মঙ্গলবার, ৪ঠা আগস্ট, ২০২০ ইং

কুমারখালীতে সড়কের বেহাল দশা বেড়েছে জনদুর্ভোগ

প্রকাশিত: ৫:২০ অপরাহ্ণ , জুলাই ৪, ২০২০

কুমারখালীতে সড়কের বেহাল দশা বেড়েছে জনদুর্ভোগ
কুষ্টিয়া প্রতিনিধিঃ বিশ্বব্যাপী মহামারী করোনা ভাইরাসের প্রাদুর্ভাবে থমকে গেছে জীবণ।থেমে গেছে অর্থনৈতিক চাকাসহ গ্রামীণ অবকাঠামোগত উন্নয়ন।ফলে বেড়ে গেছে জনদুর্ভোগ। দীর্ঘ একযুগ পরে প্রায় ১৫ কোটি টাকা ব্যয়ে মাত্রই শুরু হয়েছিল কুষ্টিয়ার কুমারখালী উপজেলার দক্ষিণাঞ্চলীয় পাঁচ ইউনিয়ন বাসীর সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ জিকে ক্যানাল সংলগ্ন সান্দিয়ারা থেকে লাহিনী পাড়া পর্যন্ত ১৫ কিলোমিটার গ্রামীণ রাস্তার কাজ । ।কিন্তু মহামারি করোনা ভাইরাসের ভয়াল থাবায় থেমে গেছে।কাজ ।  ফলে জনদুর্ভোগ বেড়েই চলেছে।
রাস্তাটির  প্রতি কদমে কদমে গর্ত, কোথাও কোথাও আবার ছোট খাটো পুকুর,একটু বৃষ্টিতেই জমে পানি। মাঝে মাঝে রাস্তার দুপাশ ভাঙা। গাড়িতে উঠলেই ঝাঁকুনি আর ঝাঁকুনি। প্রতিদিইন উল্টে যায়,ভেঙে যায় মাল ও যাত্রীববাহী গাড়ী,  বিকল হয়ে পরে থাকে যানবহন। রাস্তা দিয়ে চলাচলকারী সুস্থ মানুষ গুলোও অসুস্থ যায়, আর অসুস্থ মানুষের কথাতো বলাই বাহল্য। সব মিলে চরম ভোগান্তি আর বেহাল দশা এবং মৃত্যুর ফাঁদে পরিনিত হয়ে আছে রাস্তাটি।জানা যায়, উপজেলার দক্ষিণাঞ্চলীয় যদুবয়রা,  চাপড়া, বাগুলাট,চাদপুর ও পান্টি ইউনিয়ন বাসীর রাজধানী ও জেলা শহরে যোগাযোগের একমাত্র রাস্তা এটি।
এছাড়াও পার্শ্ববর্তী ঝিনাইদহ জেলার শৈলকূপা উপজেলা বাসীও তাদের নিত্য প্রয়োজন মেটাতে ব্যবহার করে এই রাস্তাটি।এ অঞ্চলের মানুষ এই রাস্তা দিয়েই পার্শ্ববর্তী আরো একটি জেলা মাগুড়াতে যাওয়া আসা করে। ফলে এই রাস্তা দিয়ে প্রতিদিন হাজার হাজার যানবহন ও মানুষের চলাচল।কিন্তু কর্তৃপক্ষের উদাসীনতা ও জনপ্রতিনিধিদের অবহেলায় রাস্তাটি নির্মানের পর আর কোনোদিন সংস্কারের মুখ দেখিনি।ফলে সৃষ্টি হয়েছে ব্যাপক খানাখন্দ, রাস্তার দুপার ভেঙে চলে গেছে।সবমিলে বর্তমানে রাস্তাটি এখন চলার সম্পূর্ণ অনুপযোগী।তবুও জীবনের ঝুঁকি নিয়ে নিত্যদিনের প্রয়োজন মেটাতে চলাচল করছে মানুষ।
এতে প্রতিদিনই প্রায় সংঘটিত হচ্ছে সড়ক দুর্ঘটনা।এবিষয়ে এই রাস্তা দিয়ে চলাচলকারী অটো গাড়ী চালক আমিরুল ইসলাম বলেন, আমি প্রতিদিন যদুবয়রা থেকে লাহিনী পর্যন্ত অটো গাড়ী চালিয়ে জীবিকা নির্বাহ করি।রাস্তায় শতশত গর্ত, কোথাও বা পুকুরের মত।বৃষ্টি হলেই জমে পানি। রাস্তার পিচ ঢালায় অনেক আগেই উঠে গেছে, ২০ মিনিটের পথ যেতে ৪০-৫০ মিনিট সময় লাগে, প্রতিদিনই প্রায় অটো সহ অন্যান্য গাড়ী উল্টে যায়, যাত্রী আহত হয়, মানুষ ভয়তে কোনো গাড়িতেই উঠতে চাইনা।
আরো একজন গাড়ী চালক আনিসুর রহমান বলেন, এই রাস্তা দিয়ে একজন সুস্থ মানুষ কুষ্টিয়া পর্যন্ত যাওয়া আসা করলে অসুস্থ হয়ে যায়, আর কোনো অসুস্থ মানুষ এই রাস্তা দিয়ে যেতেই চাইনা।গর্ভবতী মহিলাদের জন্য মৃত্যুর কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে রাস্তাটি।
এই রাস্তা দিয়ে যাতায়াত কারী একজন ট্রাক ডাইভার বলেন, মাল বোঝায় গাড়ী মাঝে মাঝে গর্তে আটকে থাকে, ভেঙে যায়, চরম ভোগান্তি পোহাতে হয়।তিনি আরো বলেন, এই রাস্তাটি সংস্কারের কাজ শুরু হওয়ার কদিন পরেই বন্ধ হয়ে গেছে।রাস্তাটি সংস্কারের বিষয়ে কুমারখালী উপজেলা প্রকৌশলী মাহবুব আলম বলেন, জিকে ক্যানাল সংলগ্ন রাস্তাটি ০০ কিঃমিঃ থেকে ১৫ কিঃমিঃ (সান্দিয়ারা টু লাহিনী কুমারখালীর অংশ) পর্যন্ত ৫. ৫ মি কার্পেটিং এবং সোল্ডার সহ মোট ৭.৩২ মিটার চওড়া করার জন্য ১৫ কোটি ৭ লক্ষ ৪৯ হাজার ৮৫৩ টাকা ব্যয়ে মাত্রই সাইডে মাটির কাজ শুরু হয়েছিল।কিন্তু মহামারী করোনা ভাইরাসের প্রবল থাবায় থেমে গেছে কাজ।তিনি আরো জানান,পরিস্থিতি স্বাভাবিক হলেও আশা করছি কাজ শুরু হবে।
উলেখ্য যে, কুষ্টিয়া রাজবাড়ী আর এন্ড  এইচ পান্টি জিসি ভায়া যদুবয়রা সান্দিয়ারা বাজার সড়ক উন্নয়ন  কাজের মাধ্যমে  এলজিইডি প্রকল্পের ২৫ আর ডি সড়কটি পথ চলাচলের জন্য  বাস্তবায়ন করা হয় এক যুগেরও অধিক সময় পূর্বে।


সিএনআই’র প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।