২২, আগস্ট, ২০১৯, বৃহস্পতিবার | | ২০ জ্বিলহজ্জ ১৪৪০

এবারের কোরবানিতে বড় আকর্ষণ সঞ্জুর ৩০ লাখ টাকার ‘বীর বাহাদুর’

প্রকাশিত: ১১:১০ পূর্বাহ্ণ , আগস্ট ৪, ২০১৯

এবারের কোরবানিতে বড় আকর্ষণ সঞ্জুর ৩০ লাখ টাকার ‘বীর বাহাদুর’

নামিদামি কোনো খামারে নয়, দরিদ্র মানুষের পরিবারেই বেড়ে ওঠে ‘বীর বাহাদুর’। প্রায় ৫০ মণ ওজনের এই গরুটির মালিক সঞ্জু ইসলাম, পেশায় একজন কাঠমিস্ত্রি। লম্বায় ১০ ফুট ও উঁচুতে ৫ ফুট ১০ ইঞ্চি।

পাবনার ঈশ্বরদীতে তিন বছর আগে ৭০ হাজার টাকায় কিনেছিলেন এটি। ওই সময়ে ওজন ছিল পাঁচ মণ। তার দাবি, চরম ভেজালের যুগেও গরুটিকে কৃত্রিমভাবে মোটাতাজাকরণের কেমিক্যাল ছাড়াই স্বাভাবিক দানাদার খাবার দিয়ে বড় করে তুলেছেন।

সঞ্জু ইসলাম বলেন, এবারের কোরবানিতে বড় আকর্ষণ ঢাকার গাবতলী হাটের ‘বীর বাহাদুর’। প্রায় ২ হাজার কেজি ওজনের গরুটি পাবনার ঈশ্বরদী থেকে সোমবার ঢাকায় প্রবেশ করবে। গাবতলী হাটের এক নম্বর গেটে, মেসার্স ইসমিতা ব্রিকসের বাম পার্শ্বে অবস্থান বলে জানান তিনি। যখন খাটি গরু চাইবেন, তখন দামটাও একটু বেশি গুনতে হবে। তাই সঞ্জু ইসলাম বাহাদুরের দাম হাঁকিয়েছেন ৩০ লাখ টাকা।

ব্যক্তি উদ্যোগে শখের বশে একটি ছোট গরু কিনেন সঞ্জু। আদর করে নাম রেখেছেন ‘বীর বাহাদুর’। তবে এটি এক দিনে হয়নি। তিলে তিলে তিনটি বছর পরিশ্রম করেছেন তিনি। দৈনিক ভিত্তিতে কাঠমিস্ত্রির কাজ করা উপার্জনের টাকা দিয়ে গরুটির লালন পালন করেন।

প্রত্যন্ত গ্রামাঞ্চলের একটি কুড়ে ঘর ছিল বাহাদুরের আবাসস্থল। দারিদ্র্যতার কষাঘাতেও গরুর খাবার নিয়ে কোনো আপস করেননি সঞ্জু। প্রয়োজনে ধার-দেনা করেছেন। হিসাব করে কখনও খাদ্য খাওয়াননি। তিনি বলেন, হিসাব করে খাদ্য কিনে কোনো দিন এই গরু পালতে পারতাম না।

যেহেতু আমার মাথায় বাণিজ্যের চিন্তা ছিল না। তাই হিসাব ছাড়াই খাদ্য খাইয়েছি। তবে কিছুটা অনুমান করে তিনি বলেন, প্রতিদিন কম-বেশি ১ হাজার ২০০ টাকার দানাদার খাদ্য খাওয়ানো হয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে শুকনো খৈল, মসুরির ডালের ভুসি, গমের ভুসি, গুড়ের ভুসি, ভুট্টার আটা, ছোলা, খেসারির ডালসহ আরও কত কি!

সঞ্জুর দাবি, এত সুন্দর এবং সুদর্শন গরু সারা দেশে কোথাও খুঁজে পাবেন না। গরুকে পর্যাপ্ত দানাদার খাবার খাওয়াতে গিয়ে অনেক সময় নিজে পেট ভরে খেতেও পারেননি। কোনো ধরনের কৃত্রিম উপায়ে গরুটি মোটাতাজা করার চেষ্টা করেননি বলে দাবি শেখেরদাইর গ্রামের সঞ্জুর।

সঞ্জুর বাবা মজিবুর রহমান বলেন, আমার সংসারে ১১ জন সদস্য ছিল। গরুটি কেনার পর সংসারের সদস্য সংখ্যা ১২ জনে দাঁড়ায়। এই গরুকে সন্তানের মতো লালন পালন করেছি। সংসারে যা খরচ তার তিনগুণ খরচ হয়েছে গরুর পেছনে। প্রত্যেকবার কমছেকম চার টাকা দামের ১০টি শ্যাম্পু দিয়ে গরুকে গোসল করিয়েছি, অথচ দারিদ্র্যতার কারণে নিজেরা ঠিকমতো শ্যাম্পু ব্যবহারের সুযোগ পাইনি। কোনো অবৈধ জিনিস নিজেও খাইনি, গরুকেও খাওয়ায়নি। সঞ্জুর মা নুরুন নাহার বলেন, গরুটি লালন-পালনে অনেক কষ্ট হয়েছে। এমনও অনেক দিন গেছে, গরুর খাবার রান্না করতে গিয়ে নিজের খাবারের চুলায় আগুন জ্বলেনি।

উল্লেখ্য, বীর বাহাদুরের বিষয়ে আরও কিছু জানতে চাইলে দেখতে পারেন ‘চিত্রপুরী কৃষিচিত্র’ নামের একটি ইউটিউব চ্যানেল। যেখানে ‘কাঠমিস্ত্রি সঞ্জুর অসাধারণ গল্প’ নামে গরুটির বিস্তারিত দেয়া আছে।


সিএনআই’র প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।