১৭, আগস্ট, ২০১৯, শনিবার | | ১৫ জ্বিলহজ্জ ১৪৪০

শেষ দেখায় যে কথা হয়েছিল এরশাদ-বিদিশার

প্রকাশিত: ১০:৫০ অপরাহ্ণ , আগস্ট ৮, ২০১৯

শেষ দেখায় যে কথা হয়েছিল এরশাদ-বিদিশার

প্রয়াত সাবেক রাষ্ট্রপতি ও জাতীয় পার্টির চেয়ারম্যান এইচ এম এরশাদের স্ত্রী বিদিশার সাথে এরশাদ সর্বশেষ কথা বলেছিলেন ২০১৯ সালের জানুয়ারি মাসে। খুব বেশি সময় তাদের কথোপকথন না হলেও তাদের মধ্যে প্রায় ৪০ মিনিট কথা হয়েছিল। বিদিশা-এরশাদের সেই ৪০ মিনিটের কথোপকথন নিয়ে সাক্ষাৎকার দিয়েছেন বিদিশা। তার সাক্ষাতৎকারটি নিয়েছেন স্টাফ করেসপন্ডেন্ট আরেফিন সোহাগ।

আপনার সাথে প্রয়াত সাবেক রাষ্ট্রপতি ও জাতীয় পার্টির চেয়ারম্যান এইচ এম এরশাদের সর্বশেষ কবে দেখা হয়েছিল এবং আপনাদের মধ্যে কি কথা হয়েছিল? এমন প্রশ্নের জবাবে বিদিশা বিডি২৪লাইভকে বলেন, আমার সাথে এরশাদ সাহেবের সর্বশেষ দেখা হয়েছিল শীতের মধ্যে সিএমএইচ-এ। আমার সাথে ওনি ৪০ মিনিট কথা বলেছিলেন। ৪০ মিনিট উনি আমার হাত ধরেই বসেছিলেন। এ সময় বিভিন্ন বিষয়ে কথা হয়েছে। এরমধ্যে আমাদের সন্তান এরিককে নিয়ে কথা হয়েছে। এরপর আমি ওনাকে বলছিলাম যে তুমি দেশে কেন চিকিৎসা নিচ্ছো, দেশের বাহিরে তো তুমি ভালো চিকিৎসা নিতে পারবে। তখন ওনি আমাকে বলেছিলেন যে, সিএমএইচ-এ অনেক ভালো চিকিৎসা দেয়া হচ্ছে আমাকে। আমি সৈনিকের মতই মরতে চাই। তিনি বলেছিলেন আমাকে, বাংলাদেশের আর কেউ যদি তোমাকে সম্মান না দেয়, দেখবা একজন সৈনিক তোমাকে ঠিকই সম্মান করবে।

এসময় আমাদের মাঝে রাজনৈতিক বিষয়ে কথা হয়েছিল। এরশাদ সাহেব বলেছিলেন, বিএনপি-জামায়াতের সময় আমাদের সংসার ধ্বংস হয়েছে। আমার কাছের মানুষগুলোর কারণে তোমাকে ছেড়ে দিয়েছি কিন্তু আমি তোমাকে আমার মন থেকে কোনদিনই ছেড়ে দেয়নি। আমার মনের মাঝে তুমি থাকবে মৃত্যুর আগ পর্যন্ত। আমি তোমার সাথে বিয়ে করেছিলাম সংসার করার জন্য কিন্তু কোন কারণে হয়ে উঠেনি। আমি এখন সবই বুঝতে পারছি। আমাকে তুমি ক্ষমা করে দিও।
ওনি আমার হাতের রান্না খাবার বেশি পছন্দ করতেন। আমার দিকে ওনি বার বার তাকাচ্ছিলেন যে, আমি নিজের হাতে কোন খাবার তৈরি করে নিয়ে গেছি কিনা? ওনি তালের পিঠাসহ সব ধরণের শীতের পিঠা খেতে বেশি পছন্দ করতেন। আমি সময় পেলেই ওনার জন্য খাবার বানিয়ে নিয়ে যেতাম।

বিদিশা আরও বলেন, আমি যখন সিএমএইচ-এ তাকে দেখতে গেলাম, তখন দেখি ওনি (এরশাদ) নাস্তা করেন নাই, অপেক্ষায় আছে এরিকের। দুপুরে এরিক স্কুল থেকে ফিরলে লাঞ্চ করবেন বললেন। আমাকে স্যরি বলে বললেন, তোমার সাথে অনেক অন্যায় হয়ে গেছে। যা এখন আমার সংশোধন করার কোন উপায় নেই। এরপর অন্য প্রসঙ্গ…। অনেক স্মৃতি চারণ করলেন তিনি। আরও বললেন, রাত জেগে এরিক শুধু বক বক করে। যা নাকি আমি করতাম এক কালে। উনি চোখ বন্ধ করলে এরিক নাকি চোখ খুলে দেয়, বলে আচ্ছা ড্যাডি এইবার তাহলে একটা রবীন্দ্র সঙ্গীত শোনাই, কিন্তু তুমি তো ঘুমাবে না আমার আগে। গান করতে করতে এরিক নিজেই ঘুমিয়ে পড়ে। আমিও নাকি একই কাজ করতাম অনেক বছর আগে। সেদিন উনার চোখে জল ছিল। জীবন মৃত্যুর এই শেষ সময়ে উনার উপলব্ধিগুলো নিশ্চয়ই মিথ্যা না।

বিদিশা আরও বলেন, ৪০ মিনিট আমার হাত উনার দুই হাত দিয়ে ধরে বসেছিলেন। চোখ দিয়ে আমাদের দুজনেরই পানি পরছিল। আমাদের দুইজনের মধ্যে সময়ের গ্যাপটা অনেক বেশি হয়ে গেছে এতদিনে, তাই উনার জীবনের শেষ সময়ে আমি কোনো সেবা করতে পারলাম না। উনি বললেন, আমি নাকি বেশি সোজা সাপ্টা, সাধা-সিধা ছিলাম, লম্বা হয়েছি, বুদ্ধি হয়নি আমার। আমি আজও খুশি আছি অল্প বুদ্ধিতে সোজাসাপ্টা সিম্পল জীবনে। রাজনীতির প্যাচ, ষড়যন্ত্র ও টেনশন নিয়ে ঘুমাতে হয় না আমার। সততার সাথে স্বল্প পরিশ্রমে আমার ফাউন্ডেশনটা চালাই তাতেই আমার শান্তি।


সিএনআই’র প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।