শনিবার, ৪ঠা জুলাই, ২০২০ ইং

অ্যাম্বুলেন্স জিম্মি করে হোন্ডা বাহিনীর বেপরোয়া চাঁদাবাজি

প্রকাশিত: ১২:৫৩ অপরাহ্ণ , জুন ৩০, ২০২০

অ্যাম্বুলেন্স জিম্মি করে হোন্ডা বাহিনীর বেপরোয়া চাঁদাবাজি

 

সিএনআই ডেস্কঃ চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ (চমেক) হাসপাতালে রোগী ও লাশ পরিবহনে নিয়োজিত অ্যাম্বুলেন্স নিয়ন্ত্রণ করছে ‘হোন্ডা বাহিনী’ নামের একটি সন্ত্রাসী গ্রুপ।

গত ৩ মাস ধরে প্রশাসনের নাকের ডগায় চমেক হাসপাতাল ঘিরে আধিপত্য বিস্তার করেছে এ গ্রুপটি। অ্যাম্বুলেন্স চালক-মালিক না হয়েও হাসপাতালে আগত রোগী-স্বজনের সঙ্গে ভাড়া ঠিকঠাক ও দরদাম করছে তারা। পাঁচ হাজার টাকার ভাড়া রোগীর স্বজনের কাছ থেকে আদায় করছে ২০ হাজার টাকা।

আর সেই ভাড়ার এক-তৃতীয়াংশ রেখে দিচ্ছে হোন্ডা বাহিনী। অবশিষ্ট টাকা ধরিয়ে দিচ্ছে অ্যাম্বুলেন্স চালক-মালিকদের। এ নিয়ে কেউ প্রতিবাদ করলেই মারধরের শিকার হতে হয়। এ পর্যন্ত বেশ কয়েকজন অ্যাম্বুলেন্স চালক তাদের মারধরে আহত হয়েছেন।

সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে থানায় অভিযোগ দেয়া হলেও অদৃশ্য কারণে নীরব ভূমিকা পালন করছে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী। ফলে দিনের পর দিন আরও বেপরোয়া হয়ে উঠেছে গ্রুপটি।

অভিযোগ রয়েছে, চমেক হাসপাতাল থেকে রোগী ও লাশ পরিবহনের জন্য অ্যাম্বুলেন্স প্রয়োজন হলেই অতিরিক্ত বা বাড়তি ভাড়ায় অ্যাম্বুলেন্স নিতে স্বজনদের বাধ্য করে হোন্ডা বাহিনী। স্বজনরা চাইলেও বাইরের কোনো অ্যাম্বুলেন্স আনতে পারে না চমেক হাসপাতাল এলাকায়।

বাধ্য হয়েই সন্ত্রাসী গ্রুপটির নিয়ন্ত্রণে থাকা অ্যাম্বুলেন্স নিয়ে যেতে হচ্ছে। এ নিয়ে বাড়াবাড়ি করলে অ্যাম্বুলেন্স ছাড়াই হাসপাতাল ত্যাগ করতে হয়। অপরদিকে হোন্ডা বাহিনীর লোকজন ছাড়া রোগী-স্বজনের সঙ্গে ভাড়া ঠিক করতে পারছেন না অ্যাম্বুলেন্স চালক-মালিকরা। এ নিয়ে ব্যতিক্রম হলেই চালক-মালিকদের মারধরের শিকার হতে হচ্ছে। অনেক সময় রোগীর স্বজনরাও মারধরের শিকার হন।

সর্বশেষ বৃহস্পতিবার রাত ১টায় মারধরের শিকার হন মো. আলমগীর হোসেন নামের অ্যাম্বুলেন্স (চট্ট মেট্রো-চ-১১-০৩৬০) চালক। ওই দিন চমেক হাসপাতাল থেকে নগরীর কর্ণফুলী থানার মইজ্জ্যারটেক এলাকায় একটি লাশ নিয়ে যাওয়ার ভাড়া ঠিক করলে হোন্ডা বাহিনীর সন্ত্রাসীরা তাকে মারধর করে।

শুধু বৃহস্পতিবার নয় শুক্রবারও হাসপাতালের জরুরি বিভাগের সামনে দ্বিতীয় দফায় তাকে প্রকাশ্যে মারধর করা হয়। গুরুতর আহত অবস্থায় আলমগীরকে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। এ নিয়ে পাঁচলাইশ থানায় তানভীর ও সুমন নামে দু’জনের নাম উল্লেখ করে অভিযোগও দায়ের করা হয়েছে।

তবে রোববার পর্যন্ত থানা পুলিশের পক্ষ থেকে কোনো ধরনের ব্যবস্থা নেয়া হয়নি। বরং থানা-পুলিশের পক্ষ থেকে আপস-মীমাংসার জন্য আলমগীরের ওপর চাপ দেয়া হচ্ছে। পুলিশের প্রশ্রয়েই হোন্ডা বাহিনী রোগী ও লাশ পরিবহনের মতো সার্ভিসে চাঁদাবাজি করছে বলে অনেকের অভিযোগ।

অ্যাম্বুলেন্স চালক আলমগীর হোসেন বলেন, মইজ্জ্যারটেক এলাকায় একটি লাশ নিয়ে যাওয়ার ভাড়া ঠিক করার কারণে আমার কাছে ভাড়ার সমপরিমাণ টাকা চাঁদা দাবি করা হয়। না দেয়ায় সন্ত্রাসীরা আমাকে মারধর করে। পরদিনও দ্বিতীয় দফায় মারধর করে আমার তিনটি দাঁত ফেলে দেয়।

পরে আমার গাড়ির মালিক এসে আমাকে হাসপাতালে ভর্তি করান। হাসপাতালের জরুরি বিভাগের সিসি ক্যামেরায় সব প্রমাণ রয়েছে। অভিযোগ দেয়ার পরও পুলিশ তাদের ধরছে না।

প্রত্যক্ষদর্শী ও ভুক্তভোগী শফিক আহমেদ জানান, ‘শনিবার রাতে আমার মায়ের লাশ চমেক হাসপাতাল থেকে গ্রামের বাড়ি নোয়াখালী নিয়ে যেতে চাইলে অ্যাম্বুলেন্স ঠিক করতে যাই। কিন্তু কোনো চালক ভাড়া নিয়ে কথা বলতে রাজি ছিল না।

দেখি ১০-১২ জনের একটি গ্রুপ সব অ্যাম্বুলেন্সের ভাড়া ঠিক করে দিচ্ছে। ওই গ্রুপের লোকজনের হাতে ভাড়ার টাকা পরিশোধ করতে হয়। ৫ হাজার টাকার ভাড়া ১৫ হাজার টাকায় ঠিক করতে বাধ্য হই।’

জানতে চাইলে চমেক হাসপাতাল পুলিশ ফাঁড়ির ইনচার্জ জহিরুল হক ভূঁইয়া বলেন, বিষয়টি শুনে অভিযুক্ত সুমনকে ফাঁড়িতে নিয়ে আসি। পরে তদন্তকারী অফিসারের কথায় তাকে ছেড়ে দেই।

অভিযোগ তদন্তকারী পাঁচলাইশ থানার এএসআই প্রণব সরকার বলেন, মারমারির ঘটনায় থানায় অভিযোগ দায়ের হয়। এ নিয়ে অ্যাম্বুলেন্স অ্যাসোসিয়েশনের পক্ষ থেকে মীমাংসা করা হবে বলে আমাকে জানানো হয়। যদি তারা (সংগঠনের) কোনো সমাধান না করে তাহলে আইনগত ব্যবস্থা নেয়া হবে।


সিএনআই’র প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।