শনিবার, ৪ঠা জুলাই, ২০২০ ইং

প্রকৃত সংস্কৃতিকর্মীদের সরকারি অনুদান থেকে বঞ্চিত করার অভিযোগ

প্রকাশিত: ১:১৩ অপরাহ্ণ , জুন ২৭, ২০২০

প্রকৃত সংস্কৃতিকর্মীদের সরকারি অনুদান থেকে বঞ্চিত করার অভিযোগ

তেঁতুলিয়া (পঞ্চগড়) প্রতিনিধি : মহামারী করোনা প্রকোপে প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশে সংস্কৃতি মন্ত্রণালয় হতে পঞ্চগড় তেঁতুলিয়ায় অসচ্ছল সংস্কৃতি কর্মীদের দেয়া হয়েছে অনুদান সহযোগিতা। এ অনুদান সহযোগিতা প্রকৃত সাংস্কৃতিক কর্মীদের বঞ্চিত করার অভিযোগ উঠেছে।

এ বিষয়ে উপজেলা নির্বাহী অফিসার বরাবর একটি লিখিত অভিযোগ দাখিল করেছেন বঞ্চিত সংস্কৃতিকর্মীরা। গত ১৯ জুন অসচ্ছল ৮জন সংস্কৃতিকর্মীকে ৫ হাজার করে টাকা অনুদান প্রদান করা হয়। এ অনুদান সহযোগিতা থেকে প্রকৃত সংস্কৃতিকর্মীরা বঞ্চিত হয়েছেন মর্মে অভিযোগপত্রে উল্লেখ করেছেন। এর আগে গত ৮ জুন তালিকাভুক্ত জেলার ২১ জনের মধ্যে তেঁতুলিয়ার ৬জন সংস্কৃতিসেবীকে মাসিক কল্যাণ ভাতা বাবদ প্রত্যেককে ১৪ হাজার ৪শত টাকা প্রদান করা হয়।

অভিযোগে জানা যায়, সম্প্রতি দুই দফায় সংস্কৃতিকর্মীদের প্রদান করা হয়েছে। কিন্তু এ অনুদান সহযোগিতা হতে প্রকৃত সংস্কৃতিকর্মীদের বঞ্চিত করা হয়েছে। উপজেলা শিল্পকলা একাডেমীর সদস্য সচিব প্রকৃত সংগীত শিল্পী ও সংস্কৃতিকর্মীতের বাদ দিয়ে মনগড়া শিল্পী ও সংস্কৃতিকর্মীদের নামের তালিকা প্রস্তুত করে জেলা প্রশাসকের মাধ্যমে সংস্কৃতি মন্ত্রণালয়ে প্রেরণ করা হয়।

খোঁজ নিয়ে জানা যায়, উপজেলা সদর ইউনিয়নের কানকাটা গ্রামের সিরাজুল ইসলাম দেওয়ান। তিনি দীর্ঘ ২৩ বছর ধরে বিভিন্ন সাংস্কৃতি মঞ্চে গান গেয়ে আসছেন। বাংলাদেশ বেতার (ঠাকুরগাঁও)য়ে নিয়মিত গান করেছেন। রনচন্ডী গ্রামের খাদেমুল ইসলাম। নিয়মিত গাওয়ার পাশাপাশি রনচন্ডীতে গড়ে তুলেছেন লালন পর্ষদ। এছাড়াও অভিযোগপত্রে আরও নয়জন সংস্কৃতিকর্মীর নাম উল্লেখ দেখা যায়। সংস্কৃতিকর্মী সিরাজুল ইসলাম বলেন, দুই যুগের বেশি সময় ধরে সাংস্কৃতিক অঙ্গনে জড়িত থেকে গান গেয়ে আসছি। এখানকার বিভিন্ন অনুষ্ঠান ছাড়াও বাংলাদেশ বেতার (ঠাকুরগাঁও)য়ে গান গেয়ে আসছি। মাননীয় প্রধানমন্ত্রী করোনা এ দু:সময়ে অস্বচ্ছল সংস্কৃতিকর্মীদের অনুদান সহযোগিতা করছেন জেনে খুব আশাবোধ করছি। কিন্তু এখানকার প্রকৃত সংগীত শিল্পীদের বঞ্চিত করায় হতভম্ব হয়েছি। আর এখানে শিল্পকলা একাডেমীর সদস্য সচিব মনগড়া তালিকা প্রণয়নসহ আমাদের বিভিন্নভাবে গান গাওয়া ও সুবিধা হতে বঞ্চিত করছেন বলে তিনি অভিযোগ করেন।

খাদেমুল ইসলাম জানান, অস্বচ্ছল সংস্কৃতিকর্মীদের ভাতা স্বচ্ছলরা পায় কিভাবে, আর তালিকাও মনগড়া। এখানে একজন সরকারি চাকরিজীবি, ইউপি সদস্য ও ইলেক্ট্রনিকের দোকানদার এ অনুদান পান কিভাবে। আমাদের বঞ্চিত করা হয়েছে। এজন্য একটি লিখিত অভিযোগ মান্যবর উপজেলা নির্বাহী অফিসার বরাবর দাখিল করেছি।

তবে অভিযোগ প্রসঙ্গে শিল্পকলা একডেমীর সদস্য সচিব জাহাঙ্গীর আলম মিঞা বলেন, তাদের নাম তালিকা করে পাঠানো হয়েছে। আশা করছি দ্বিতীয় ধাপে তারা পাবেন। তাছাড়া সিরাজুল ইসলাম দেওয়ান ও খাদেমুল ইসলাম ইতিপূর্বে সংস্কৃতি মন্ত্রণালয় হতে এক কালিন অনুদান পেয়েছিলেন। আর তারা যে মনগড়া তালিকার কথা বলছে, তা সঠিক নয়। আমি বরাবরই চেষ্টা করেছি এখানকার সংস্কৃতিকর্মীরা এসব সুবিধা পান।

এ ব্যাপারে উপজেলা নির্বাহী অফিসার সোহাগ চন্দ্র সাহার সাথে মুঠোফোনে কথা হলে তিনি জানান আসলে শিল্পকলা একডেমী হতে যেভাবে তালিকা প্রস্তুত করে দেয়া হয়েছিল। সেভাবেই সংস্কৃতি মন্ত্রণালয়ে প্রেরণ করা হয়েছিল। এ থেকে কেউ কেউ ছাড়া পড়েছেন বলে পরে জানতে পারলাম। এ বিষয়ে একটি লিখিত অভিযোগ পেয়েছি। আশা করছি পরবর্তী ধাপে তারা এসব অনুদান পাবেন বলে জানান।


সিএনআই’র প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।