১৭, আগস্ট, ২০১৯, শনিবার | | ১৫ জ্বিলহজ্জ ১৪৪০

কাশ্মিরিদের ঈদ কাটছে যেভাবে

প্রকাশিত: ২:৩২ অপরাহ্ণ , আগস্ট ১২, ২০১৯

কাশ্মিরিদের ঈদ কাটছে যেভাবে

প্রতি বছর ঈদুল আজহার অন্তত সপ্তাহখানেক আগে থেকেই উৎসবে মেতে ওঠে কাশ্মিরিরা। কিন্তু এবার উৎসবের লেশমাত্র নেই সেখানে। ঈদের দিনের নামাজেও অংশ নিতে পারেনি মানুষ। বড় বড় মসজিদগুলোতে নামাজের অনুমতি মেলেনি। তবে রাজধানী শ্রীনগরে ছোট কয়েকটি মসজিদে কড়া নিরাপত্তার মধ্যে ঈদের নামাজ আদায় করেছেন কিছু মানুষ।

ভারতীয় টেলিভিশন এনডিটিভি জানিয়েছে, কাশ্মির ও শ্রীনগরের বেশিরভাগ মসজিদে ঈদের নামাজ আদায়ের অনুমতি দেয়নি দেশটির সরকার। ফলে ভারতের একমাত্র মুসিলম সংখ্যাগরিষ্ঠ অঞ্চলটিতে ঈদের কোনো আমেজই নেই।

জম্মু-কাশ্মিরের কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, রাজ্যটির সাবেক মুখ্যমন্ত্রী ওমর আবদুল্লাহ ও মেহবুবা মুফতিসহ জ্যেষ্ঠ বেশ কয়েকজন রাজনীতিবিদ, যারা গত সপ্তাহ থেকে গ্রেপ্তার হয়েছেন, তাদেরকে স্থানীয় মসজিদগুলোতে নামাজ আদায়ের অনুমতি দেওয়া হয়েছে।

ভারতের বিভিন্ন রাজ্যে অবস্থানরত মুসলিমরা জানান, প্রতিবছর ঈদের বেশ কিছুদিন আগে থেকেই মানুষ উৎসবের প্রস্তুতি নিতে শুরু করে। দলবেধে বাজারে যায়, পশু কেনে, সাজ-সরঞ্জামের বাজারে ভীড় জমে। তবে এবারের বাস্তবতা একেবারেই আলাদা। সরকারের পক্ষ থেকে কাশ্মিরিদের ঈদ উদযাপনে যথাযথ ব্যবস্থা নেওয়ার কথা জানানো হলেও পরিস্থিতি বলছে ভিন্ন কথা। শ্রীনগরের বেকারিগুলোতে প্রতি বছর ঈদের আগের দিন পণ্য ফুরিয়ে যায়, সেখানে এবার প্রতিবারের তুলনায় ১০ ভাগ পণ্যও বিক্রি হয়নি। কোরবানির পশু বিক্রির হারও একেবারেই কম।

জাতির উদ্দেশে বক্তৃতায় প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি অঙ্গীকার করেছিলেন, উপত্যকার মানুষ যেন ঈদ উৎসবে মেতে উঠতে পারে সেজন্য সব ব্যবস্থা করবে সরকার। স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানিয়েছিল, মানুষ যেন স্বস্তিতে ঈদ উদযাপন করতে পারে সেজন্য ছুটির দিনেও ব্যাংক খোলা রাখা হয়েছে। ৩,৬৯৭টি রেশন দোকানের মাধ্যমে নিত্যপ্রয়োজনীয় সামগ্রী বিলি হচ্ছে। ৬টি পাইকারি বাজারে পর্যাপ্ত কাঁচা আনাজ পাঠানো হয়েছে। আড়াই লক্ষ ভেড়া পাঠানো হয়েছে, মানুষ যাতে কোরবানির জন্য তা কিনতে পারেন। ঈদগাহও প্রস্তুত রাখা হয়েছে। তবে বাস্তবে এর উল্টোটাই দেখা যাচ্ছে।

কাশ্মিরে ঈদুল আজহায় কয়েক লাখ পশু কোরবানি করা হয় প্রতিবছর। এবার বাজারের অবস্থা ভয়াবহ। মানুষ পশু কিনতে আসছে না। পশুর দামও একেবারেি পড়ে গেছে।

কাশ্মিরের রাস্তায় কোনো নিরাপত্তা চৌকি আর সামরিক-আধা সামরিক বাহিনীর টহল ছাড়া আর কিছুই চোখে পড়ছে না। আতঙ্কে সাধারণ কাশ্মিরিরা কেনাকাটা করতে বাইরেও বের হচ্ছে না। উপত্যকায় ঈদের দিনও মোবাইল সংযোগ বিচ্ছিন্ন রয়েছে। ফলে বাইরে থাকা স্বজনদের সঙ্গে কেউই ঈদের শুভেচ্ছাটাও বিনিময় করতে পারছেন না।


সিএনআই’র প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।