শনিবার, ৪ঠা জুলাই, ২০২০ ইং

তিস্তার পানি বিপদসীমার ওপর

প্রকাশিত: ১২:৫০ অপরাহ্ণ , জুন ২৯, ২০২০

তিস্তার পানি বিপদসীমার ওপর

নজরুল ইসলাম রাজু, রংপুর ব্যুরোঃ  ভারী বর্ষণ ও পাহাড়ি ঢলে নদ-নদীর পানি বৃদ্ধি অব্যাহত রয়েছে।  কুড়িগ্রাম,নীলফামারী,লালমনিরহাটে তিস্তা ও ব্রহ্মপুত্র পানি বিপৎসীমা অতিক্রম করেছে। উত্তরাঞ্চলের বেশ কিছু জেলায় পানি বন্ধি হয়ে পড়ছে লাখে মানুষ।

কুড়িগ্রামে নদ-নদীগুলোর পানি বৃদ্ধির গতি কমে আসছে।ধরলা,দুধকুমার এবং ব্রহ্মপুত্র নদের পানি ধীর গতিতে বৃদ্ধি পেয়ে এখনও বিপদসীমার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে।নদী সংলগ্ন এলাকা এবং নিম্নাঞ্চলসমূহে আরো প্লাবিত হয়েছে।

কুড়িগ্রাম পানি উন্নয়ন বোডের্র বন্যা নিয়ন্ত্রণের তথ্য অনুযায়ী,গত ১২ ঘন্টায় ধরলা ব্রীজ পয়েন্টে পানি ৩ সে.মি. বৃদ্ধি পেয়ে বিপদসীমার ৭৬ সে.মি. ওপর এবং নুনখাওয়া পয়েন্টে দুধকুমারের পানি ৩ সে.মি. বৃদ্ধি পেয়ে বিপদসীমার ৬৪ সে.মি. ওপর এবং চিলমারী উপজেলার চিলমারী ঘাট পয়েন্টে ব্রহ্মপূত্রের পানি ৪ সে.মি. বৃদ্ধি পেয়ে বিপদসীমার ৭৭ সে.মি. ওপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। রংপুরের কাউনিয়া উপজেলার ঘাট পয়েন্টে গত ১২ ঘন্টায় তিস্তা নদীর পানি ২ সে.মি. বৃদ্ধি পেয়ে বিপদসীমার ১৯ সে.মি. নীচ দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। ভারী বর্ষণ ও নদীর উজানী ঢলের কারণে কুড়িগ্রামে ১৬টি নদ-নদীর পানি বৃদ্ধি পাচ্ছে।ধরলা, দুধকুমার এবং ব্রহ্মপুত্র নদের পানি বিপদসীমার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হওয়ায় নদী সংলগ্ন এলাকাসমূহে বন্যা পরিস্থিতি ক্রমান্বয়ে অবনতি ঘটেছে।প্রায় লক্ষাধিক মানুষ পানিবন্দি হয়ে পড়েছে।

কুড়িগ্রাম পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী মো.আরিফুল ইসলাম জানান, আগামী দুই থেকে তিন দিনের মধ্যে ধরলা ও তিস্তার পানি কমে গেলেও দুধকুমার ও ব্রহ্মপুত্রের পানি বৃদ্ধি অব্যাহত থাকবে।

উত্তরাঞ্চলে কুড়িগ্রাম,গাইবান্ধা, রংপুর, লালমনিরহাট,নীলফামারী, বগুড়া,দিনাজপুর, আগামী দুই সপ্তাহ বন্যার
পানি বাড়তে পারে। তবে আগামী এক সপ্তাহের মধ্যে দেশের অন্তত পাঁচটি নদীর পানি পাশের জেলাগুলোয়
ছড়িয়ে পড়তে পারে।ব্রহ্মপুত্র, যমুনা, তিস্তা, পদ্মা, আত্রাই ও হাওর এলাকার নদীগুলোর পানি বিপৎসীমা অতিক্রম করতে পারে।

আগামী এক সপ্তাহ ভারতের এসব রাজ্যে ভারি বৃষ্টির পূর্বাভাস রয়েছে।বন্যা পূর্বাভাস ও সতর্কীকরণ কেন্দ্রের
পূর্বাভাস অনুযায়ী, দেশের বিভিন্ন নদ–নদীর ১০২টি পয়েন্টের মধ্যে ৭৮টির পানি বাড়ছে। সবচেয়ে দ্রুত বাড়ছে
ব্রহ্মপুত্র ও তিস্তার পানি। আগামী ৪৮ ঘণ্টার মধ্যে পদ্মার পানিও বিপৎসীমা অতিক্রম করে যেতে পারে।
নীলফামারীর সংবাদদাতা ও পানি উন্নয়ন বোর্ডের কর্মকর্তা জানান,সোমবার সকালে দেশের সর্ববৃহৎ
তিস্তা ব্যারাজের নীলফামারীর ডালিয়া পয়েন্টে তিস্তার পানি বিপদসীমার ২ সেন্টিমিটার ওপর দিয়ে প্রবাহিত
হলেও সকাল ৯টায় আরো দুই সেন্টিমিটার কমে আসে।

ডালিয়া পয়েন্টে তিস্তার বিপদসীমা ৫২ দশমিক ৬০ মিটার।বর্তমানে পানির প্রবাহ চলছে ৫২ দশমিক ৮০
মিটার। সুত্র মতে উজানের ঢল বৃদ্ধি পাচ্ছে।তিস্তার ডালিয়া পানি উন্নয়ন বোর্ডের বন্যা পূর্বাভাস ও সর্তকীকরন
কেন্দ্র বিষয়টি নিশ্চিত করে জানায়,গত ২৪ ঘন্টায় তিস্তা অববাহিকায় বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়েছে ৭৭
মিলিমিটার।

পানি উন্নয়ন বোর্ডের উত্তরাঞ্চলের প্রধান প্রকৌশলী জ্যোতি প্রসাদ ঘোষ জানান,পরিস্থিতি সামাল দিতে দেশের
সর্ববৃহৎ তিস্তা ব্যারাজের ৪৪ জলকপাট ২৪ ঘন্টায় খুলে রাখা হয়েছে।তিস্তা ব্যারাজের ফাড বাইপাস (ফাড
ফিউজ) এর কাছে ঢলের পানি এখনও ৪ ফিড নিচে থাকায় লাল সংকেত জারি করার পরিস্থিতি এথনও হয়নি।
প্রতিনিধিরা ও পানি উন্নয়ন বোর্ড জানায়,তিস্তাপাড়ের মানুষজনকে নিরাপদে থাকতে বলা হয়েছে।এদিকে ভারী
বর্ষন উজানের ঢলে তিস্তা নদীতে সৃষ্ট বন্যায় ডিমলা উপজেলার পূর্বছাতনাই, খগাখড়িবাড়ি, টেপাখড়িবাড়ি,
খালিশা চাঁপানি, ঝুনাগাছ চাঁপানি, গয়াবাড়ি এবং জলঢাকা উপজেলার গোলমুন্ডা,ডাউয়াবাড়ি,শৌলমারী ও
কৈমারী ইউনিয়নের প্রায় ১৫টি চরের ৫ হাজার পরিবারে ২০ হাজার মানুষ বন্যাকবলিত হয়েছে।

পাউবো সূত্র জানায়, ভারী বর্ষণ আর উজান থেকে নেমে আসা ঢলে রংপুর অঞ্চলের প্রধান নদী তিস্তা, ধরলা,
ব্রহ্মপুত্র, সানিয়াজান ও দুধকুমার নদীর পানি বৃদ্ধি পেয়ে বিপৎসীমার উপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে।গতকাল
রোববার (২৮ জুন) ১২টায় রাতে তিস্তার পানি ব্যারেজ পয়েন্টে ২২ সেন্টিমিটার, ধরলার পানি ব্রীজ পয়েন্টে ৭৩

সেন্টিমিটার, ব্রহ্মপুত্রের পানি চিলমারী পয়েন্টে ৭৩ সেন্টিমিটার, নুনখাওয়া পয়েন্টে ৭১ সেন্টিমিটার উপর দিয়ে
প্রবাহিত হচ্ছে। রংপুর বিভাগীয় কমিশনার কে এম তারিকুল ইসলাম জানান, রংপুর অঞ্চলের বৃহৎ ৪টি নদীর পানি বৃদ্ধি পাওয়ায় নিমম্নঞ্চল প্লাবিত হয়েছে। বন্যা কবলিত ৫টি জেলায় ১৯ লাখ ২৬ হাজার টাকা ও ৭ শ’ ৪৫ মে. টন জিআরের চাল বরাদ্ধ দেওয়া হয়েছে। সরকারি হিসাব মতে রংপুর অঞ্চলের ৫ জেলার ১০৩টি ইউনিয়নের প্রায় ৭৪ হাজার মানুষ পানিবন্দি হয়ে আছে।


সিএনআই’র প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।