২২, সেপ্টেম্বর, ২০১৯, রোববার | | ২২ মুহররম ১৪৪১

সহিংস উগ্রবাদ প্রতিরোধে জনপ্রতিনিধিদের গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রয়েছে- ডিএমপি কমিশনার

প্রকাশিত: ৪:৪৭ অপরাহ্ণ , জুন ১৩, ২০১৯

সহিংস উগ্রবাদ প্রতিরোধে জনপ্রতিনিধিদের গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রয়েছে- ডিএমপি কমিশনার

আমরা বিশ্বাস করি শুধু সন্ত্রাস দমন না, ঢাকা শহরকে নিরাপদ রাখতে হলে, জনগণকে শান্তিতে রাখতে হলে ও নাগরিক সেবাকে দৃশ্যমান পরিবর্তন এবং টেকসই করতে হলে জনপ্রতিনিধিদের ভূমিকা সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ। সহিংস উগ্রবাদসহ যেকোন অপরাধ প্রতিরোধে জনপ্রতিনিধিদের গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রয়েছে বলে জানান ডিএমপি কমিশনার মোঃ আছাদুজ্জামান মিয়া বিপিএম (বার), পিপিএম।

আজ (১৩ জুন) বৃহস্পতিবার ঢাকা দক্ষিণ সিটি কর্পোরেশন মিলনায়তনে আয়োজিত ‘‘সহিংস উগ্রবাদ প্রতিরোধে জনপ্রতিনিধিদের করণীয়’’ শীর্ষক দিনব্যাপী সেমিনারে বিশেষ অতিথির বক্তব্যে একথা বলেন তিনি। এ সময় প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন ঢাকা দক্ষিণ সিটি কর্পোরেশনের মেয়র মোহাম্মদ সাঈদ খোকন। সেমিনারটির সভাপতিত্ব করেন ডিএমপি’র অতিরিক্ত পুলিশ কমিশনার (সিটিটিসি) মোঃ মনিরুল ইসলাম বিপিএম (বার), পিপিএম (বার)।

ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশ কর্তৃক আয়োজিত সেমিনারে উপস্থিত ওয়ার্ড কাউন্সিলরদের ধন্যবাদ জানিয়ে কমিশনার বলেন, ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের সাথে সম্মানিত কাউন্সিলরদের চমৎকার সম্পর্ক রয়েছে। হলি আর্টিসানে মর্মান্তিক সন্ত্রাসী হামলার পর সন্ত্রাস ও সহিংস উগ্রবাদ দমনে জনপ্রতিনিধিগণ পুলিশকে অনেক সহযোগিতা করেছেন। আমরা সন্ত্রাসী ও সহিংস উগ্রবাদ সৃষ্টিকারীদের দুর্বল করে দিয়েছি। সন্ত্রাসী অপতৎপরতা চালানোর অপকৌশলের বিরুদ্ধে আমরা সজাগ আছি, সতর্ক আছি। গোয়েন্দা সংস্থাগুলো কাজ করে যাচ্ছে। ভীত হওয়ার কিছু নেই, তবে সতর্ক থাকার যতেষ্ট প্রয়োজন রয়েছে। নগরীর ২ কোটি মানুষের ৪ কোটি চোখ দিয়ে আমাদের সার্ভিলেন্স করার প্রয়োজন রয়েছে। সেজন্য জনপ্রতিনিধিদের ও নাগরিকদের এগিয়ে আসতে হবে।

তিনি বলেন, নগরবাসীদের সচেতন ও পুলিশিং কাজে সম্পৃক্ত করতে আমরা থানায় থানায় বিট পুলিশিং করছি। ঢাকা মহানগরীর ৫০টি থানাকে ৩০২টি বিটে বিভক্ত করা হয়েছে। রাজনৈতিক, জনপ্রতিনিধি ও সমাজপ্রতিদের একিভূত করে সন্ত্রাস, উগ্রবাদ, মাদক, ভূমিদস্যু, ইভটিজিংসহ সকল অপরাধের বিরুদ্ধে জনগনকে সচেতন করতে অসংখ্য উঠান বৈঠক করেছি। আমরা যদি তৃণমূল পর্যায়ে জনগনকে সম্পৃক্ত করতে পারি তাহলে এই মহানগরীতে জননিরাপত্তা, জনশৃঙ্খলা বিঘ্ন করার কেউ সুযোগ পাবে না। বিট পুলিশিং এর ফলে আমরা অনেকটা সফল হয়েছি। নাগরিকদের সাথে সমন্বয় করে আমরা একটি সমন্নিত নিরাপত্তা বলয় তৈরি করেছি। যার ফলে মাদক, সন্ত্রাস, সহিংস উগ্রবাদসহ অন্যান্য অপরাধ নিয়ন্ত্রণ রাখতে পেরেছি।

কমিশনার আরো বলেন, আপনারা জনপ্রতিনিধিগণ সমাজের সকল অনিয়ম দূর করতে পারেন। সেই ক্ষমতা আপনাদের দিয়েছেন জনগণ। জনপ্রতিনিধি একটা এলাকা নিয়ন্ত্রণ ও জনসেবা নিশ্চিত করতে পারেন। তিনি এলাকার প্রায় সকলকেই চিনেন। মানুষ সমস্যায় পরলে প্রথমে যায় সিটি কর্পোরেশনের কাউন্সিলরের নিকট। আপনারা যদি আন্তরিক হন, ঢাকা মহানগর পুলিশ আপনাদের ডাকে সাড়া দিবে। আপনাদের কাঁধে কাঁধ রেখে কাজ করবে। জনহয়রানির বিরুদ্ধে আমাদের অবস্থান জিরো টলারেন্স। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম অধিক ব্যবহারের ফলে সামাজিক, ধর্মীয় ও পারিবারিক মূল্যবোধ হারিয়ে যাচ্ছে। সামাজি, পারিবারিক ও ধর্মীয় মূল্যবোধকে পূণর্জীবিত হলে সন্ত্রাস, উগ্রবাদ ও মাদক আসতে পারবে না।

এছাড়াও কমিশনার বলেন, ঢাকা শহরকে বাসযোগ্য করতে নগরপিতা হিসেবে মেয়র সাহেবের যে দায়িত্ব রয়েছে, ঠিক তেমনি কাউন্সিলর হিসেবে আপনাদেরও একই দায়িত্ব রয়েছে। আপনার নিয়ন্ত্রিত এলাকার শিক্ষার্থী, যুবক ও অন্যান্যদের সহিংস উগ্রবাদের কুফল সম্পর্কে সচেতন করতে এগিয়ে আসতে হবে। আপনারা জনপ্রতিনিধি, আপনারা পারবেন নগরীর প্রতিটি মানুষের কাছে সহিংস উগ্রবাদের কুফল পৌঁছে দিতে। টেকশই উন্নয়নের জন্য দরকার টেকসই নিরাপত্তা। রক্তের মাধ্যমে অর্জিত স্বাধীনতা রক্ষার দায়িত্ব আমাদের সবার। জনগণের সম্পৃক্ততা ও প্রযুক্তির ব্যবহারে নগরীতে একটি টেকসই নিরাপত্তা ব্যবস্থা চলমান রয়েছে।

সহিংস উগ্রবাদ বিরোধী মতবিনিময় সভার আয়োজন করায় ধন্যবাদ জানিয়ে ডিএসসিসি’র মেয়র বলেন, বর্তমানে ঢাকা শহরের আইন শৃঙ্খলা পরিস্থিতি যেকোন সময়ের থেকে অনেক ভালো। সারাদেশের উগ্রবাদকে নিয়ন্ত্রণে রেখেছে ডিএমপি’র কাউন্টার টেরোরিজম বিভাগ। বাংলাদেশ উন্নয়নের মহাসড়কে রয়েছে। আওয়ামীলীগ সরকারের হাত ধরে এদেশের উন্নয়ন চলমান রয়েছে। সহিংস উগ্রবাদের কারণে আমাদের সকল অর্জন ম্লান হয়ে যাবে। চিকিৎসা, বস্ত্র, অর্থনীতি প্রবৃদ্ধিসহ সকল ক্ষেত্রে বাংলাদেশ যেভাবে উন্নয়নের দিকে এগিয়ে রয়েছে তা নিমিষেই ম্লান হয়ে যেতে পারে, যদি সবাই মিলে সহিংস উগ্রবাদ দমন না করতে পারি।

তিনি বলেন, বর্তমান বাংলাদেশে আইন শৃঙ্খলা বাহিনী যেভাবে সহিংস উগ্রবাদ নিয়ন্ত্রণে কঠোর নজরদারী ও তৎপর রয়েছে তাতে যেকোন সময়ের থেকে উগ্রবাদ নিয়ন্ত্রণে রয়েছে। ঢাকাবাসীর পক্ষ থেকে ডিএমপি ও সিটিটিসিকে সহিংস উগ্রবাদ নিয়ন্ত্রণের জন্য আমি আন্তরিক ধন্যবাদ জানায়। এই নিয়ন্ত্রণকে সার্বিকভাবে সফলতা নিশ্চিত করার জন্য প্রয়োজন নাগরিক সম্পৃক্ততা, জনসচেতনতা ও নাগরিক অংশগ্রহণের কোন বিকল্প নেই। নাগরিক সচেতনতা পরিবর্তণের শক্তি। সামাজিক, রাজনৈতিক, নাগরিক জীবন কিংবা দেশ বা জাতির পরিবর্তনসহ সকল পরিবর্তনের মূল শক্তি সচেতনতা। এই সচেতনতা একমাত্র সম্ভব আমাদের জনপ্রতিনিধিগণ যদি নাগরিকদের সচেতন করে তোলেন, নজরদারীতে রাখেন এবং আইন শৃঙ্খলা বাহিনীর সাথে কাঁধে কাঁধ রেখে কাজ করেন, তাহলে নিয়ন্ত্রিত পরিস্থিতি টেকসই হবে। আপনাদের যেকোন প্রয়োজনে নগর প্রতিনিধি, জনপ্রতিনিধি আপনাদের পাশে থাকবে।

সভাপতির বক্তব্যে মনিরুল ইসলাম বলেন, সন্ত্রাসবাদ বা সহিংস উগ্রবাদ দমন একটি দীর্ঘ মেয়াদী জটিল কাজ। এই জটিল কাজ শুধু মাত্র একটি সুনির্দিষ্ট বাহিনী, সংস্থা ও ব্যক্তির পক্ষে সম্ভব না। মাননীয় প্রধানমন্ত্রী বারবার সকলকে এই ভয়াবহ সহিংস উগ্রবাদের অভিশাপের বিরুদ্ধে রুখে দাঁড়াতে আহবান জানিয়েছেন। সেই সাথে সন্ত্রাস ও সহিংস উগ্রবাদের বিরুদ্ধে জিরো টলারেন্স নীতি গ্রহণ করেছেন। আপনারা এখানে যারা আছেন তারা ঢাকা মহানগরের প্রায় অর্ধেকের বেশি মানুষের প্রতিনিধিত্ব করেন। আপনাদের সকলের ঐকান্তিক প্রচেষ্টায় সহিংস উগ্রবাদ নিয়ন্ত্রণে এসেছে। বাংলাদেশ বিশ্বের কাছে সহিংস উগ্রবাদ দমনে রোল মডেল হিসেবে ইতোমধ্যে প্রতিষ্ঠিত হয়েছে। এজন্য বিশ্বে উন্নত রাষ্ট্র যারা সহিংস উগ্রবাদ বা সন্ত্রাস দমনে বিলিয়ন বিলিয়ন ডলার খরচ করছেন, তারা আমাদের কাছে এসে ও আমাদের আমন্ত্রণ জানিয়ে জানতে চাই, কিভাবে স্বল্প সময়ে আমরা সহিংস উগ্রবাদ বা সন্ত্রাসবাদকে নিয়ন্ত্রণে এনেছি। মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর আহবানে জনগণ সহিংস উগ্রবাদ ও সন্ত্রাসবাদের বিরুদ্ধে অবস্থান নিয়েছেন বলেন আমরা সফল হয়েছি। জনপ্রতিনিধিগণ সহিংস উগ্রবাদ ও সন্ত্রাসবাদের কুফল সম্পর্কে তার নিয়ন্ত্রনাধীন এলাকার জনসাধারণকে সচেতন করতে পারেন। আপনারা আমাদের ডাকে সাড়া দিয়ে এই সেমিনারে অংশগ্রহণ করায় সকলের প্রতি আন্তরিক ধন্যবাদ জ্ঞাপন করছি।

এরপর সেমিনারের দ্বিতীয় সেশনে উপস্থিত ওয়ার্ড কাউন্সিলরগণের সাথে সহিংস উগ্রবাদ প্রতিরোধে তাদের কি করণীয়? সে বিষয়ে মতবিনিময় করেন ডিএমপি’র অতিরিক্ত পুলিশ কমিশনার (সিটিটিসি) মোঃ মনিরুল ইসলাম বিপিএম (বার), পিপিএম (বার)।

এ সময় ঢাকা দক্ষিণ সিটি কর্পোরেশনের বিভিন্ন ওয়ার্ড কাউন্সিলরগণ, ‍ডিএসসিসি’র কর্মকর্তা, ডিএমপি’র ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাগণ ও সাংবাদিকগণ উপস্থিত ছিলেন। বাংলাদেশ পুলিশের সন্ত্রাস দমন ও আন্তর্জাতিক অপরাধ প্রতিরোধ কেন্দ্র নির্মাণ প্রকল্প আওতায় ডিএমপি’র কাউন্টার টেরোরিজম এন্ড ট্রান্সন্যাশনাল ক্রাইম ইউনিট ‘সহিংস উগ্রবাদ প্রতিরোধে জনপ্রতিনিধিদের করণীয়’ শীর্ষক সেমিনারের আয়োজন করে। -ডিএমপি নিউজ


সিএনআই’র প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।