মঙ্গলবার, ২৬শে মে, ২০২০ ইং

গাইবান্ধায় ভুট্টার বাম্পার ফলনে কৃষকের মুখে হাসি

প্রকাশিত: ৩:৪০ অপরাহ্ণ , মে ২১, ২০২০

গাইবান্ধায় ভুট্টার বাম্পার ফলনে কৃষকের মুখে হাসি

গাইবান্ধা প্রতিনিধিঃ  চরাঞ্চলে এবার ভুট্ট্রার বাম্পার ফলন হয়েছে। অন্য ফসলের চেয়ে ভুট্টা চাষে খরচ কম হওয়ায় কৃষকরা ভুট্ট্রা চাষে আগ্রহী হয়ে উঠেছে। স্বপ্নের ফসল ভুট্টা মাড়াই এ এখন ব্যস্ত সময় পাড় করছে চাষীরা। সঠিক দাম পেতে ধান চাল ও গমের মতো সরকারিভাবে ভুট্টা ক্রয়ের দাবি জানিয়েছে এ অঞ্চলের চাষীরা।
এদিকে জেলার ব্রান্ডিং শষ্য ভুট্টার চাষ বাড়তে কৃষকদের সবধরনের সহযোগিতা করা হচেছ বলে জানিয়েছে কৃষি বিভাগ। এ অঞ্চলে ভুট্টা ভিত্তিক শিল্প কলকারখানা ও পশু খাদ্য তৈরির মিল স্থাপন করা হলে ভুট্টা চাষ আরো বৃদ্ধি পাবে বলে মনে করেন স্থানীয়রা।

জেলার ফুলছড়ি, সাঘাটা, সুন্দরগঞ্জ ও সদর উপজেলার চরাঞ্চলের চিরাচরিত ধু-ধু বালির বুকের দৃশ্য বদলে দিয়েছে ভুট্টা চাষ। যে দিকে চোখ যাবে সেদিকে দেখা মিলছে গাছে গাছে সোনালী রঙ্গে ভুট্টুার মোচা। চলছে মাড়াই, শুকানো ও ঘড়ে তোলার কাজ। অন্য ফসলের চেয়ে কম খরচে চাষাবাদ করে অধিক লাভ পাওয়ায় এবং স্থানীয় কৃষি বিভাগের সহযোগিতায় উচ্চচফলনশীল ভুট্ট্রা চাষের প্রতি আগ্রহী হয়ে উঠেছে এ অঞ্চলের চাষীরা। ভুট্টা লাভজনক ও অন্য ফসলের চেয়ে অধিক উৎপাদন হওয়ায় ভুট্টুাকে দেওয়া হয়েছে জেলা ব্রান্ডিং পন্য হিসাবে স্বীকৃতি। ভুট্ট্রা বিক্রি করে শুধু নগদ অর্থ প্রাপ্তিই নয়, ভুট্ট্রা গাছ জ্বালানি হিসেবেও চরাঞ্চলের পরিবারে আনছে সাশ্রয়।

চরাঞ্চলের কৃষকরা আধুনিক কৃষি প্রযুক্তিতে কৃষকদের আগ্রহ সৃষ্টি হওয়ায় স্বল্প খরচে যথাসময়ে কৃষকরা এবার ভুট্টার বাম্পার ফলন ও ভাল দাম পেয়ে আনন্দিত। জেলা কৃষি অধিদপ্তর স‚ত্রে জানা যায়, এবারে জেলার বিভিন্ন চরসহ প্রায় ১৫ হাজার হেক্টর জমিতে এবার ভুট্টার চাষ হয়েছে। ভুট্টা চাষে খরচ কম অথচ ফলন ও দাম বেশি পাওয়ায় কৃষকদের মাঝে ভ‚ট্টা চাষের আগ্রহ বেশি পরিলতি হচেছ।

ফুলছড়ি উপজেলার খাটিয়ামারি গ্রামের আবু হানিফ বলেন, এলাকার যেসব জমিতেপূর্বে বোরোচাষ করা হত সেসব জমির অনেক গুলোতেই আমরা এবার ভুট্টাচাষ করেছি। বোরোচাষে উৎপাদন খরচ অনেক বেশি অথচ যখন ধান কাটা মাড়াই শুরু হয় তখন ধানের বাজারে ধস নামে। ফলে অনেক ক্ষেত্রে উৎপাদন খরচই উঠেনা। কিন্ত‘ ভ‚ট্টার উৎপাদন খরচ যেমন কম দামও তেমন বেশি থাকে। এ জন্য আমরা ভুট্টা চাষে বেশি ঝুঁকে পড়েছি। এবারে ভুট্টার ফলন ও দাম ভাল পাওয়ায় আমরা খুশি।

উপজেলার চর কালিকাপুর গ্রামের কৃষক সোলেমান মিয়া বলেন, অন্যান্য ফসল চাল করে তেমন লাভবান হতে পারিনি। তাই এবার ভ‚ট্টা চাষ করেছি জমিতে। আশা করি এবার লাভের মুখ দেখতে পারবো। তবে ব্যাপক ভুট্টার চাষ হলেও বাজার ব্যবস্থা না থাকায় ন্যয্যে মূল্য পাচেছ না জেলার ভুট্টা চাষীরা। ধান, পাট, গমের মতো সরকারিভাবে ভুট্টার দাম নির্ধারন ও ক্রয়ের দাবি তাদের। গাইবান্ধা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক মাসুদুর রহমান বলেন, দিন দিন এ অঞ্চলে ভুট্ট্রার আবাদ বৃদ্ধি পাচেছ, কৃষকদের ভুট্টা চাষে আগ্রহী করতে কৃষি প্রণোদনা, প্রদশনী ও প্রশিক্ষনসহ বিভিন্ন সহযোগিতা দেয়া হচেছ। বিশেষ করে বীজ, সার ও তেল এর জন্য সার্বণিক
মনিটরিং ব্যবস্থা চালু রেখেছি। আমাদের প্রযুক্তি ব্যবহার ও পরামর্শ অনুযায়ী চাষ করায় এবারে জেলায় ভুট্টার ফলন ভাল হয়েছে। এতে কৃষকরা যথেষ্ট উপকৃত হয়েছে। আর সরকারিভাবে ভুট্টার দাম নির্ধারন ও ক্রয় সংক্রান্ত কৃষকদের দাবির স্বারকলিপি মন্ত্রনালয়ে পাঠানো হয়েছে বলে জানান তিনি।


সিএনআই’র প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।