২৪, আগস্ট, ২০১৯, শনিবার | | ২২ জ্বিলহজ্জ ১৪৪০

“স্বার্থপর না, তবে কিছুটা আত্নকেন্দ্রিক” নানজীবা

প্রকাশিত: ৩:১০ অপরাহ্ণ , আগস্ট ৯, ২০১৯

“স্বার্থপর না, তবে কিছুটা আত্নকেন্দ্রিক” নানজীবা

বহুমাত্রিক এক প্রতিভার নাম নানজীবা খান। একাধারে ট্রেইনি পাইলট,, সাংবাদিক,নির্মাতা, উপস্থাপিকা ,লেখক, ব্র্যান্ড অ্যাম্বাসেডর, বিএনসিসি ক্যাডেট অ্যাম্বাসেডর, ইউনিসেফ-এর তরুণ প্রতিনিধি এবং বিতার্কিক। তার বহুমুখী প্রতিভার কথা প্রায় সবারই জানা।এবার নতুন খবর হল বিশেশ চাহিদা সম্পন্ন শিশুদের কর্মসন্থান প্রতিষ্ঠার জন্য ভিন্নধর্মী কাজ শুরু করেছেন।

সম্প্রতি অস্ট্রালিয়ান এডুকেশন কোম্পানি “স্টাডিনেট” এর বিজ্ঞাপণের মডেল হলেন তিনি। রচনা ও নির্দেশনাও তিনিই দিয়েছেন। এ প্রসঙ্গে নানজীবা বলেন, নিজের ডিরেকশনে কাজ করাই বোধ হয় সবচেয়ে কঠিন। তবে এতোদিন ক্যামেরার পিছনে কাজ করেছি এবার সামনে মডেল হিসেবে কাজ করার অভিজ্ঞতা দারুণ।

সামনে মডেল হিসেবে পাবো কিনা সে বিষয়ে তিনি জানান, “একটি ম্যাগাজিনের কভার মডেল হিসেবে কাজ শেষ করলাম। কভার স্টোরিও আমাকে নিয়েই। আর বিজ্ঞাপণের কথা যদি বলি এর আগেও বেশ কয়েকটা প্রমিনেন্ট কোম্পানি থেকে টিভিসি’র অফার পেয়েছি কিন্তু করিনি। কারণ আমি কিছু নীতি ফলো করি সেটি হল কাজ করলে করার মত করেই কাজ করবো। আমার কাছে টিভিসি মানে সিঙ্গেল মডেল বা মডেল কেন্দ্রীক টিভিসি। গধবাধা দলীয় সঙ্গীত আমার একেবারেই অপছন্। আমি যা বলি স্পষ্ট ভাবে সোজা করে বলি, ক্যামেরার সামনে সাধু আর পিছনে ভিন্ন মানুষ এটি আমার ক্ষেত্রে না। কেউ যদি মনে করেন আমাকে নিয়ে কাজ করবে তাহলে তার মাথায় রাখতে হবে যে আমাকে কেন্দ্রীক স্ক্রিপ্ট হলে আমি অবশ্যই মডেল হিসেবে কাজ করবো। অন্যথায় আমি ক্যামেরার পিছনেই কাজ করতে বেশি পছন্দ করি। মোট কথা আই ডোন্ট ওয়ার্ক হোয়ার আই ডোন্ট গেট দি হাইয়েস্ট প্রাওরিটি”।

নানজীবা আরো জানান, “যখন আমি ক্যামেরার সামনে কাজ করি তখন সবার কথা চিন্তা করেই সিদ্ধান্ত নিই। কিন্তু যখন আমি স্ক্রিনে আসি তখন আমি কিছুটা আত্নকেন্দ্রিক হয়ে যাই। কারণ ক্যামেরার সামনে যে কাজ করে তার কর্তব্যটা ঠিক মত পালন করা উচিত। তার উপরে গোটা প্রোডাকশনের আউটপুট নির্ভর করে”।

সম্প্রতি প্রতিষ্ঠা করেছেন অনলাইন শপ জীম’স কালেকশন। উল্লেখ্য যে তার ছোট ভাই তাসিন খান জীম একজন অটিস্টিক শিশু। তার হাতে বানানো জিনিস গুলো দিয়েই শুরু করলেন অনলাইন বিজনেসের যাত্রা। এখানে সুবিধা বঞ্চিত শিশুদের হাতে বানানো সামগ্রী ছাড়াও রয়েছে আমদানীক্রিত বিভিন্ন পণ্য। সারা বাংলাদেশের যেকোনো প্রান্ত থেকেই অর্ডার করা যাবে। পণ্য পৌছানো হবে ডেলিভারির মাধ্যমে।

এই সম্পর্কে নানজীবা বলেন, “শুধু আমার ভাই নয় যেকোনো বিশেষ শিশুর তৈরি জিনিস আমি আমাদের পেজের মাধ্যমে ছড়িয়ে দিতে চাই তাদের প্রতিভা। সময় বদলেছে এই শিশুদের সংখ্যাও বেড়ে যাচ্ছে। তাদেরকে আত্ননির্ভরশীল করে গড়ে তুলতে হবে। তারা জনশক্তিতে পরিণত হলেই সে আর পরিবারের বোঝা নয় বরং সম্পদে পরিণত হবে। এই বিপুল সংখ্যাকে দেশের অর্থনৈতিক উন্নয়নের অংশ হিসেবে গড়ে তুলতে পারলে দেশের সামগ্রিক উন্নতি বেড়ে যাবে।

তিনি “অ্যারিরাং ফ্লাইং স্কুল” এ “ট্রেইনি পাইলট” হিসেবে অধ্যয়ন করছেন।

বর্তমান কাজ নিয়ে জানান, “আমি পুর্ণদৈর্ঘ্যের ডকুফিল্ম দি আনওয়ান্টেড টুইন নিয়ে কাজ করছি। এটি নিয়ে পরিকল্পনা ও প্রত্যাশা দুটোই অনেক বেশি। এতে অভিনয় করেছেন হিমু,অ্যানি খান, শিরিন আলম, রাজু আলীম, সাইফ সাইফুল সহ আরও অনেকে। পর্দায় আরো দেখা যাবে আফসানা মিমি, দিলারা জামান, বন্যা মির্জা, হোমায়রা হিমু, আরজে ত্যাজ, চিত্রনায়িকা ববি সহ আরো অনেক জনপ্রিয় মুখ। সেকেন্ড স্লটের কাজ চলছে।ডকুফিল্মটির শেষে বিষয়টি নিয়ে তথ্যমন্ত্রী হাসানুল হক ইনু, সংস্কৃতিমন্ত্রী আসাদুজ্জামান নূর, সাবেক পররাষ্টমন্ত্রী দিপু মনি,আইসিটি প্রতিমন্ত্রী জুনাইদ আহমেদ পলক, এভারেস্ট বিজয়ী নিশাত মজুমদার এবং আস্ট্রেলিয়া, ভিয়েতনাম, নেপাল, ভূটান,শ্রীলংকাসহ মোট ১১ টি দেশের নাগরিকদের মতামত দেখা যাবে আশা করি খুব শীঘ্রই দর্শক আমার মৌলক গল্পের এই ভিন্নধর্মী কাজটি দেখতে পারবেন।

মডেল: নানজীবা খান

সিএনআই/এসআই


সিএনআই’র প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।