১৭, আগস্ট, ২০১৯, শনিবার | | ১৫ জ্বিলহজ্জ ১৪৪০

সরকারি চাকরিতে কোটা নিয়ে বিভ্রান্তি দূর করল জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়

প্রকাশিত: ১২:৩৩ অপরাহ্ণ , আগস্ট ১, ২০১৯

সরকারি চাকরিতে কোটা নিয়ে বিভ্রান্তি দূর করল জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়

সরকারি চাকরির প্রথম ও দ্বিতীয় শ্রেণিতে কোন ধরনের কোটা থাকবে না বলে আবারও স্পষ্ট করল জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়। সরকারি দপ্তর, স্বায়ত্তশাসিত বা আধা-স্বায়ত্তশাসিত প্রতিষ্ঠান এবং বিভিন্ন কর্পোরেশনের চাকরিতে সরাসরি নিয়োগের ক্ষেত্রে মুক্তিযোদ্ধা কোটা বহাল নিয়ে সৃষ্ট অস্পষ্টতা দূর করতে মন্ত্রণালয় থেকে চিঠি দেয়া হয়েছে।

গত ২৯ জুলাই জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের চিঠিটি সংশ্লিষ্টদের কাছে প্রেরণ করা হয়।

চিঠিতে বলা হয়েছে, ৯ম গ্রেড (পূর্বতন ১ম শ্রেণি) এবং ১০ম থেকে ১৩তম গ্রেডের (পূর্বতন ২য় শ্রেণির) পদে সরাসরি নিয়োগের ক্ষেত্রে মেধার ভিত্তিতে নিয়োগ প্রদান করা হইবে। এই পদসমূহে সরাসরি নিয়োগের ক্ষেত্রে বিদ্যমান কোটা পদ্ধতি বাতিল করার পরিপত্র জারি করার পর আর কোটা পদ্ধতি বিদ্যমান নেই।

এর আগে মু্ক্তিযোদ্ধা কোটা বহাল রয়েছে বলে অনেকের মাঝে বিভ্রান্তি ছড়ানো হয়। এমনকি সরকারের দায়িত্বশীলও বিভিন্ন সময় এই নিয়ে মন্তব্য করেছেন। ফলে কোটা বাতিল করে সরকারের পরিপত্র জারি করার পরও কোটা বহাল থাকে না থাকা বিশেষ করে মুক্তিযোদ্ধা কোটা নিয়ে দেখা দেয় সংশয়। অবশেষে এই সংশয় দূর করতে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয় আবারও মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রণালয়সহ বিভিন্ন সরকারি দপ্তরে ও সংশ্লিষ্টদের বরাবর চিঠি প্রেরণ করেছেন।

গত বছর মন্ত্রিসভার সিদ্ধান্ত অনুযায়ী কোটা পদ্ধতি সংশোধন করে পরিপত্র জারি করেছে সরকার। গত ৪ অক্টোবর জনপ্রশাসন সচিব ফয়েজ আহম্মদের স্বাক্ষরিত জারি করা এই পরিপত্রে বলা হয়, নবম গ্রেড (আগের প্রথম শ্রেণি) এবং দশম থেকে ১৩তম গ্রেডের (আগের দ্বিতীয় শ্রেণি) পদে সরাসরি নিয়োগের ক্ষেত্রে বিদ্যমান কোটা পদ্ধতি বাতিল করা হল।

এখন থেকে মেধার ভিত্তিতে নিয়োগ দেওয়া হবে।

প্রথম ও দ্বিতীয় শ্রেণির চাকরিতে কোটা বাতিল হলেও তৃতীয় ও চতুর্থ শ্রেণির পদে কোটা ব্যবস্থা আগের মতই বহাল থাকবে।

সরকারি চাকরিতে নিয়োগে এতদিন ৫৬ শতাংশ পদ বিভিন্ন কোটার জন্য সংরক্ষিত ছিল। এর মধ্যে মুক্তিযোদ্ধার সন্তানদের জন্য ৩০ শতাংশ, নারী ১০ শতাংশ, জেলা ১০ শতাংশ, ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠী ৫ শতাংশ, প্রতিবন্ধী ১ শতাংশ।

পরিপত্রে উল্লেখ করা হয়েছে, ‘সরকার সকল সরকারি দফতর, স্বায়ত্তশাসিত, আধা-স্বায়ত্বশাসিত প্রতিষ্ঠান এবং বিভিন্ন করপোরেশনের চাকরিতে সরাসরি নিয়োগের ক্ষেত্রে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের ১৯৯৭ সালের ১৭ মার্চ জারি করা কোটা পদ্ধতি সংশোধন করল।’

কোটার পরিমাণ ১০ শতাংশে নামিয়ে আনার দাবিতে কয়েক মাস আগে তীব্র আন্দোলন গড়ে তোলে সাধারণ শিক্ষার্থীরা। এক পর্যায়ে কোটা পদ্ধতি পর্যালোচনা করতে মন্ত্রিপরিষদ সচিবের নেতৃত্বে একটি কমিটি গঠন করে দেয় সরকার। ওই কমিটি প্রথম ও দ্বিতীয় শ্রেণির চাকরিতে কোটা সম্পূর্ণ তুলে দেওয়ার সুপারিশ করে, যা মন্ত্রিসভার অনুমোদন পায়।


সিএনআই’র প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।