মঙ্গলবার, ৪ঠা আগস্ট, ২০২০ ইং

সিলেটে টিউশন ফি না দেয়ায় ১৪৮ শিক্ষার্থীর ফল স্থগিত রাখা হয়েছে

প্রকাশিত: ১২:১৯ অপরাহ্ণ , জুলাই ৭, ২০২০

সিলেটে টিউশন ফি না দেয়ায় ১৪৮ শিক্ষার্থীর ফল স্থগিত রাখা হয়েছে

 

সিএনআই ডেস্কঃ সিলেটে বার্ষিক পরীক্ষার ফি নিয়ে কোনো ধরনের পরীক্ষা না নিয়েই অ্যাসেসমেন্টের মাধ্যমে একটি ইংলিশ মিডিয়াম স্কুলের ফল প্রকাশ করা হয়েছে। এর মধ্যে টিউশন ফি না দেয়ায় ১৪৮ শিক্ষার্থীর ফল স্থগিত রাখা হয়েছে।

এ নিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন অভিভাবকরা। সিলেট নগরীর হাউজিং এস্টেটে অবস্থিত ব্রিটিশ বাংলাদেশ ইন্টারন্যাশনাল স্কুল অ্যান্ড কলেজের বিরুদ্ধে এমন অভিযোগ পাওয়া গেছে।

রোববার প্রকাশিত ফলে দেখা যায়, ইংলিশ মিডিয়ামের ২৬১ জন শিক্ষার্থীর মধ্যে ১১৩ জনের ফল প্রকাশ করা হয়েছে। টিউশন ফি না দেয়ায় বাকি ১৪৮ জনের ফল স্থগিত রাখা হয়েছে।

২৬ জুন স্কুলের সাধারণ অভিভাবক প্রতিনিধি অ্যাডভোকেট আবদুল মুকিত অপি ও মহিলা অভিভাবক প্রতিনিধি স্নিগ্ধা জাহাঙ্গীর লিখিতভাবে ম্যানেজিং কমিটির সভাপতি কয়ছর জাহানের কাছে করোনাকালীন চার মাসের টিউশন ফি অর্ধেক হারে গ্রহণ ও ফি পরিশোধ করার সময় বাড়ানোর অনুরোধ জানান। করোনার কারণে গত মার্চ থেকে স্কুল বন্ধ রয়েছে। হয়নি কোনো ধরনের অনলাইন ক্লাসও।

এ অবস্থায় শিক্ষার্থীদের ফল স্থগিত রাখার সিদ্ধান্ত জানার পর সিলেট ইংলিশ মিডিয়াম স্কুল অভিভাবক অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি মাহবুব চৌধুরী, স্কুলের নির্বাচিত অভিভাবক সদস্য আবদুল মুকিত অপি, সিনিয়র অভিভাবক ওলায়েত হোসেন লিটন, জোনাকি বেগম, জাবেদুর রহমান, মাছুম, বেলাল, আহবাব মিয়াসহ অভিভাবকরা কয়ছর জাহানের সঙ্গে দেখা করে ফি পরিশোধ না করা শিক্ষার্থীদের ফল প্রকাশ করার অনুরোধ জানান।

অভিভাবকরা বলেন, করোনা মহামারীর সময়ের টিউশন ফি দেয়ার সময় বাড়িয়ে দেয়া উচিত। এর আগে আপনি জানিয়েছেন, ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত টিউশন ফি যাদের পরিশোধ আছে তাদের ফল দেয়া হবে। কিন্তু আপনাদের কথা এবং কাজের ব্যাপক পার্থক্য রয়েছে।

অভিভাবকরা জানান, রি-অ্যাডমিশনের নামে বছরের শুরুতে অভিভাবকরা এককালীন টাকা দিয়েছিলেন, সে টাকা বাচ্চাদের কোনো ইভেন্টে খরচ হয়নি।

বার্ষিক পরীক্ষার ফি পরিশোধ করা হলেও কোনো পরীক্ষা নেয়া হয়নি। ম্যানেজিং কমিটির সভাপতি কয়ছর জাহান অভিভাবকদের এসবের কোনো সদুত্তর না দিয়ে নিজের অবস্থানে অনঢ় থাকেন।

এ ব্যাপারে কয়ছর জাহান জানান, যাদের টিউশন ফি দীর্ঘদিন ধরে বকেয়া রয়েছে, তাদের ফল স্থগিত করা হয়েছে। তিনি করোনার আগে অর্থাৎ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত বকেয়া টিউশন ফি জমা দেয়ার পর করোনাকালীন পরিস্থিতিতে করণীয় বিষয়ে আলোচনা করা যেতে পারে।

তার এমন আহ্বানে সাড়া না দিয়ে কয়েক অভিভাবক বিষয়টিকে ভিন্নভাবে উপস্থাপন করছে। তিনি জানান, অভিভাবকদের করোনাকালীন সংকটের বিষয়টি স্কুল কর্তৃপক্ষের বিবেচনায় রয়েছে।


সিএনআই’র প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।