২৩, আগস্ট, ২০১৯, শুক্রবার | | ২১ জ্বিলহজ্জ ১৪৪০

ঈদের আগেই বিআরটিসি তে যোগ হচ্ছে ডাবল ডেকারের ৮৩টি বাস

প্রকাশিত: ১০:১৫ পূর্বাহ্ণ , জুলাই ২০, ২০১৯

ঈদের আগেই বিআরটিসি তে যোগ হচ্ছে ডাবল ডেকারের ৮৩টি বাস

রাজধানীর যাত্রী পরিবহনে ঈদের আগেই বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন করপোরেশনের (বিআরটিসি) বহরে যোগ হতে যাচ্ছে ডাবল ডেকারের আরও ৮৩টি বাস। বাস গুলো যোগ হবে ঈদযাত্রায়।

২০১৬ সালের ফেব্রুয়ারি মাসে বিআরটিসির জন্য দ্বিতল, একতলা এসি এবং নন-এসি বাস সংগ্রহ প্রকল্পের আওতায় বাসগুলো কেনার উদ্যোগ নেওয়া হয়। পর্যায়ক্রমে প্রকল্পের আওতায় কয়েক ধাপে ৫১৭টি বাস বাংলাদেশে এসেছে। বাকি ৮৩টি বাস ঈদুল আজহার আগেই আগস্ট মাসের প্রথম সপ্তাহে বাংলাদেশে প্রবেশ করবে বলে জানায় বিআরটিসি। ঈদুল আজহার সম্ভাব্য তারিখ ১২ আগস্ট, এ উপলক্ষে অধিকাংশ বাস দেশের লংরুটে চলাচল করবে।

ঈদের আগেই বাসগুলো সারাদেশের যাত্রী পরিবহনে ইতিবাচক প্রভাব ফেলবে বলে জানায় বিআরটিসি। প্রতিটি বাসের আসন সংখ্যা ১২০টি। বিশাল আকৃতির বাসগুলোতে আরও ৪০ জন যাত্রী দাঁড়িয়ে ভ্রমণ করতে পারেন। একেকটি বাস পাঁচটি মিনিবাসের সমান যাত্রী বহন করতে সক্ষম।

বিআরটিসি সূত্র জানায়, ভারতীয় কোম্পানি অশোক লেল্যান্ডের কাছ থেকে প্রতিটি ৭২ লাখ টাকা দরে ৩০০টি ডাবল ডেকার, ৬৯ লাখ টাকা দরে একশটি এসি সিঙ্গেল ডেকার, ৭০ লাখ টাকা দরে একশটি সিঙ্গেল ডেকার এসি ইন্টারসিটি এবং ৪২ লাখ টাকা দরে টাটার কাছ থেকে একশটি সিঙ্গেল ডেকার নন-এসি বাস কেনার উদ্যোগ নেওয়া হয়। এসব বাসের অর্থনৈতিক আয়ুষ্কাল ধরা হয়েছে ১২ বছর।

প্রকল্পের আওতায় ইতোমধেই একশটি এসি সিঙ্গেল ডেকার, একশটি নন-এসি সিঙ্গেল ডেকার, একশটি সিঙ্গেল ডেকার ইন্টারসিটি ও ২১৭টি ডাবল ডেকার বাস বাংলাদেশে এসেছে। বাকি ৮৩টি ডাবল ডেকার বাস আগস্টের প্রথম সপ্তাহের মধ্যেই বাংলাদেশে প্রবেশের মাধ্যমে শেষ হবে প্রকল্পের কাজ।

বিআরটিসি চেয়ারম্যান (অতিরিক্ত সচিব) ফরিদ আহমদ ভূঁইয়া বলেন, কয়েক ধাপে আমরা ইতোমধ্যেই ভারত থেকে ৫১৭টি বাস পেয়েছি। ৬০০টির মধ্যে ৮৩টি ডাবল ডেকার ননএসি বাস আগস্ট মাসেই হাতে পাবো। ৮৩টির মধ্যে ৩৪টি বাস এখন বেনাপোলে বাংলাদেশে প্রবেশের অপেক্ষায়। বর্ডারে সমস্ত আনুষ্ঠানিকতা শেষে আগস্টের প্রথম সপ্তাহে ৮৩টি বাস হাতে পাবো। ফলে পরিবহন ব্যবস্থাপনা আরও সহজ হবে। ঢাকাসহ সারা দেশের মানুষের যাতায়াতে ভোগান্তি কমবে।

বিআরটিসি সূত্র জানায়, প্রকল্পের সবশেষ ডিপিপি (উন্নয়ন প্রকল্প প্রস্তাবনা) অনুযায়ী প্রতিটি বাসের সিডি ভ্যাট নির্ধারণ করা হয়েছে বেশি। ৬০০টি বাসে পুনরায় ১০ শতাংশ হারে ভ্যাট ধরা হয়েছে। ফলে এ খাতে সিডি ভ্যাটের পরিমাণ দাঁড়ায় ১১৫ কোটি টাকা। সবশেষ ডিপিপিতে ছিল ১০১ কোটি টাকা। ফলে সিডি ভ্যাটে বাড়তি লাগছে আরো ১৪ কোটি টাকা।

প্রথমে ৬০০টি বাসে নিবন্ধ ফি ধরা হয়েছিল ৩ কোটি ৩০ লাখ টাকা। এখন নিবন্ধন ফি বাবদ ৬০ লাখ টাকা বাড়ছে। ফলে মোট নিবন্ধন ফির ব্যয় দাঁড়াচ্ছে ৩ কোটি ৯০ লাখ টাকা। ৬০০ বাস পেতে এলসি কমিশন খাতেও ব্যয় বাড়ছে ২ কোটি ৮৪ লাখ টাকা। ফলে সিডি ভ্যাট, নিবন্ধন ও এলসি খাতে ব্যয় বাড়ছে। প্রকল্পের মোট ব্যয় দাঁড়াচ্ছে ৫২৫ কোটি ১৬ লাখ টাকা। এর মধ্যে সরকারি অর্থায়ন ১৩২ কোটি ১৬ লাখ এবং ভারতীয় ঋণ ৩৯৩ কোটি টাকা। এসব কাজের জন্য এক মাস অতিরিক্ত সময় লাগছে।

সিএনআই/এসআই


সিএনআই’র প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।