সোমবার, ২৫শে মে, ২০২০ ইং

করোনায় লিচুর বাজারজাত করা নিয়ে দুশ্চিতায় লিচুচাষীরা!

প্রকাশিত: ১১:৫৩ পূর্বাহ্ণ , মে ১৯, ২০২০

করোনায় লিচুর বাজারজাত করা নিয়ে দুশ্চিতায় লিচুচাষীরা!

দিনাজপুর প্রতিনিধিঃ  লিচু রাজ্য হিসেবে পরিচিত ও দেশব্যাপী লিচুর জন্য বিখ্যাত দিনাজপুরে দিন দিন লিচু চাষ বাড়ছে। থোকায় থোকায় লিচু গাছে লিচু ঝুলছে এরই মধ্যে কিছু লিচুতে পাকা ধরা শুরু করেছে । সারা দেশেই কমবেশি লিচু চাষ হয়ে থাকে। তবে দিনাজপুরের লিচুর কদর আলাদা। দিনাজপুরে এবার লিচুর বাম্পার ফলনের সম্ভাবনা দেখা দিয়েছে। জেলার প্রতিটি লিচুগাছে শোভা পাচ্ছে থোকায় থোকায় লিচু । আগামী ২০ থেকে ২৫ দিনের মধ্যে লিচু বাজারজাত করা হবে । তবে এ বছর করোনা পরিস্থিতির কারনে লিচু বাজারজাত করা নিয়ে চাষীরা চরম ভাবে আশঙ্খার মধ্যে রয়েছে । কাক্ষিত স্বপ্ন বাস্তবায়ন হবে কিনা এই নিয়ে চরম হতাশার মধ্যে রয়েছেন লিচু চাষী ।

এ বছর দিনাজপুর জেলায় ৬ হাজার ৫শত ৭৫ হেক্টর জমিতে লিচুর চাষ করা হয়েছে  । এক হেক্টর জমিতে ২৭৫ টি লিচু গাছ রয়েছে । সেই হিসাবে জেলায় ১৫ লক্ষাধিক লিচু গাছে লিচুর আবাদ রয়েছে । এবার লিচুর লক্ষ্যমাত্রা ধরা হয়েছে ৩০ হাজার মেঃ টন ।

এ বছর লিচুর বাম্পার ফলনও হয়েছে । তবে করোনা পরিস্থিতির কারনে এ বছর লিচুর বাজারজাত নিয়ে জেলার লিচু চাষীরা আশংখা করছেন । দিনাজপুরের লিচু যদি দেশের অন্যান্য জেলায় স্থানে পাঠানো না পারলে এই পচনশীল লিচুর বাজার নিয়ে দুচিন্তায় রয়েছেন চাষীরা । এ জেলার যেসব স্থানে লিচু চাষ হয় তার মধ্যে সদর, বিরল, বোচাগঞ্জ, কাহারোল, চিরিরবন্দর, বীরগঞ্জ, খানসামা উপজেলা বিখ্যাত। দিনাজপুরের লিচুর মধ্যে চায়না থ্রি, বেদেনা, বোম্বাই, মাদ্রাজি ও কাঁঠালি উলে­খযোগ্য। আবহাওয়া অনুকূলে থাকার কারণে এবার এসব প্রজাতির লিচুর বাম্পার ফলনের আশা করছেন চাষিরা।

দিনাজপুর মাধববাটির লিচু চাষী আব্দুল করিম বলেন, গত বছরের তুলনায় এ বছর লিচুর ভাল ফলন হয়েছে । লিচুর মুকুল আসার পর থেকেই লিচুর বাগানে পরিচর্চা অব্যাহত রেখেছি । বর্তমানে বিশ্ব ব্যাপি করোনা পরিস্থিতিতে লিচুর বাজার জাত নিয়ে দুঃচিন্তায় ঘুম আসে না । আর কয়েক দিনের মধ্যেই লিচু পাকা শুরু করবে । এই পাকা লিচু যদি বিক্রি করতে না পারি তাহলে অনেক ক্ষতির সম্মুখিন হতে হবে ।

দিনাজপুর মাসিমপুরের লিচু আব্দুর রহমান জানান , আমার তিন বিঘা জমিতে লিচুর বাগান রয়েছে । প্রতিবছর মুকুল আসার পর পরই লিচু বাগান ব্যবসায়ী ক্রয় করে নেয় । এবছর করোনা ভাইরাসের কারনে দেশের অন্যান্যা জেলায় ব্যবসায়ীরা আসতে না পারায় লিচুর বাগান বিক্রি করতে পারিনি । তাই এবছর নিজেই করেছি । লিচুর ফলনও আশানুরুপ ভাল হয়েছে । বিক্রি করা নিয়ে চিন্তায় আছি ।

দিনাজপুর সদরের লালবাগ এলাকার লিচু চাষী মোশাররফ হোসেন বলেন , করোনা পরিস্থিতির এ বছর দেশের অন্য জেলা হতে লিচু বাগান ক্রয় কারীরা না লিচুর খরচ বেড়ে গেছে । নিয়মিত স্প্রে ও সেচ দিয়েছেন। লিচু বাগান পরিচর্চাকারী নিয়োগসহ অন্যান্য খরচ দ্বিগুন হয়েছে । কি হবে লিচু বাজার নিয়ে চিন্তায় রয়েছি ।

দিনাজপুর কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর উপ পরিচালক তৌহিদুল ইকবাল বলেন , কৃষি সম্প্রসারনের পক্ষ থেকে লিচু চাষিদের নিয়মিত পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে । কীটনাশক, বালাইনাশক ব্যবহার করা উচিত সে পরামর্শও দেওয়া হচ্ছে। এ বছর করোনা পরিস্থিতিতে লিচু দাম নিয়ে দুশ্চিন্তায় রয়েছেন চাষীরা । কারন জেলায় প্রচুর লিচুর আবাদ হয়েছে ।
প্রতিবছর এই আবাদের সংখ্যা বৃদ্ধি পাচ্ছে । লিচু চাষী যাতে ক্ষতিগ্রস্থ না হয সেই দিকেও খেয়াল রেখে লিচু চাষীদেরকে কৃষি প্রনোদনা দেওয়া যেতে পারে সেই বিষয় নিয়ে জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ে মিটিং হয়েছে ।
তিনি আরোও বলেন ,যেহেতু আগামী আরোও প্রায় এক মাস পর লিচু মাড়াই শুরু হবে । তাই এখনও লিচু চাষীরা আশা বুক পেতে রয়েছে । করোনা পরিস্থিতি স্বাভাবিক হবে ও যান যোগাযোগ স্বাভাবিক হবে এমন প্রত্যাশ করছেন লিচু চাষীরা


সিএনআই’র প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।