২০, আগস্ট, ২০১৯, মঙ্গলবার | | ১৮ জ্বিলহজ্জ ১৪৪০

মাংস সংরক্ষণের উপায় জেনে নিন এখনই

প্রকাশিত: ১২:১৭ পূর্বাহ্ণ , আগস্ট ১২, ২০১৯

মাংস সংরক্ষণের উপায় জেনে নিন এখনই

বছর ঘুরে আবার আসছে ঈদুল আযহা, কুরবানীর এই ঈদের মাহাত্মই হচ্ছে পশু কুরবানী দেওয়া। সেই সঙ্গে আরও অনেক পরিকল্পনা। তবে সবচেয়ে বেশি পরিকল্পনা থাকে তো পশু কেনা, কুরবানীর যাবতীয় প্রক্রিয়াদি, মাংস বণ্টন, বিভিন্ন ধরনের রান্নাবান্না আর মাংস সংরক্ষণ। কুরবানীর মাংস দিয়েই বাড়িতে তৈরি হবে মজাদার সব রেসিপি। তবে মজাদার সব রেসিপি খাবার আগে কুরবানীর মাংস সংরক্ষণ নিয়েই বিপাকে পড়তে হয় অনেকেরই। কারণ মাংস সংরক্ষণে কোনো ভুলত্রুটি হলে তা কমিয়ে দিতে পারে রেসিপির স্বাদ। নিচের টিপসগুলো থেকে মাংস সংরক্ষণের বিভিন্ন পদ্ধতি জেনে নিন-

মাংস ভালোভাবে সংরক্ষণের জন্য অবশ্যই ফ্রিজ পরিষ্কার করে নিতে হবে আগে থেকেই। তাহলে ফ্রিজে জমে থাকা ময়লা ও জীবাণুর কারণে মাংসের গুনাগুণ নষ্ট হবে না।

ফ্রিজ পরিষ্কার করতে গিয়ে আবার সব বরফ গলিয়ে ফেলবেন না। ফ্রিজ পরিষ্কারের পর ফ্রিজে আবার বরফ জমিয়ে নিন। এতে মাংস দ্রুত ঠাণ্ডা হবে এবং মান ভালো থাকবে।

একটা ভুল আমরা অনেকেই করি। পশু জবাইয়ের সঙ্গে সঙ্গেই মাংস ফ্রিজে রেখে দিই। এটা একদমই ঠিক নয়। কারণ এসময় মাংস কিছুটা গরম থাকে। মাংসের তাপমাত্রা স্বাভাবিক হওয়ার পরে ফ্রিজে সংরক্ষণ করা উচিত।

মাংস সংরক্ষণ করার আগে অবশ্যই অতিরিক্ত রক্ত ধুয়ে পরিষ্কার করে পানি ঝরিয়ে নিতে হবে। পানি পুরোপুরি ঝরে গেলে পরিষ্কার ব্যাগে ভরে মাংস সংরক্ষণ করতে হবে। একটি মাংসের প্যাকেট রেখে মাঝে কাগজ দিয়ে আরেকটি প্যাকেট রাখা যেতে পারে। এতে দীর্ঘদিন ফ্রিজে থাকলে একটির সঙ্গে আরেকটা প্যাকেট আটকে যাবে না। ফ্রিজ থেকে সহজেই মাংসের প্যাকেট বের করে নিতে পারবেন।

মাংস রাখার পরে ফ্রিজের তাপমাত্রা একদম কমিয়ে দিতে হবে। এতে মাংস তাড়াতাড়ি জমবে। ফ্রিজে গরুর মাংস এবং খাসির মাংস পাঁচ থেকে ছয়মাস পর্যন্ত রেখে খাওয়া যায়। তবে কলিজা বেশিদিন ফ্রিজে না রাখাই ভালো। এতে স্বাদ ও গুণ দুটোই নষ্ট হয়ে যায়।

ফ্রিজে জায়গা না হলে কি করবেন

ফ্রিজে যদি মাংস রাখার জায়গা না হয় তাহলে কিছু মাংস জ্বাল দিয়ে রাখুন। প্রতিদিন জ্বাল দিলে অন্তত চার থেকে পাঁচ দিন মাংস ভালো থাকবে। বিশেষ করে মাংসে চর্বির পরিমাণ বেশি থাকলে মাংস বহুদিন এভাবে সংরক্ষণ করা যায় এবং খেতেও বেশ ভালো লাগে।

রোদে শুকিয়েও মাংস সংরক্ষণ করা যায়। এভাবে মাংস দীর্ঘদিন ভালো থাকে। রেখে দিয়ে অনেকদিন ধরে খাওয়া যায়। এর জন্য চর্বি ছাড়া মাংস নিতে হবে। প্রথমে মাংস পরিষ্কার করে ধুয়ে ছোট টুকরা করে নিন। এবার তারে বা শিকে একটার পর একটা মাংস গেঁথে নিন। এবার এগুলো রোদে দিন। চুলার ওপরে তার বেঁধেও আগুনের তাপে মাংস শুকানো যায়। এই উপায়ে মাংস সংরক্ষণ করলে মাংসের সমস্ত পানি টেনে মাংস একদম শুকিয়ে যায়, ফলে দীর্ঘদিন তা ভালো থাকে। রোদে মাংস শুকাতে হলে পাতলা কাপড় বা নেট দিয়ে মাংস ঢেকে দিন। এতে করে ধুলোবালি পড়ে মাংস নোংরা হবে না। পর পর ৫-৬ দিন মাংস রোদে দিন। মাংস শুকিয়ে একদম শক্ত হলে মুখ বন্ধ করা পাত্রে বা টিনের কৌটায় মাংস ভরে ভালমতো মুখ বন্ধ করে রাখুন। মাঝে মাঝে কৌটা ধরে মাংস রোদে দিন। তাহলে পোকার আক্রমণ হবে না। রোদে শুকানো মাংস রান্না করার আগে কমপক্ষে ১ ঘণ্টা হালকা গরম পানিতে মাংস ভিজিয়ে রাখুন, এতে মাংস নরম হবে।

লবণ দিয়ে শুকিয়ে মাংস সংরক্ষণকে বলা হয় `কিউরিং`। মাংস ধুয়ে নিয়ে তাতে লবণ মেখে রোদে শুকাতে দিতে হবে। লবণ আসলে মাংসকে জীবাণুমুক্ত করে ফেলে। ফলে অনেক দিন পর্যন্ত মাংস ভালো থাকে। লবণ মাখার সময়ই মাংসের পানি বেরিয়ে যায়।


সিএনআই’র প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।