শনিবার, ৪ঠা জুলাই, ২০২০ ইং

শ্বেত কাঞ্চন

প্রকাশিত: ৩:৫৭ অপরাহ্ণ , জুন ২৭, ২০২০

শ্বেত কাঞ্চন

সিএনআই ডেস্কঃ

নিধিরামের
ছিলো এক চারাগাছ শ্বেত কাঞ্চন
ছিলো এক বোবা ছেলে যক্ষের ধন
ছিলো তার পৃথিবী জুড়ে সুর ছন্দ
ছিলো এক মেয়ে তার জন্মান্ধ
কুঁড়েঘরে সুখ ছিলো আকাশ সমান
ছিলো না কোন কষ্ট
মান অভিমান
জল দিতো ছেলে তার  চারাগাছে রোজ
ফুল কবে ফুটবে
মেয়ে নিতো খোঁজ
ধন ছিলো কিছু তার নামমাত্র
মেয়েটারে করবে বিদায় পাইলে সুপাত্র
ছেলেটার অপারেশন যদি হয়ে যায়
পাঠা বলি দিবে ভগবান শিবের পা’য়
হারায়েছে ঘরণীরে কবে কোন কালে
জোড়া মানিক নিয়ে দিন কাটে একহালে।
দিনে দিনে বড় হলো চারাগাছ, শ্বেত কাঞ্চন
সন্তানেরও অধিক তার লাগিতো আপন
ভোর বেলা উঠিয়া দেখে তাহার ছেলে
ফুল কতক ফুটিয়াছে পাঁপড়ি মেলে
সহসা বোবা ছেলে দৌড়ে যায় ঘরে
বোনেরে পারেনা বুঝাইতে আর,
ফুল যে আজ ফুটেছে গাছের প’রে
তা দেখিয়া ,
আফসোস দানা বাঁধে নিধিরামের মনে
আজই কহিবে কথা বড়বাবুর সনে
শহরে নিয়া মেয়েরে করিবে আপন চক্ষু দান
মেয়ে তার জগৎ দেখিলে  জুড়াইবে তাহার প্রাণ
বাড়িখানা রাখিলো বন্ধক,
নিলো সাথে জমালো টাকা
সকলের কাছে বিদায় লইয়া ছেলেমেয়ে সাথে করে নিধিরাম চলিলো ঢাকা
দুই চোখ স্বপ্নে বিভোর
মনে বড় আশা
ভগবান রে ডেকে কয়, করিওনা নৈরাশা।
ভগবান শুনেনি কথা,
করেনাই মাফ
আগের জনমে না জানি করেছিলো কি পাপ!
মুখোমুখি সংঘর্ষ
হলো দুই বাসে
মরিলো অভাগা নিধিরাম, মরিলো দুই সন্তান তার পাশে।
আকাশ কাঁদিয়া কয়,
অভিশাপ দেই তোরে হে শ্বেত কাঞ্চন
নাইবা ফুটাইতি তুই এই অভিশপ্ত ফুল ,
বাঁচিয়া থাকিতো নিধিরাম বাঁচিয়া থাকিতো  তাহার যক্ষেন ধন

শিরিন সুলতানা


সিএনআই’র প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।