১৭, আগস্ট, ২০১৯, শনিবার | | ১৫ জ্বিলহজ্জ ১৪৪০

গোলাপি পানির হ্রদের কথা আমরা ক’জন জানি?

প্রকাশিত: ১০:৪০ পূর্বাহ্ণ , জুলাই ২৪, ২০১৯

গোলাপি পানির হ্রদের কথা আমরা ক’জন জানি?

গভীর কালো দীঘির কথা আমরা সবাই শুনেছি। দেখেছিও। শুনেছি টলটলে নীল জলের কথা। কিন্তু গোলাপি রঙের পানি, গোলাপি পানির জলাশয়ের কথা আমরা ক’জন শুনেছি? আমরা শুনি বা নাই শুনি, পৃথিবীতে কিন্তু সত্যিই আছে গোলাপি পানির জলাশয়। আর এই লেকের নাম রেটবা। লেক রেটবা আফ্রিকার দেশ সেনেগালের একটি লেক। লেকের এক পাশে পাহাড়। আরেক পাশে আটলান্টিক মহাসমুদ্র। মাঝখানে সরু একটি করিডোর। বছরের প্রায় অর্ধেক সময় লেকটির পানির রং থাকে গোলাপি। মাথার ওপরে নীল আকাশ, নিচে গোলাপি হ্রদ- সব মিলিয়ে এক অসাধারণ সৌন্দর্যমণ্ডিত দৃশ্য।এ দৃশ্য টেনে আনে দেশবিদেশের পর্যটক। এ অনন্য বৈশিষ্ট্যের জন্য জাতিসংঘের অঙ্গ সংস্থা ইউনেস্কো লেকটিকে বিশ্ব ঐতিহ্য হিসেবে ঘোষণা করার কথা ভাবছে।স্থানীয় ভাষায় রেটবা অর্থ গোলাপি। এজন্য স্থানীয় লোকজন এটিকে রোজ লেক নামেও ডাকে। গোলাপি রং ছাড়াও লেকটির একটি বিশেষ বৈশিষ্ট্য হচ্ছে এর লবণাক্ততা। লেকটির কোথাও কোথাও লবণাক্ততার হার প্রায় ৪০ শতাংশ। শুষ্ক মৌসুমে লবণাক্ততার মাত্রা বেড়ে যায়। সমুদ্রের একেবারে কাছে হওয়ায় করিডোরের মাটি চুঁয়ে লবণ পানি হ্রদে আসে। অতিরিক্ত লবণের কারণে এ হ্রদে তেমন কোনো জলজ প্রাণী নেই। চার-পাঁচ প্রজাতির মাছ থাকলেও সেগুলো আকারে স্বাদু পানির লেকের চেয়ে অনেক ছোট।

তবে এসব মাছের রয়েছে শরীর থেকে মাত্রাতিরিক্ত লবণ বের করে দেয়ার ক্ষমতা। মাছ বা কোনো জলজ প্রাণী নেই বলে এ লেকের কোনো অর্থনৈতিক গুরুত্ব নেই, এমন নয়। লেকটি সেনেগালের লবণের চাহিদা পূরণ করে থাকে। সেনেগাল থেকে আফ্রিকার কয়েকটি দেশে তা রফতানিও হয়। মূলত স্থানীয় অধিবাসীরা লেকের নিচ থেকে হাত এবং বেলচা দিয়ে লবণ সংগ্রহ করে। নৌকা এবং পশুচালিত গাড়িতে এ লবণ পরিবহন করা হয়। পানিতে নামার আগে স্থানীয় একটি ফলের তেল গায়ে মেখে নেয়া হয়। ফলে দীর্ঘ সময় পানিতে থাকা সত্ত্বেও লবণে কোনো ক্ষত হয় না তাদের গায়ে। এ লেকের পানির রং গোলাপি কেন তার উত্তর দিয়েছেন বিজ্ঞানীরা। তারা অনেক দিন ধরে লেক রেটবার পানির রং নিয়ে গবেষণা করছেন। অনেক গবেষণার পর তারা একমত হয়েছেন, পানির রং গোলাপি হওয়ার জন্য দায়ী এক ধরনের ব্যাকটেরিয়া। এগুলোর রয়েছে লবণ সহিষ্ণুতা। এরা তাদের প্রয়োজনে আলো শোষণ করতে শরীর থেকে গোলাপি রঙের এনজাইম নিঃসরণ করে। এতেই পানির রং হয় গোলাপি।


সিএনআই’র প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।