্যান্ত নম্র ভদ্র। সবার আদরের। মাহমুদুল্লাহ রিয়াদ বলেন, আমরা যখন এই দুর্যোগ মুহুর্তে মানুষের পাশে দাড়িয়ে তাদের সহযোগিতার চেষ্টা করছি। তখন কেউ কেউ আমাদের কাজে বাঁধা হয়ে দাড়াচ্ছে। এতে আমরা হতাশা হচ্ছি। নাসিরের পরিবারের উপর হামলার পরেও তাদেরকে হুমকী দেয়া হচ্ছে। যা মোটেও কাম্য নয়।


সিএনআই’র প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।