২৪, আগস্ট, ২০১৯, শনিবার | | ২২ জ্বিলহজ্জ ১৪৪০

তবুও যে কারণে বিসিবির আলোচনায় হাথুরু

প্রকাশিত: ৪:২৭ অপরাহ্ণ , আগস্ট ৯, ২০১৯

তবুও যে কারণে বিসিবির আলোচনায় হাথুরু

শ্রীলঙ্কান বংশোদ্ভূত কোচ চন্দিকা হাথুরুসিংহে। বাংলাদেশ দলের কোচ ছিলেন ২০১৪ থেকে চার বছর। কিন্তু ২০১৭ সালে সে দায়িত্ব ছেড়ে গিয়েছিলেন হঠাৎ করেই। বিদায় বেলায় দলের মধ্যে ছড়িয়ে ছিল প্রচণ্ড অসন্তোষ। ক্রিকেটারদের সঙ্গে তার বিরোধ ছিল স্পষ্ট।

এরপর নিজ দেশ শ্রীলঙ্কার দায়িত্ব নিলেও সেখানেও টিকতে পারেননি তিনি। সম্প্রতি বিদায় করে দেয়া হয় তাকে। আর এখানেও দলের মধ্যে দেখা দেয় তার সঙ্গে সম্পর্কের টানাপোড়েন। এক কথায় ভালো কোচ হলেও পরপর দুই দেশের ক্রিকেট থেকেই তার বিদায়টা হয় চরম বাজেভাবে। এমন বাজে বিদায়ের জন্য তার স্বৈরাচারী মনোভাব ও অতিরিক্ত পারিশ্রমিক নেয়াটাই ছিল মূল কারণ।

এদিকে বিশ্বকাপের পরেই কোচ বিদায় করে দেয়ায় কোচ খুঁজছে বিসিবি। কিন্তু সেই হাথরুকেই আবারও দেখা যাচ্ছে বিসিবির সংক্ষিপ্ত তালিকাতে! এছাড়াও সেই তালিকায় আছেন নিউজিল্যান্ডের সাবেক কোচ মাইক হেসনও। যাকে টাইগারদের সম্ভাব্য গুরু হিসেবে সবচেয়ে বেশি এগিয়ে রাখা হচ্ছে।

এছাড়া তালিকায় থাকা অন্যদের মধ্যে ইতিমধ্যেই সাক্ষাৎকার দিয়ে গেছেন জিম্বাবুয়ের গ্র্যান্ট ফ্লাওয়ার ও দক্ষিণ আফ্রিকার রাসেল ডমিঙ্গো।তবে এদের মধ্যে এখন সকল আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে মাত্র দু’জন- হাথুরু আর হেসন।

কিন্তু কেন তাদের নিয়ে এত গুঞ্জন! এ বিষয়ে নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক বিসিবির এক পরিচালক বলেন, ‘আসলে কেউই এখন পর্যন্ত চূড়ান্ত নয়। আলোচনা হচ্ছে, কথা হবে সবার সঙ্গে এরপর দুই পক্ষের অনেক কিছুই মেলার আছে, তখন চূড়ান্ত হবে। হ্যা, তবে এই নামগুলো আছে আমাদের তালিকাতে। সেখান থেকে কোচ মাইক হেসনও হতে পারে বা অন্য কেউ।’

অন্যদিকে বাজে অভিজ্ঞতার পরও হাথরুসিংহে কেন আলোচনায়! এরইমধ্যে ক্রিকেট ওয়েবসাইট ক্রিকইনফো লিখেছে- বিসিবির সংক্ষিপ্ত তালিকাতে এই লঙ্কান কোচের নাম। এমন বাজে বিদায়ের পরও তাকে কেন সংক্ষিপ্ত কোচের তালিকাতে রাখা হয়েছে?

জবাবে বিসিবির আরেক পরিচালক বলেন, ‘আসলে আমাদের সব কিছু জানা নেই। কোচের গোটা বিষয়টি দেখছেন বিসিবি সভাপতি। যেহেতু আমরা কোচের বিজ্ঞাপন দিয়েছি হাথুরু আবেদন করতেই পারেন। তাকে নেয়াই হবে এমন কিছু নয়। সত্যি কথা বলতে হাথুরু কিন্তু কোচ হওয়ার দৌড়ে মোটেও এগিয়ে নেই। নাম, আছে থাক। তবে এটা অনেকটাই নিশ্চিত যে, হাথুরুসিংহে অন্তত কোচ হবেন না।’

যদিও শোনা যাচ্ছে যে, বিসিবির বেশ কয়েকজন প্রভাবশালী পরিচালক হাথুরুকে নিতেই বেশি আগ্রহী। তবে শেষ পর্যন্ত এই লঙ্কানকে কোনভাবেই কোচ করছে না বলেই অনেকটা আভাস পাওয়া গেছে।

আবার কিউই রিক্রুট মাইক হেসনও যে টাইগারদের কোচ হয়ে যাচ্ছেন, তাও কিন্তু নয়। ২০১৮তে বিশ্বকাপের মাত্র এক বছর বাকি থাকতেই নিউজিল্যান্ড দলের দায়িত্ব ছাড়েন তিনি। বিশ্বকাপের ঠিক এক বছর আগে পদত্যাগ না করতে তাকে অনুরোধ করা হয়েছিল কিউই বোর্ডের পক্ষ থেকে। কিন্তু তিনি নিজের সিদ্ধান্তে অটল থাকেন।

এরপর তিনি ভারতের আইপিএলে কিংস ইলেভেন পাঞ্জাবের দায়িত্ব পালন করে। তবে গতকালই এক টুইট বার্তায় হেসন জানিয়েছেন, সেই দায়িত্বও ছাড়ছেন তিনি।

তাইতো গুঞ্জন চলছে, হেসন কোচ হতে চান ভারতের। নিউজিল্যান্ডের দায়িত্ব ছাড়ার পর তার অবশ্যই লক্ষ্য ছিল ভারতের মতো একটি দলের প্রতি। বর্তমানে সেখানেও প্রয়োজন প্রধান কোচ। তাই হয়তো সেখানেই আগে চেষ্টা করবেন তিনি। যদিও তাকে এগিয়ে রাখার কারণ হিসেবে জানা গেছে বোর্ড সভাপতির ইচ্ছার কথা।

অন্যদিকে, বিসিবির প্রস্তাব আবারও ফিরিয়ে দিয়েছেন ইংল্যান্ডের পল ফারব্রেস। স্টিভ রোডসকে দায়িত্ব দেয়ার আগে তাকে অনেকটাই চূড়ান্ত করে ফেলেছিল বিসিবি। কিন্তু সেবার তার পরিবারের কারণে বাংলাদেশের কোচ হতে পারেননি তিনি। আর এবার আলোচনায় থাকলেও বিসিবিকে না করে দিয়েছেন তিনি।

ফারব্রেস ছাড়াও বিসিবির প্রস্তাব ফিরিয়ে দিয়েছেন ইংল্যান্ডের সাবেক কোচ অ্যান্ডি ফ্লাওয়ার। তাকে কোচ হিসেবে পেতে বেশ আগ্রহী ছিল বিসিবি। কিন্তু দুই দফায় প্রস্তাব ফিরিয়ে দিয়েছেন জিম্বাবুয়ের এই সাবেক অধিনায়ক। যে কারণে বিসিবিকে এখন ভাবতে হচ্ছে অন্যদের নিয়ে। এখন দেখার বিষয় শেষ পর্যন্ত কে পাচ্ছেন টাইগারদের গুরুর দায়িত্ব!


সিএনআই’র প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।