২২, আগস্ট, ২০১৯, বৃহস্পতিবার | | ২০ জ্বিলহজ্জ ১৪৪০

মোবাইল ফোন কেনার ক্ষেত্রে অবশ্যই আইএমইআই যাচাই করতে হবে

প্রকাশিত: ২:৫৭ অপরাহ্ণ , জুলাই ৩১, ২০১৯

মোবাইল ফোন কেনার ক্ষেত্রে অবশ্যই আইএমইআই যাচাই করতে হবে

মোবাইল ফোন কেনার ক্ষেত্রে অবশ্যই আইএমইআই যাচাই ও রসিদ নিতে বলেছে বিটিআরসি। নিয়ন্ত্রণ সংস্থাটি বলছে, সঠিক আইএমইআই ছাড়া মোবাইল ফোন হ্যান্ডসেটে ভবিষ্যতে সংযোগ বিচ্ছিন্ন করে দেয়া হবে।অবৈধ-নকল-ক্লোন মোবাইল ফোন হ্যান্ডসেট কেনা সংক্রান্ত এক সতর্কীকরণ বিজ্ঞপ্তিতে সোমবার বিটিআরসি এসব জানায়।সতর্কীকরণ বিজ্ঞপ্তিতে আরও বলা হয়, আগস্টের ১ তারিখ থেকে নকল-ক্লোন আইএমইআইর মোবাইল হ্যান্ডসেট নেটওয়ার্কে সংযুক্ত হলে পরবর্তী সময়ে ন্যাশনাল ইকুইপমেন্ট আইডেন্টিটি রেজিস্ট্রারের (এনইআইআর) মাধ্যমে নেটওয়ার্ক বিচ্ছিন্ন করা হবে।

সম্প্রতি মোবাইল ইম্পোটার্স অ্যাসোশিয়েশনের পক্ষ থেকে বিটিআরসিতে স্থাপন করা হয়েছে আইএমইআই সংক্রান্ত একটি ডেটাবেইজ। সেখানে মোবাইল ফোন অপারেটরদের আমদানি করা সব ফোনের আইএমইআই সংক্রান্ত তথ্য রাখা আছে।একই সঙ্গে মোবাইল ফোন অপারেটদের নেটওয়ার্কে থাকা আইএমইআই-ও রাখা হচ্ছে সেখানে।জানা যায়, প্রতি বছর বিটিআরসি’র অনুমোদন নিয়ে বৈধভাবে ২ কোটি ৭৬ লাখ হ্যান্ডসেট আসে। আর বাজারে থাকা সেটের ২৫ থেকে ৩০ শতাংশ আসে অবৈধভাবে। এতে সরকার প্রতি বছর এক হাজার থেকে বারোশ’ কোটি টাকার রাজস্ব হারাচ্ছে।মোবাইল ফোনের মাধ্যমে দেশের নিরাপত্তা বিঘ্নিত হওয়া রোধ করতে সব হ্যান্ডসেটের আইএমইআই (ইন্টারন্যাশনাল মোবাইল ইকুইপমেন্ট আইডেন্টিটি) নম্বর ডেটাবেইজে সংরক্ষণ করা হবে।হ্যান্ডসেট আমদানিকারকরা আমদানির অনাপত্তিপত্র পেতে অনলাইনে আবেদন এবং অনলাইনেই অনাপত্তিপত্র গ্রহণ করতে পারবেন। জনসাধারণ মোবাইল ফোন কেনার আগে ডেটাবেজ থেকে তথ্য যাচাই করে সেটের বৈধতা নির্ণয় করতে পারবেন।এতে অবৈধ আমদানি হ্রাস পেয়ে সরকারের বিপুল পরিমাণ রাজস্ব ক্ষতি রোধ করা সম্ভব হবে। এছাড়া ডেটাবেজ থেকে দেশের মোবাইল ফোন খাতের সার্বিক তথ্য-উপাত্ত পাওয়া যাবে।গ্রাহকের ধরন, ফিচার ফোন থেকে স্মার্টফোন গ্রহণের প্রবণতা, কী পরিমাণ হ্যান্ডসেট প্রতি বছর দেশের বাজারে বিক্রি হয়, বিভিন্ন ব্র্যান্ড ও মডেলের সেট সংখ্যা ইত্যাদি তথ্য যাচাই-বাছাই করে টেলিকম খাতের বিভিন্ন সিদ্ধান্ত নেয়ার ক্ষেত্রে সহায়ক ভূমিকা পালন করবে ডেটাবেজ।তবে শুধু ২০১৮ সালের ১ জানুয়ারি থেকে বৈধভাবে আমদানিকৃত বা স্থানীয়ভাবে উৎপাদিত হ্যান্ডসেটের বেশিরভাগ আইএমইআই নম্বর ডেটাবেজে সংরক্ষণ করা হয়েছে। এর বাইরে অন্য যে কোনো ধরনের আইএমইআই নম্বর বিটিআরসি’র ডেটাবেজে আপাতত পাওয়া যাবে না।

যেভাবে চেক করা যাবে : হ্যান্ডসেট অবৈধ বা নকল কিনা তা দেখতে বিজ্ঞপ্তিতে সঠিক আইএমইআই যাচাই পদ্ধতি জানিয়ে দেয়া হয়। এতে বলা হয়, যে কেউ মেসেজে কণউ টাইপ করে স্পেস দিয়ে ১৫ ডিজিটের আইএমইআই নম্বর দিয়ে সেটি ১৬০০২ নম্বরে পাঠালে ফিরতি এসএমএসে আইএমইআই নম্বরটি বিটিআরসি’র ডেটাবেইজে সংরক্ষিত রয়েছে কিনা তা জানতে পারবেন।

বিটিআরসি’র ডেটাবেইজে আইএমইআই নম্বর থাকলে বুঝতে হবে হ্যান্ডসেটটি বৈধ। আইএমইআই নম্বর নতুন হ্যান্ডসেটের মোড়কেই দেখা যাবে। সে ক্ষেত্রে *#/,. ইত্যাদি বিশেষ চিহ্ন বাদে শুধু ১৫টি নম্বর নিতে হবে বিটিআরসি’তে এসএমএসের জন্য। ব্যবহার করা হ্যান্ডসেটে *#০৬# ডায়াল করেই জেনে নেয়া যায় মোবাইল ফোনে ব্যবহৃত ১৫ ডিজিটের আইএমইআই নম্বর।


সিএনআই’র প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।