রবিবার, ৫ই জুলাই, ২০২০ ইং

মাদক ব্যাবসার প্রতিবাদ করায় হাতীবান্ধায় চেয়ারম্যানের র্টচার সেলে নির্যাতন

প্রকাশিত: ১২:০০ অপরাহ্ণ , মে ১৯, ২০২০

মাদক ব্যাবসার প্রতিবাদ করায় হাতীবান্ধায় চেয়ারম্যানের র্টচার সেলে নির্যাতন
লালমনিরহাট প্রতিনিধিঃ  লালমনিরহাট জেলার হাতীবান্ধা উপজেলার  মাদকের গডফাদার ও দুর্নিতীবাজ হিসেবে পরিচিত     ভেলাগুড়ি ইউপি চেয়ারম্যান মহির উদ্দিনের র্টচার সেল থেকে নুরুজ্জামান নামে এক যুবককে গুরতর আহত অবস্থায় উদ্ধার করেছে পুলিশ। আহত ওই যুবককে প্রথমে হাতীবান্ধা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ও পরে রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে।
আহত নুরুজ্জামান উপজেলার ভেলাগুড়ি ইউনিয়নের জাওয়ারী গ্রামের মৃত নবী হোসেনের ছেলে।এদিকে শনিবার সন্ধ্যায় সরকার দলীয় ওই ইউপি চেয়ারম্যানের বাড়ি থেকে উদ্ধারকৃত ২৭০ পিচ ইয়াব ট্যাবলেট কার? এনিয়ে প্রশ্ন উঠেছে স্থানীয়দের মাঝে। অনেকেই বলছেন, মাদক বিরোধী কথা বলায় নুরুজ্জামানকে ওইদিন দিনদুপুরে তুলে নিয়ে গিয়ে বেধড়ক পিটিয়েছে চেয়ারম্যান মহির উদ্দিন ও তার পরিবারের লোকজন। এ সময় ২৭০ পিচ ইয়াবা দিয়ে নির্মম নির্যাতনের শিকার ওই যুবককে ফাঁসানোর চেষ্টা করা হয়। তবে স্থানীয়দের প্রতিবাদের মুখে পুলিশ ও বিজিবি ঘটনাস্থলে উপস্থিত হয়ে ওই যুবককে উদ্ধার করে।অপরদিকে এনিয়ে শনিবার রাতে চেয়ারম্যান মহির উদ্দিনসহ ৫ জনের নাম উল্লেখ করে হাতীবান্ধা থানায় অভিযোগ দায়ের করা হয়।
এতে সরকার দলীয় ওই চেয়ারম্যানের নাম থাকায় রোববার বিকেলে এ রিপোর্ট লেখা পর্যন্ত মামলাটি নথিভুক্ত করা হয়নি । ফলে শেষ পর্যন্ত লিখিত ওই অভিযোগ থেকে  চেয়ারম্যান মহির উদ্দিনের নাম বাদ দেয়া হতে পারে বলে গুঞ্জন উঠেছে।বিষয়টি স্বীকার করে মামলার বাদি আহত নুরুজ্জামানের চাচা আবুল কাসেম বলেন,‘ মানবিক কারণে চেয়ারম্যানের নাম বাদ দিয়ে নতুন করে আরও একটি অভিযোগ থানায় জমা দেয়া হয়েছে’।প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, শনিবার দুপুরে জাওরানী বাজারে এমদাদুলের চায়ের দোকানে বসে নাস্তা করছিলেন নুরুজ্জামান। হঠাতই চেয়ারম্যানের ছেলে জাহাঙ্গীর, ভাই মনসুর ও  গ্রাম পুলিশ শামিম প্রকাশ্যে জোড় করে তাকে টেনে হিচড়ে বের করে চেয়ারম্যানের বাড়িতে নিয়ে যায়। সেখানে তার হাত-পা বেধে বেধড়ক লাঠি, রড, হাতুরি দিয়ে পেটানো হয়। এ সময় তার আত্মচিৎকার শুনে স্থানীয়রা ছুটে গিয়ে চেয়ারম্যানের বাড়ি ঘেরাও করেন।
খবর পেয়ে পুলিশ ও বিজিবি ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রনে আনে এবং দিনভর আলোচনার পর সন্ধ্যার আগে ওই যুবককে আহত অবস্থায় তার পরিবারের নিকট হস্তান্তর করা হয়। পরিবারের লোকজন সন্ধার পর নুরুজ্জামানকে উপজেলা স্বাস্থ্য-কমপ্লেক্সে নিয়ে গেলে সেখানকার দ্বায়িত্বরত চিকিৎসক প্রাথমিক চিকিৎসা শেষে উন্নত চিকিৎসার জন্য নুরুজ্জামানকে রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে প্রেরন করেন। এ বিষয়ে নুরুজ্জামান বলেন, প্রায় ৬ মাস আগে ইউপি চেয়ারম্যানের ভাই মাদক কারবারী মনসুরের ৯৬ বোতল ফেন্সিডিল বিজিবির কাছে ধরিয়ে দেই আমি। সেই জেরে চেয়ারম্যানের নির্দেশে তারা আমাকে ধরে নিয়ে যায়। এ সময় চেয়ারম্যানের ছেলে জাহাঙ্গীর আমাকে বলে তুই কি সাংবাদিক আমাদের বিরুদ্ধে লিখিস, আমাদের মাল ধরিয়ে দেইস ব্যাটা বলেই লাঠি, রড হাতুরি দিয়ে বেধড়ক পেটাতে থাকে। এছাড়া হত্যার জন্য ফাঁকা ইনজেকশন শরীরে বেশ কয়েকবার পুশ করার চেষ্টা করে। চেয়ারম্যানের পুরো পরিবার মাদক ব্যবসায় জড়িত।
তাদের বিরুদ্ধে কেউ গেলে তাকে তারা বিভিন্নভাবে হয়রানী করা হয়।এ বিষয়ে ভেলাগুড়ি ইউপি চেয়ারম্যান মহির উদ্দিন জানান, নুরুজ্জামানকে গ্রাম পুলিশ ইয়াবাসহ আটক করে আমার বাড়িতে আনে। তাকে আমরা কোন মারধর করি নাই।এ বিষয়ে হাতীবান্ধা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) ওমর ফারুক জানান, এ ঘটনায় থানায় একটি অভিযোগ পাওয়া গেছে। বিষয়টি তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহন করা হবে। আর উদ্ধরকৃত ইয়ার বিষয়ে তদন্ত করা হবে’। উল্লেখ্য যে গতকয়েকমাসআগে চেয়ারম্যানএর বিরুদ্ধে দুরর্নীতি ও মাদকের বিরুদ্ধে বিক্ষোভ মানববন্ধন করলেও সরকারদলীয়৷ হওয়ার তা কালো মেঘে ঢেকে যায়।


সিএনআই’র প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।