১৭, আগস্ট, ২০১৯, শনিবার | | ১৫ জ্বিলহজ্জ ১৪৪০

আদালতে স্ত্রী ,স্বামীর কিডনি বিক্রি করে

প্রকাশিত: ৫:৫৭ অপরাহ্ণ , আগস্ট ৯, ২০১৯

আদালতে স্ত্রী ,স্বামীর কিডনি বিক্রি করে

পশ্চিমবঙ্গের আলিপুর আদালতে স্বামীর কিডনি বিক্রি করে দেয়ার অভিযোগে এক স্ত্রীর বিচার চলছে। আদালতের বরাতে আনন্দবাজার জানিয়েছে, দক্ষিণ ২৪ পরগনার বাসিন্দা উত্তম মাইতি একটি বেসরকারি সংস্থার পদস্থ কর্মকর্তা। তার স্ত্রী জুঁই সাহার বিরুদ্ধে স্বামীর কিডনি বিক্রি করার মামলা আদালতে বিচারাধীন।

২০১১ সালে উত্তম মাইতি নামের এক ব্যক্তির সঙ্গে জুঁই সাহা নামে এক নারীর পরিচয় হয়। তাদের দুজনের বাড়ি পশ্চিমবঙ্গের দক্ষিণ চব্বিশ পরগণায়। পরিচয় থেকে প্রেম তারপর প্রণয় এবং শেষে বিয়ে হয় তাদের। ২০১৪ সালে ওই দম্পতির যমজ মেয়ে হয়।

বৃহস্পতিবার আদালত চত্বরে তিনি বলেন, ‘২০১৬ সালের নভেম্বরে আমার কিডনি নেয়া হয়। তখন শাশুড়ি হাসপাতালে ভর্তি ছিলেন। কিডনি দান করার কয়েক সপ্তাহ পর থেকেই সাংসারিক নানা বিষয় নিয়ে আমার সঙ্গে ঝগড়া করে মাঝেমধ্যে বাপের বাড়িতে চলে যেত জুঁই। ২০১৮ সালের অগস্টে দুই মেয়েকে রেখে পাকাপাকি ভাবে চলে যায় সে।’

উত্তম মাইতির দাবি, দুই মাস আগে জুঁইয়ের আলমারি থেকে একটি ফাইল খুঁজে পান তিনি। তাতে তার ছবির নীচে লেখা রয়েছে সাবির আহমেদ। সেই সাবির এক নারীকে কিডনি দান করেছেন বলে প্রমাণ রয়েছে।

বিচারকের কাছে উত্তম মাইতি অভিযোগ করেছেন, তিনি সব নথিপত্র খতিয়ে দেখে জেনেছেন, তার শাশুড়ির কিডনি আদৌ নষ্ট হয়নি। মা ও মেয়ে মিলে ভুয়া নামে তার কিডনি সাড়ে তিন লাখ টাকায় বিক্রি করেছেন। ওই কিডনি যিনি কিনেছেন তারও খোঁজও পেয়েছেন তিনি।

উত্তম মাইতির স্ত্রী জুঁই এ প্রসঙ্গে বলেন, ‘জোর করে কিডনি বিক্রি করা হয়নি। উত্তম নিজের ইচ্ছায় ওই কিডনি বিক্রি করেছে। আমার মা এ বিষয়ে সবটাই জানেন। আমি ওই কিডনি বিক্রি করিনি। সংসারে আর্থিক অনটনের জন্যই আমি বাড়ি ছেড়ে চলে এসেছি।’

উত্তমের আইনজীবী অভিষেক হাজরা বলেন, ‘আমার মক্কেলের কাছে কিডনি দানের সব রকম নথিই রয়েছে। ঘটনার সঙ্গে উত্তমের স্ত্রী এবং স্ত্রীর মায়ের কী ভূমিকা ছিল, সে সংক্রান্ত নথিও আমাদের হাতে এসেছে। আমরা বিচারকের কাছে সেসব পেশ করেছি।’

বৃহস্পতিবার আলিপুর আদালতের অতিরিক্ত মুখ্য বিচারবিভাগীয় বিচারক সুব্রত মুখোপাধ্যায়ের উপস্থিতিতে উত্তম মাইতির আইনজীবী এমন অভিযোগ করেন। আদালত সূত্রে জানা গেছে, বিচারক তার অভিযোগ গ্রহণ করেছেন। আগামী সপ্তাহে মামলার শুনানি শুরু হবে।


সিএনআই’র প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।