শনিবার, ৪ঠা জুলাই, ২০২০ ইং

করোনা সংকট: চাকরিতে প্রবেশের বয়সসীমা বাড়ানো সময়ের দাবি

প্রকাশিত: ১১:১৫ অপরাহ্ণ , জুন ২৯, ২০২০

করোনা সংকট: চাকরিতে প্রবেশের বয়সসীমা বাড়ানো সময়ের দাবি

সিএনআই ডেস্কঃ বৈশ্বিক মহামারি করোনাভাইরাসের কারণে সৃষ্ট দুর্যোগে কবলিত পুরো বিশ্ব। স্থবির হয়ে আছে পৃথিবীর প্রায় সব দেশের স্বাভাবিক জীবন। বাংলাদেশেও গত তিন মাস ধরে চলছে প্রায় অচলাবস্থা। কর্মক্ষেত্র থেকে শুরু করে শিক্ষাখাত, সবই বন্ধ হয়ে আছে। যার ফলে এক বছরের সেশনজটে পড়েছে শিক্ষার্থীরা।

এমন অবস্থায় চাকরিতে প্রবেশের বয়সসীমা ৩৫ করা জরুরি বলে দাবি চাকরিপ্রার্থীদের। করোনার কারণে যাদের বয়সসীমা অতিক্রম হয়ে গেছে, তাদের বয়সের বিষয়টি বিবেচনা করার জন্য জনপ্রশাসন মন্ত্রনালয় থেকে প্রধানমন্ত্রীর কাছে প্রস্তাবনা পাঠানো হবে বলে জানা গেছে। বিষয়টি কার্যকর হলে করোনায় যাদের বয়স চলে গেছে তাদের চাকরিতে প্রবেশের সুযোগ টিকে থাকবে।

চাকরিতে প্রবেশের বয়স ন্যূনতম ৩৫ করার বিষয়ে শিক্ষার্থী ও চাকরিপ্রার্থীদের বিভিন্ন যুক্তি উঠে এসেছে। তার কয়েকটি উল্লেখ করা হলো-
১. গড় আয়ুর বিবেচনা করে সরকারি চাকরিতে প্রবেশ ও অবসরের বয়স বাড়ানো হয়। ১৯৯০ সালে গড় আয়ু যখন ৫৮ বছর ছিলো, সেই হিসেবে ১৯৯১ সালে চাকরীতে প্রবেশের বয়স ২৭ থেকে বাড়িয়ে ৩০ করা হয়। ২৯ বছর পর বর্তমানে গড় আয়ু ৭২ বছর, সে হিসেবে প্রবেশের বয়স দাড়ায় ৪৩.২০।
২. ২০১১ সালের ২৬ ডিসেম্বর অবসরের বয়স ৫৭ থেকে বাড়িয়ে ৫৯ করা হয় কিন্তু অবসরের বয়স বাড়ানোর সাথে তাল মিলিয়ে সেই সময়ে প্রবেশের বয়স বাড়ানো হয়নি।
৩. আজকের যুবক সমাজই আগামীর ভবিষ্যৎ। জাতীয় যুবনীতি ২০১৭ অনুসারে ১৮-৩৫ বছরের সবাইকে যুবক বলে গণ্য করা হবে। তবে ৩০ বছর পার হয়ে গেলে উচ্চশিক্ষিত একজন কেন চাকরিতে আবেদন করার যোগ্যতা হারাবে?
৪. পিএসসি-সহ অন্যান্য প্রথম এবং দ্বিতীয় শ্রেণীর চাকরীতে প্রবেশের সর্বোচ্চ এবং সর্বনিম্ন বয়সসীমা ২১-৩০, যেটা সত্যি হাস্যকর। বর্তমান প্রেক্ষাপটেও বেশিরভাগ ছাত্র-ছাত্রী ২৪ বছরের আগে অনার্স শেষ করতে পারে না। ২১-৩০ না হয়ে ২৪-৩৫ হওয়া কী যুক্তিযুক্ত নয়?
৫. বর্তমানে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা উন্নত বিশ্বের সাথে তাল মিলিয়ে দেশকে এগিয়ে নিচ্ছেন। বিশ্বের উন্নত দেশগুলোসহ ১৬২টি দেশে প্রবেশের ঊর্ধ্বসীমা ন্যূনতম ৩৫ বা তার বেশি এমনকি প্রতিবেশী দেশ ভারতেও চাকরিতে প্রবেশের বয়স ৩৫। তাহলে বাংলাদেশ কেন ৩০-এ বন্দি?
৬. ২০০০ সাল থেকে ২০১৫ পর্যন্ত শুধু হরতাল-অবরোধের জন্য ২ বছরেরও অধিক সময় উচ্চ শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলো বন্ধ থেকেছে। পাশাপাশি আরো অনেক কারণ মিলে দীর্ঘ সেশনজট তৈরি হয়েছে উচ্চ শিক্ষা ব্যবস্থায়। এতে করে একটা বড় অংশের শিক্ষার্থীরা চাকরিতে আবেদনের জন্য পর্যাপ্ত সময় না পেয়ে নিজের যোগ্যতার প্রমাণ দিতে না পেরে এখনো বেকার রয়েছে। করোনা পরিস্থিতিতে যাদের সময় নষ্ট হয়েছে তাদের জন্য প্রণোদনার পাশাপাশি বিগত বছরগুলোতে যারা বিভিন্ন পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয় ও জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয় থেকে অনার্স এবং মাস্টার্স সম্পন্ন করতে কমকরে ৩-৪ বছরের সেশনজটের যাতাকলে পিষ্ট হয়েছে তাদের জন্য আগামী ৩-৪ বছর চাকরীতে আবেদনের জন্য বিশেষ সুযোগ দেওয়া হোক (যদি সামগ্রিকভাবে ৩৫ করা সম্ভব না হয়)।
৭. বর্তমান সময়ে করোনার মতো ভয়াবহ পরিস্থিতির কারণে দেশের বেসরকারি খাতগুলো পুনরায় জেগে উঠতে অনেক সময় লাগবে। আর বেসরকারি খাতেও ৩০ বছরের পর আবেদন করা যায় না। সরকারি চাকরিতে প্রবেশের বয়স নূন্যতম ৩৫ করলে লাখো বেকার সরকারিতে না পারলেও বিভিন্ন বেসরকারি জবেও ঢুকতে পারবে।
বঙ্গবন্ধুর মন্তব্যের উদাহরণ টেনে চাকরিপ্রার্থীরা বলছেন, জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান বলে গেছেন- দাবি যদি ন্যায্য হয় আর সেটা যদি একজনও করে তবে সেই দাবি মেনে নেওয়া হবে। তাই সার্বিক দিক বিবেচনা করে চাকরিতে প্রবেশের বয়সসীমা ন্যূনতম ৩৫ করা এখন সময়ের দাবি।


সিএনআই’র প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।