শনিবার, ৪ঠা জুলাই, ২০২০ ইং

তিস্তার বুকে একদিকে কান্না একদিকে করোনা, বন্যার ত্রানও আসে না!  

প্রকাশিত: ৫:০১ অপরাহ্ণ , জুন ২৯, ২০২০

তিস্তার বুকে একদিকে কান্না একদিকে করোনা, বন্যার ত্রানও আসে না!  
লালমনিরহাট  প্রতিনিধিঃ    লালমনিরহাটে বন্যা পরিস্থিতির সার্বিক অবনতি হয়েছে। ভারি বর্ষণ ও তিস্তার পানি বৃদ্ধিতে অসহায় হয়ে পড়েছে নদী পাড়ের সাধারন মানুষেরা। এক দিকে বন্যা অন্য দিকে করোনায় মানুষ দিশাহারা হয়ে পড়েছে, নেই কোন সরকারি বে- সরকারি ত্রান তৎপরতা ।উজানের ঢলে পানি বৃদ্ধি অব্যাহত থাকায় লালমনিরহাটের ৫ উপজেলার নদী তীরবর্তী ১৬টি ইউনিয়নের প্রায় ৪০ হাজার মানুষ পানিবন্দি হয়ে পড়েছে। পানিতে তলিয়ে গেছে প্রায় ৮শত হেক্টর পাট, ভুট্টা ও চিনা বাদাম ক্ষেত।
সোমবার  বিকেল ৩টা থেকে দেশের সর্ববৃহৎ তিস্তা ব্যারাজের ডালিয়া পয়েন্টে তিস্তার পানি ধীরে ধীরে বৃদ্ধি পেয়ে বিপদসীমার ২০ সেন্টিমিটার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হয়ে সকাল ৯টায় ১৫ সেন্টিমিটার ও দুপুর ১২ টায় ১৫ কমে আসে। ব্যারাজটি নিয়ন্ত্রনে রাখতে ৪৪ টি গেট খুলে দিয়েছে পানি উন্নয়ন বোর্ড।গত শুক্রবার (২৬ জুন) সকাল থেকে দেশের বৃহত্তম সেচ প্রকল্প তিস্তা ব্যারাজ ডালিয়া পয়েন্টে তিস্তার পানি প্রবাহ রেকর্ড করা হয় ৫২ দশমিক ৮০ সেন্টিমিটার। যা বিপদসীমার ২০ সেন্টিমিটার (স্বাভাবিক ৫২ দশমিক ৬০ সেন্টিমিটার) উপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে।
তিস্তার ডালিয়া পানি উন্নয়ন বোর্ডের বন্যা পূর্বাভাস ও সর্তকীকরণ কেন্দ্র বিষয়টি নিশ্চিত করে জানায়, গত ২৪ ঘণ্টায় তিস্তা অববাহিকায় বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়েছে ৭৭ মিলিমিটার। পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী রবিউল ইসলাম জানিয়েছেন, তিস্তার পানি রোববার বিকেল থেকে বিপদসীমার ২০ সেন্টিমিটার উপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। তিস্তা পাড়ের মানুষজনকে নিরাপদে থাকতে বলা হয়েছে। ভারি বর্ষণ ও উজানের ঢলে তিস্তা নদীতে সৃষ্ট বন্যায় হাতীবান্ধার উপজেলার তিস্তার নদীর পানি বৃদ্ধি পাওয়ার কারণে ওই ইউপির বেশকিছু এলাকায় নদীর পানি ঢুকে পড়েছে। ওইসব এলাকার অনেক বসতবাড়িতে পানি উঠেছে। এতে লোকজন পানিবন্দি হয়ে পড়েছে। আদিতমারী, কালীগঞ্জ, হাতীবান্ধা ও সদর উপজেলার ১৬টি ইউনিয়নের ৪০টি গ্রামের নদী তীরবর্তী নিম্নাঞ্চল প্লাবিত হয়ে বন্যায় রুপ নিয়েছে।
এতে প্রায় ১০ হাজার পরিবারের ৪০ হাজার মানুষ পানিবন্দী হয়ে পড়েছে। গ্রামীন রাস্তা ঘাট ও পাকা সড়ক ডুবে গেছে। বসতভিটায় পানি ঢুকে পড়ায় চরম বিপাকে পড়েছে বানভাসী মানুষ। পানির টিউবওয়েলগুলো ডুবে যাওয়ায় বিশুদ্ব পানির সংকট দেখা দিয়েছে পানিবন্দিএলাকাগুলোতে। হাতীবান্ধা উপজেলার গড্ডিমারী, সিংঙ্গীমারী, সিন্দুর্না,পাটিকাপাড়া ও ফকিরপাড়া ইউনিয়নের তিস্তা ও সানিয়াজান নদীর ভাঙ্গনে প্রায় দুইশত পরিবার ঘর বাড়ি নদীর গর্ভে বিলিন হয়ে গেছে। পরিবার গুলো ঘরবাড়ি হারিয়ে স্থানীয় বাধের রাস্তায় পরিবার নিয়ে আশ্রায় নিয়ে বসবাস করছেন।আদিতমারী উপজেলার মহিষখোচা ইউনিয়নের গোবরর্ধন গ্রামের গোলে নূরের (৭০) ঘরে বন্যার পানি ঢুকে পড়ায় গত শুক্রবার থেকে চৌকির উপর শুয়ে বসে তার দিন কাটছে। ঘরে খাবার নেই। খুব কষ্টে আছি।হাতীবান্ধার গড্ডিমারী ইউপির চেয়ারম্যান আতিয়ার রহমান বলেন, যেভাবে তিস্তা নদীর পানি বৃদ্ধি পাচ্ছে তাতে করে এই ইউপির মানুষ অত্যন্ত ঝুঁকির মধ্যে রয়েছে। পানি বন্দি পরিবার গুলোর জন্য যে ত্রাণ পাওয়া গেছে তা চাহিদার তুলনায় অপতুল।
জেলা  কৃষি সম্প্রসারন অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক শামীম আশরাফ জানান, আমন বীজতলা ৬৭ হেক্টর, ভুট্টা ১০ হেক্টর, বাদাম ১ হেক্টর ও রোপা আউস বীজতলা ৫ হেক্টর আবাদী জমি পানিতে তলিয়ে গেছে। এ সব জমি দীর্ঘসময় জলমগ্ন থাকলে আবাদ নষ্ট হয়ে যেতে পারে।লালমনিরহাটের জেলা প্রশাসক আবু জাফর জানান, তিস্তার পানি বৃদ্ধি পাওয়ায় নিম্নাঅঞ্চল প্লাবিত হয়েছে। বন্যা কবলিত এলাকায় ৬ লাখ ২৬ হাজার টাকা ও ৮০ মেট্রিকটন জিআরের চাল বরাদ্ধ দেওয়া হয়েছে।


সিএনআই’র প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।