শনিবার, ৪ঠা জুলাই, ২০২০ ইং

করোনা গোপন রেখেই মানুষের সংস্পর্শে আসছেন নাসিরনগরের চেয়ারম্যান!

প্রকাশিত: ৫:৪০ অপরাহ্ণ , জুন ২৭, ২০২০

করোনা গোপন রেখেই মানুষের সংস্পর্শে আসছেন নাসিরনগরের চেয়ারম্যান!

ব্রাহ্মণবাড়িয়া থেকে হাসান জাবেদঃ দ্বিতীয়বারের মতো নমুনা পরীক্ষায় করোনা পজেটিভ এসেছে ব্রাহ্মণবাড়িয়ার নাসিরনগর উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান মো. রাফি উদ্দিন আহমেদের। তবে সেটা গোপন’ রেখেই তিনি মানুষের সংস্পর্শে আসছেন। ‘পরামর্শ’ দিয়ে যাচ্ছেন সামনে থেকেই। রাফি উদ্দিন উপজেলা আওয়ামী লীগেরও সভাপতি।

শনিবার বেলা ১২টা। তিন-চার ব্যক্তিকে দেখা যায় চেয়ারম্যানের নাসিরনগর সদরের বিটিসিএল অফিস সংলগ্ন বাড়িতে অবস্থান করছেন। বের হওয়ার পথে কথা হয় মোক্তার হোসেন নামে এক ব্যক্তির সঙ্গে। উপজেলার ধনকুড়া গ্রামের ওই ব্যক্তি জানালেন প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সীমানা প্রাচীর সংক্রান্ত বিষয়ে কথা বলতে তিনি সেখানে গিয়েছিলেন। চেয়ারম্যানের কাছ থেকে পরামর্শ পেয়েছেন।

মিনিট দশেক ওনার বাড়িতে যাওয়া। দরজার সামনে খালি গায়ে লুঙ্গি পড়া অবস্থায় বসা রাফি উদ্দিন। হাতের কাছে থাকা বাটিতে জাম। মাঝ বয়সি আরো তিন ব্যক্তি চেয়ারম্যানের সামনেই ছিলেন। সামাজিক দূরত্বের কথা উঠতেই তাঁরা সরে গেলেন। সাত-আট ফুট দূরে দাঁড়িয়েই কথা হয় রাফি উদ্দিনের সঙ্গে। এ প্রতিবেদককে জানান, তিনি আগের চেয়ে অনেক সুস্থ আছেন। তবে নতুন করে আসা ফলাফলে করোনা পজেটিভ কি-না সে বিষয়টি তিনি জানেন না। সামাজিক দূরত্বের বিষয়টি তিনি সব সময়ই মেনে চলেন।

তবে ব্রাহ্মণবাড়িয়া মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের চেয়ারম্যান ডা. মো. আবু সাঈদ জানান, রাফি উদ্দিনের পরিববারের সদস্যরা তাঁর এখানে নমুনা দিয়েছিলেন। শুক্রবার আসা ফলাফলে তিনি ও তাঁর স্ত্রীর করোনা পজেটিভ এসেছে, যা জানিয়ে দেয়া হয়েছে।

চেয়ারম্যানের বাড়ির সামনে আধা ঘন্টার মতো দাঁড়িয়ে দেখা যায়, একজনের পর এক লোকজন ঢুকছেন। সবার সঙ্গে সাক্ষাত দিচ্ছেন রাফি উদ্দিন। তবে কাউকে ঘরে যেতে বলছেন না। তিনি দরজায় বসে থেকেই কথা বলছেন সবার সঙ্গে। স্থানীয় লোকজন জানান, এর আগেও চেয়ারম্যানের করোনা পজেটিভ আসে। তবে ওই সময়ও তিনি নিয়ম মানেন নি। বরং তিনি বিষয়টি চেপে যান।

এমনকি তাঁর গ্রামের বাড়ি নাসিরপুরের মানুষকে বিষয়টি গুজব উল্লেখ করে দোয়া কামনা করেন। উপজেলা সদরে দেখা হলে আওয়ামী লীগের এক নেতা ক্ষোভের সঙ্গে বলেন, ‘চেয়ারম্যানের দুইবার করোনা পজেটিভ আসে বলে আমরা জানতে পেরেছি। কিন্তু ওনার বাড়িতে লোকজনের আনাগোনার কমতি নেই। করোনা রোগীর বাড়িতে সাধারনত যে ধরণের ব্যবস্থা নেয়া হয় সেটিও নেয়া হয় নি।

উপজেলার গোয়ালনগর গ্রামের হাজি মো. সেলিম উদ্দিন নামে এক ব্যক্তি চেয়ারম্যানের বাড়ি থেকে বেরিয়ে এসে বলেন, একটি সামাজিক নিষ্পত্তির বিষয়ে কথা বলতে এসেছি। চেয়ারম্যান আগে করোনা আক্রান্ত হয়েছেন জেনে সরাসরি আসা বন্ধ রাখি। তবে এখন যে ওনার নমুনার ফলাফল পজেটিভ এসেছে সেটা আমার জানা নেই।’সায়েব আলী নামে এক ব্যক্তি বলেন, ‘অন্য আরেক জনের কাজে চেয়ারম্যানের বাড়িতে এসেছেন।

তবে চেয়ারম্যান করোনা আক্রান্ত কি-না তিনি জানেন না।’ বাড়িতে আসা লোকজনের সঙ্গে তিনি দূরত্ব বজায় রেখে সাক্ষাত দিচ্ছেন বলে জানান।নাসিরনগর উপজেলা নির্বাহী অফিসার (ইউএনও) নাজমা আশরাফী বেলা সোয়া একটার দিকে মোবাইল ফোনে কালের কণ্ঠকে বলেন, ‘চেয়ারম্যান ও ওনার স্ত্রীর করোনা পজেটিভ এসেছে। ওনাকে নিয়ম মেনে চলার জন্য বলা হয়েছে। চেয়ারম্যানের করোনা পজেটিভ হওয়ার পর থেকে আমিও দাপ্তরিক কার্যক্রম কমিয়ে দিয়েছি।

প্রতিদিন মাত্র দুই ঘন্টা অফিসে অবস্থান নেই। অফিসের সবাইকে বলে দেয়া হয়েছে যেন চেয়ারম্যানের বাড়িতে কেউ না যান। এখন যদি চেয়ারম্যানের বাড়িতে লোকজন যেয়ে থাকেন তাহলে এ বিষয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেয়া হবে।


সিএনআই’র প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।