২২, সেপ্টেম্বর, ২০১৯, রোববার | | ২২ মুহররম ১৪৪১

লোহার বর্ম পরে কুবরা খাদেমির একাকী মিছিল

প্রকাশিত: ৩:২০ অপরাহ্ণ , জুন ১৩, ২০১৯

লোহার বর্ম পরে কুবরা খাদেমির একাকী মিছিল

যৌন হয়রানির প্রতিবাদ হিসেবেই লোহার অন্তর্বাস পরে রাস্তায় নেমেছিলেন আফগানিস্তানের পারফর্মেন্স শিল্পী কুবরা খাদেমি। কিন্তু এই প্রতিবাদের পর থেকেই ইসলামিক মৌলবাদীদের হত্যার হুমকি প্রতিদিনই ফোনে কিংবা ই-মেইলে আসা শুরু করে। বেশ কিছুদিন মৌলবাদীদের চোখে ফাঁকি দিয়ে লুকিয়ে কাটানোর পরে চিরকালের মতো দেশ ছাড়তে হয় তাঁকে।

২০১৫ সালে কুবরা খাদেমি আফগানিস্তানে নারীরা যেসব যৌন হয়রানির শিকার হন তা তুলে ধরার জন্য কাবুলের রাস্তায় লোহার বর্ম পরে নেমেছিলেন। মূল পোশাকের উপরেই তিনি স্তন ও পেট আবৃত করেছিলেন লোহার বন্ধনী দিয়ে আর নিতম্বের দিকটাও আরেকটি লোহার বন্ধনী দিয়ে আবৃত ছিল তাঁর। সেই সঙ্গে মাথায় ছিল হিজাব।

অন্তর্বাসটি পরে তিনি আফগানিস্তানের রাস্তায় ১০ মিনিট হাঁটার পরিকল্পনা করেছিলেন। কিন্তু রাস্তায় ক্রুদ্ধ জনতার কারণে মাত্র ৮ মিনিটের মধ্যেই তাঁকে এক গাড়িতে ফিরে যেতে হয়। লোকজন তাঁকে দেখে চিৎকার করে বিভিন্ন অশ্লীল গালিগালাজ শুরু করে। সেই সঙ্গে তাঁকে লক্ষ্য করে বিভিন্ন জিনিস ছোঁড়া শুরু করে। এমনকি ছোট বাচ্চারাও চিৎকার করতে থাকে যেন লোকে তাঁকে ধরে মারে। এভাবেই থেমে যায় এক সাহসী নারীর একাকী মিছিল।

পাঁচ বছর বয়সে রাস্তায় প্রথম এক পুরুষ আক্রমণ করে কুবরা খাদেমিকে। সেদিন কোনোরকমে বেড়িয়ে এলেও ব্যাপারটা তাঁর মনের গভীরে গেঁথে যায় আর শুধু একটা কথাই বলেন, “আজ আমার অন্তর্বাস যদি লোহার হতো!” ২০০৮ সালে লাহোর থেকে কাবুলে ফাইন আর্টসের প্রবেশিকা পরীক্ষা দিতে আসলে কুবরা খাদেমিকে আবার রাস্তার মধ্যে শারীরিক নির্যাতন সহ্য করতে হয়। তিনি চিৎকার করলেও কেউ তাঁর পাশে দাঁড়ায়নি সেদিন। উল্টো লোকে তাঁর দিকে তাকিয়ে ছিল এবং তাঁকেই দোষারোপ করছিল। কুবরা খাদেমি দেখলেন যে আফগানিস্তানে নীল রঙের নাইলনের আপাদমস্তক ঢাকা বোরখা পরা নারীরাও পুরুষের অবাঞ্ছিত স্পর্শ থেকে রক্ষা পান না। কুবরা খাদেমির মনে হল যে তাঁদের সকলেরই লোহার বর্ম দরকার এবং এক স্থানীয় কামারের সহযোগিতায় কয়েক সপ্তাহের মধ্যে তাঁর বর্ম তৈরি করেন।

কুবরা খাদেমি ভেবেছিলেন লোকে কিছুদিনের মধ্যেই ব্যাপারটা ভুলে যাবে। কিন্তু সেটা হল না। হুমকির মুখে দেশ ছাড়তে হল তাঁকে। এখন ফ্রান্স তাঁর ঠিকানা। ২০১৬ সালে তিনি প্যান্থিন সোর্বনে বিশ্ববিদ্যালয়ে এমএফএ বৃত্তি লাভ করেন। সেই সাথে ফরাসি সংস্কৃতি মন্ত্রণালয় তাঁকে উপাধি দিয়েছে— ‘নাইট অফ আর্ট অ্যান্ড লিটারেচার’। একটি আত্মা. একজন মানুষ. একজন মহিলা. একজন নারীবাদী এবং একজন উদ্বাস্তু হিসেবে পরিচয় দেয়া কুবরা খাদেমি কলার মাধ্যমে তাঁর কাহিনী ফুটিয়ে তুলতে চান। বিশ্বব্যাপী সুনাম আর খ্যাতি অর্জন করলেও আফগানিস্তানে নিজের বাড়িতে হয়ত আর কোনোদিন ফেরা হবে না কুবরা খাদেমির।


সিএনআই’র প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।