শনিবার, ৪ঠা জুলাই, ২০২০ ইং

আজ আন্তর্জাতিক পরিবার রেমিট্যান্স দিবস

প্রকাশিত: ১০:৪৭ পূর্বাহ্ণ , জুন ১৭, ২০২০

আজ আন্তর্জাতিক পরিবার রেমিট্যান্স দিবস

আজ আন্তর্জাতিক পরিবার রেমিট্যান্স দিবস (আইডিএফআর)। প্রতিটি রেমিট্যান্সের পেছনের গল্পটা সংগ্রাম, অধ্যবসায় এবং প্রেমের। প্রতি বছরের ১৬ জুন পালিত হয় আন্তর্জাতিক পরিবার রেমিট্যান্স দিবস। পরিবারের সুখ ও নিজ দেশের টেকসই উন্নয়নের জন্য অভিবাসী শ্রমিকদের গুরুত্বপূর্ণ অবদানের স্বীকৃতি হিসেবে দিবসটি পালন করা হয়। সরকারী ও বেসরকারী খাতগুলির পাশাপাশি নাগরিক সমাজকে একসঙ্গে করা এবং পারস্পারিক সহযোগিতার ভিত্তিতে উন্নয়নশীল বিশ্বে রেমিট্যান্সের অর্থের প্রভাব সর্বাধিকতর করাও এর উদ্দেশ্য।

আইএফআইডি-এর ২০১৫ সালের ৩৮ তম অধিবেশনে সংস্থাটির পরিচালনা পর্ষদের ১৭৬ টি সদস্য দেশের সর্বসম্মতিক্রমে দিবসটি ঘোষণা করা হয়েছিল, যা জাতিসংঘের সাধারণ সভার রেজুলেশনের এ/আরইএস/৭১/২৩৭ এ অন্তর্ভুক্ত হয়। আন্তর্জাতিক পরিবার রেমিটেন্স দিবসটির উদ্দেশ্য শুধু বিশ্বজুড়ে অভিবাসী কর্মীদের প্রচেষ্টাকে স্বীকৃতি দেয়া নয়। এর পাশাপাশি বর্তমান বিশ্বে তাদের কাজের অংশীদারিত্বকে আরো জোরদার করা এবং বিশ্বের উন্নয়নে অভিবাসী শ্রমিকদের রেমিট্যান্সের প্রভাব প্রচার করাও সংস্থাটির উদ্দেশ্য। ২০১৫ সালের ১৬ জুন মিলানে অনুষ্ঠিত রেমিট্যান্স এবং উন্নয়ন সম্পর্কিত পঞ্চম গ্লোবাল ফোরামের উদ্বোধনকালে ৪শ’রও বেশি নীতিনির্ধারক, বেসরকারী খাতের প্রতিনিধি এবং সুশীল সমাজের নেতারা প্রথমবার আন্তর্জাতিক পরিবার রেমিট্যান্স দিবস উদযাপন করেছিলেন। ২০১৬ সালে আশিটিরও বেশি অর্থ স্থানান্তর অপারেটর আইডিএফআরকে সমর্থন করেছে এবং পরিবারের রেমিটেন্স আরো বেশি মাত্রায় গণনা নিশ্চিত করতে সুনির্দিষ্ট ব্যবস্থা গ্রহণে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। তাদের বিবৃতিগুলো পড়ুন। ২০১৭ সালে দিবসটি আইএএমটিএন-এর মাধ্যমে ১০০ টিরও বেশি অর্থ স্থানান্তর অপারেটর (এমটিও), জিএসএমএ (ভোডাফোন সহ) এর মাধ্যমে ৮০০ মোবাইল সংস্থা, ডব্লিউএসবিআইয়ের মাধ্যমে ৮০ টি দেশের ৬ হাজার সঞ্চয়ী ব্যাংকের এবং শতাধিক উদীয়মান পরিশোধ সত্তার বেসরকারী খাত থেকে অভূতপূর্ব সমর্থন পেয়েছে ইপিএ-এর মাধ্যমে। এই দিবসটি গ্লোবাল মাইগ্রেশন গ্রুপের (জিএমজি) ২২ টি ইউএন সংস্থা, এককভাবে আইওএম এবং বিভিন্ন সদস্য রাষ্ট্র দ্বারা সমর্থিত। রেমিট্যান্স বিশ্বব্যাপী ১ বিলিয়ন মানুষের জীবনে সরাসরি প্রভাব ফেলে, এই রেমিট্যান্সের অর্থ প্রায় ২০০ মিলিয়ন অভিবাসীদের মাধ্যমে তাদের নিজ নিজ দেশে প্রেরিত হয়। অভিবাসীদের অর্ধেকই হলেন নারী।

অভিবাসীদের পাঠানো রেমিট্যান্সের অর্থের মাধ্যমে ৮০০ মিলিয়ন পরিবার নিজেদের খাদ্য, বাসস্থান, স্বাস্থ্য সহায়তা ও শিক্ষা ব্যয় বহন করে। পাশাপাশি শিল্প উদ্যোক্তা হতেও রেমিট্যান্সের অর্থ যথেষ্ট ভূমিকা রাখে। ২০১৯ সালে রেমিট্যান্সের সর্বোচ্চ পরিমাণ ছিল রেকর্ড ৫৫৪ বিলিয়ন মার্কিন ডলার, যা কোভিড-১৯ মহামারীর কারণে মারাত্মকভাবে প্রভাবিত হয়েছে এবং ধারণা করা হচ্ছে ২০২০ সালে ২০ ভাগ হ্রাস পাবে। এটা শুধু বাড়িতে টাকা পাঠানোর বিষয় নয়, এটা মানুষের জীবনকে ব্যাপক প্রভাবিতও করে। প্রত্যেক অভিবাসী ২০০ অথবা ৩০০ ডলার পরিমাণের যে অর্থ নিজ নিজ বাড়িতে পাঠান তা তাদের পরিবারের আয়ের প্রায় ৬০ শতাংশ এবং এটা তাদের জীবন ও সমাজে অনেক পার্থক্য আনে। এই কথাগুলোর পাশাপাশি, আইএফএডি-এর সভাপতি গিলবার্ট এফ হুংবো পরিবার অর্থনীতিতে রেমিট্যান্সের গুরুত্ব তুলে ধরেন। প্রতিবছর ১৬ জুন এ দিবসটি উদযাপিত হয়। এই দিবসের মূল উদ্দেশ্য হলো পরিবারের উন্নতির জন্য অভিবাসী শ্রমিকরা যে আর্থিকভাবে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখছেন তা তুলে ধরা এবং তাদের নিজ নিজ দেশের টেকসই উন্নয়নে রেমিট্যান্সের অবদান উপস্থাপন ও নিশ্চিত করা। অন্যদিকে, উন্নয়নশীল দেশগুলির উন্নতিতে এই তহবিলের প্রভাব বাড়ানোর জন্য বিভিন্ন সরকারী ও বেসরকারী খাতের পাশাপাশি সাধারণভাবে সমাজকে একত্রে কাজ করার জন্য এবং একে অপরকে সহযোগিতা করার জন্য উদ্বুদ্ধ করা হচ্ছে। রেমিট্যান্স কী? রেমিট্যান্স হলো এমন অর্থের চালান, যা অভিবাসীরা তাদের মূল দেশে পাঠায়। সাধারণভাবে, অভিবাসী কর্মীরা শুধু নিজেদের কথা ভেবে আয় করেন না, বরং পরিবারের সদস্য ও প্রিয়জনদের জন্য তারা অর্থের যোগান দেন, যে অর্থ পরিবারের সদস্যরা পারিবারিক অর্থনৈতিক কাজে, পড়াশোনায় বা চিকিৎসাক্ষেত্রে ব্যয় করে থাকেন। কীভাবে রেমিট্যান্সগুলো কাজ করে? উদাহরণস্বরূপ, কিউবায় অর্থ প্রেরণ করার জন্য আপনি সাধারণত ব্যাংকের মতো আর্থিক প্রতিষ্ঠানগুলির কথা ভাবেন, কিন্তু তাদের মুদ্রা বিনিময় হার যথেষ্ট ভাল নয়, তাছাড়া অর্থ প্রাপ্তিতেও সময় লাগে।

এই কারণে অভিবাসীরা সাধারণত এনআরবি মানি ট্রান্সফারের মতো অর্থ স্থানান্তরের নিবেদিত সংস্থাগুলোতে যান, যারা ব্যাংকিং প্রতিষ্ঠানগুলোর মতন নিরাপত্তা নিশ্চিতের পাশাপাশি মুদ্রা বিনিময়ের হারও বেশি দেন এবং পাঠানো অর্থ ৫ মিনিট থেকে ২৪ ঘন্টার মধ্যে গ্রহণ করা যায়। সুতরাং, যখন সবচেয়ে বেশি প্রয়োজন হয় তখনই অভিবাসী কর্মীদের পাঠানো অর্থ তাদের পরিবারের সদস্যরা উত্তোলন করতে পারেন। সর্বশেষ, কোনো অফিসের মাধ্যমে নির্দিষ্ট গন্তব্যে অর্থ প্রেরণের সময় বা নতুন অ্যাপের মাধ্যমে অর্থ প্রেরণের সময় প্রেরণকারী ব্যক্তি ও গ্রহণকারীর পরিচয় উপস্থাপন করতে হয়, এবং এটিই দ্রুত ও সহজ। সমাজের জন্য রেমিট্যান্স কী কী উপকার করে? সহজ উপায়ে বিদেশ থেকে পাঠানো রেমিট্যান্স বেশিরভাগ ক্ষেত্রেই অর্থপ্রাপ্ত দেশগুলোর মোট জিডিপির ১০ শতাংশের সমান হয়। রেমিট্যান্সের অর্থ একটি দেশের গ্রামীণ সমাজ কিংবা উন্নয়নশীল অঞ্চলগুলোর অর্থনৈতিক উন্নয়নে সহায়তা করে। কোনো দেশে ভূমিকম্প কিংবা যুদ্ধের মতো বিপর্যয়ের পর সেই দেশকে পুনর্গঠনে যথেষ্ট কার্যকরী ও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে অভিবাসীদের পাঠানো রেমিট্যান্স ।

লেখক : মো: লিটন আহমেদ

সিইও এনআরবি মানি ট্রান্সফার ইন্ক


সিএনআই’র প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।