শনিবার, ৪ঠা জুলাই, ২০২০ ইং

অদৃশ্য প্রতিবন্ধকতা: স্পিচ অ্যান্ড ল্যাঙ্গুয়েজ থেরাপি

প্রকাশিত: ৮:২৬ অপরাহ্ণ , জুন ২২, ২০২০

অদৃশ্য প্রতিবন্ধকতা: স্পিচ অ্যান্ড ল্যাঙ্গুয়েজ থেরাপি

নিউজ ডেস্কঃ  একজন কথা বলার চিকিৎসক হিসেবে ইদানিং দেখি অনেক মা বাবাই বলে থাকে , শিশুর কথার বলার সমস্যার বিষয়টা ছোট বয়সে গুরুত্ব দেইনি, ভেবেছে বড় হলেই কেটে যাবে সমস্যা গুলো। নিতান্তই ভুল ধারনা । শুধু বিশেষ চাহিদাসম্পন্ন শিশুর (অটিজম, সেরিব্রাল পালসি, ডাউন সিন্ড্রোম ) যে কথা বলার ক্ষেত্রে বা যোগাযোগের ক্ষেত্রে সমস্যা হবে এমনটা নয়। অনেক সাধারন শিশুর মধ্যেও কথা বলার জড়তা দেখা দিচ্ছে। কথা বলার ক্ষেত্রে অথবা মনের ভাব প্রকাশের ক্ষেত্রে এই জড়তাগুলো পরিলক্ষিত হয়, কিন্তু অদৃশ্য এই সমস্যাগুলো দৃষ্টিগোচর হয় না।

একটি শিশু শুধু পৃথিবীতে ভূমিষ্ঠ হওয়ার পর থেকে নয়, মাতৃগর্ভে থেকেই তার ভাষার বিকাশ শুরু হয়। যথাযথভাবেই যেমন তিন মাস বয়সে শিশু মা,বাবার দিকে তাকায় কিংবা হাসি দেয়, ছয় মাস বয়সে আধো আধো কথা বলা শুরু করে যেটা আমরা বুলি ফোটা বা ব্যাব্লিং (Babling) বলে থাকি। এক বছর বয়স না পেরোতেই এক শব্দ (মামা, কাকা,বাবা) বলা শুরু করে। ক্রমান্বয়ে একটি শিশুর কথা বলার ক্ষমতার বিকাশ ঘটে। শিশুর এই
বিকাশের সময়কালিন যেসব সমস্যা দেখা যায় তন্মধ্য নিম্নোক্ত সমস্যা গুলো খুবি গুরুত্বপূর্ণ।

১। শিশুর দেরিতে কথা বলাঃ শিশুর ভাষার বিকাশ যদি বয়স অনুপাতে না হয় তাহলে সেই শিশুটির ক্ষেত্রে কথা বলতে দেরি হচ্ছে বলে আমরা ধরে নিতে পারি। যেমন একজন ১৮ থেকে ২০ মাস বয়স হওয়ার পরেও ১০ টিরও কম কথা বলে। যদিও কথাবলার ক্ষেত্রে ছেলেদের তুলনায় মেয়েদের কথার বা ভাষার বিকাশ দ্রুত হয়।

২। শিশুর তোতলামোঃ অনেক শিশুও আজকাল তোতলামি রোগে ভুগছে। তোতলামি সমস্যা প্রাপ্তবয়স্কদের মধ্যে যেমন খুবই স্বাভাবিক তেমন ইদানিং শিশুদের বিকাশজনিত সমস্যার জন্য তোতলামি দেখা দিচ্ছে। একটি শিশুর
তোতলামির ক্ষেত্রে যেসব বিষয় দেখা যায় যেমনঃ একটি শব্দের উচ্চারন পুনরাবৃত্তি করা (আমি আমি আমি ভাত খাই), শব্দের প্রথম অক্ষরের উচ্চারন লম্বা করে বলা (ককককলা খাব)। বাক্য বলার সময় প্রথমে
বা মাঝে হঠাত করে থেমে যাওয়া। অনেকক্ষেত্রে চোখ বন্ধ করে, চোখে পলক ফেলে, ঠোট বা মুখ বাকা করে ফেলে।

৩। চাইল্ডহুড আপ্রাক্সিয়া অফ স্পিচঃ এটি শিশুদের ক্ষেত্রে এক বিশেষ ধরনের রোগ যা কথা বলার ক্ষেত্রে মস্তিস্ক থেকে যে বার্তার মাধ্যমে শিশু তার মুখের মাংসপেশিগুলো নাড়াচাড়ার বা সঞ্চালনের ক্ষেত্রে বিচ্যুতি ঘটবে। এই সমস্যার ক্ষেত্রে একটি শিশু কথা বুঝতে পারবে এবং বলতে পারবে। কিন্তু বলার ক্ষেত্রে অস্পষ্টতা বা জড়তা দেখা দিচ্ছে। এই রোগে আক্রান্ত শিশুরা কথা শুরু করতে সময় নেয়, একটি শব্দ উচ্চারনের সময় মাঝে বিরতি নেয়, একটি শব্দ উচ্চারনের ক্ষেত্রে ধ্বনিরবিন্যাস সঠিকভাবে হচ্ছেনা। উল্লেখ্য একটি শিশুর তিন বছর বয়সের আগেই এই সমস্যাগুলো দেখা যায়। তিন বছরের পরেও যদি কোন শিশু কথা বলার ক্ষেত্রে অসামঞ্জস্যভাবে মুখ, জিহ্বা বা ঠোটের ব্যাবহার বারবার করে সেটাও চাইল্ডহুড আপ্রাক্সিয়া অফ স্পিচ এর অন্তর্ভুক্ত।

শুধুমাত্র এই কথা বলার বিকাশে বাধাগ্রস্থ হওয়ার দরুন তাদের মধ্যে সামাজিকতা, বুদ্ধিমত্তাজনিত, আচরণগত প্রতিবন্ধকতাগুলো বেড়ে যাচ্ছে। তদুপরি একটি শিশু লেখাপড়ার ক্ষেত্রেও পিছিয়ে যাচ্ছে। চিকিৎসাশাস্ত্র মতে একজন শিশুর ভাষার বিকাশ ০-৫ থেকে ৭ বছর পর্যন্ত হতে পারে। এই বয়সের সময়ে একজন শিশু যদি তার বিকাশ না হয় তাহলে এই সমস্যাগুলো তার ভবিষ্যৎ জীবন বাধার সম্মুখীন হবে। কিছু চিকিৎসা, কিছু অভ্যাস বা শিশুটির সমস্যাটাকে বুঝে তার সাথে কৌশলগত ভাবে কিছু প্র্যাকটিসের মাধ্যমে এই সমস্যাগুলো সমাধান সম্ভব। শিশুর এই সমস্যার সমাধানে একজন গ্রাজুয়েট স্পীচ অ্যান্ড ল্যাঙ্গুয়েজ থেরাপিস্টদের শরণাপন্ন হয়ে একটি শিশুর কথা বলার সমস্যার সঠিক রোগ নির্ণয় ও চিকিৎসা গ্রহনের গুরুত্ব অপরিসীম।

আবুল কাশেম সিহাব
স্পিচ অ্যান্ড ল্যাঙ্গুয়েজ থেরাপিস্ট
সি আর পি


সিএনআই’র প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।