২৪, আগস্ট, ২০১৯, শনিবার | | ২২ জ্বিলহজ্জ ১৪৪০

মাংসেও কি অ্যান্টিবায়োটিক?

প্রকাশিত: ১:২২ অপরাহ্ণ , আগস্ট ১৩, ২০১৯

মাংসেও কি অ্যান্টিবায়োটিক?

কুরবানীর ঈদের মূল আকর্ষণ হলো মাংস খানাপিনা আর বিলি-বাটোয়ারা। কুরবানীর পশুর মধ্যে গরুর আধিক্যই বেশি আমাদের দেশে। কিন্তু এবার দেশে সম্প্রতি গরুর দুধের নমুনায় অ্যান্টিবায়োটিকের অস্তিত্ব ধরা পড়ায় এখন গরুর মাংসের মান নিয়েও ভোক্তাদের মনে প্রশ্ন উঠেছে।

সবার মনে এখন একটাই ভয় যে, গরুর দুধের মধ্যে যদি অ্যান্টিবায়োটিক পাওয়া যায়, তাহলে ওই গরুর মাংসেও তো অ্যান্টিবায়োটিক থাকবে। গরুর শরীর থেকেই তো দুধটা আসছে।

তাহলে আমরা এই দূষিত মাংস কিভাবে খাব, মাংস খাওয়া কি ছেড়েই দেবো! তারও সমাধান রয়েছে। বিবিসি বাংলায় বিশেষজ্ঞদের দেওয়া কিছু মতামত আর পরামর্শ নিয়ে থাকছে আমাদের আজকের আয়োজন-

আসলে অ্যান্টিবায়োটিক দেওয়া গরুর মাংস কি নিরাপদ?

সম্প্রতি সরকারের জনস্বাস্থ্য ইনস্টিটিউটের পরীক্ষাতে গরুর দুধের পাশাপাশি, এর মাংসেও অ্যান্টিবায়োটিকের অস্তিত্ব পাওয়া যায়।

এ ব্যাপারে পশু চিকিৎসকরা জানিয়েছেন, গরু যদি অসুস্থ হয়ে পড়ে এবং এর শরীরে ব্যাকটেরিয়া সংক্রমণ হয় তাহলে অ্যান্টিবায়োটিক খাওয়ানো ছাড়া আর কোনো উপায় থাকেনা।

কিন্তু পশুর অ্যান্টিবায়োটিক সহজলভ্য হওয়ায় বেশিরভাগ ক্ষেত্রেই এর ব্যবহার বেশি হচ্ছে বলে মনে করে বিশেষজ্ঞরা। একটা সমস্যা তারা চিহ্নিত করেছেন- গরু বাছুরকে কোনো প্রেসক্রিপশন ছাড়াই বা কোনো হাতুড়ে ডাক্তারের মাধ্যমে একটা ওষুধ লিখিয়ে পশুগুলোকে খাইয়ে দেওয়া হচ্ছে। আবার অ্যান্টিবায়োটিক খাওয়ালে কোর্স সম্পূর্ণ করছেনা। এক কথায় নিয়মনীতির কোনো তোয়াক্কাই করছে না কেউ।

গরুকে অ্যান্টিবায়োটিক দেওয়া হলে, তাহলে সেটার রেসিডিউটা গরুর শরীরে ওষুধভেদে ৭ থেকে ১৫ দিন থেকে যায়। এই সময়কে গরুর রেস্টিং পিরিয়ড বা উইথড্রয়াল পিরিয়ড বলা হয়। এই রেস্টিং পিরিয়ড শেষ হওয়ার পর গরুর দুধ বা মাংস খেলে কোনো ঝুঁকি থাকে না।

অ্যান্টিবায়োটিকের এমন ব্যবহার ও বিক্রি বন্ধের নির্দেশনা চেয়ে এই বছরের এপ্রিলে রুল জারি করেছে হাইকোর্ট। সেখানে নিবন্ধিত চিকিৎসকের ব্যবস্থাপত্র ছাড়া অ্যান্টিবায়োটিক বিক্রি করা যাবেনা বলে উল্লেখ করা হয়। তারই প্রেক্ষিতে প্রাণীসম্পদ অধিদপ্তরের মাঠ পর্যায়ের কর্মীরা জেলা উপজেলার প্রতিটি ওষুধের দোকানে তদারকি শুরু করেছে।

সেইসঙ্গে দেশের বিভিন্ন খামারে অ্যান্টিবায়োটিকের সঠিক ব্যবহারের বিষয়ে প্রচারণা চালানোর পাশাপাশি সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন দপ্তরের সমন্বয়ে গরুর মাংসের মান পরীক্ষা চলে।

বিশেষজ্ঞরা জানান, মাঠপর্যায়ের কর্মীরা খামারগুলো নিয়মিত তদারকিতে নিয়োজিত রয়েছে। যেসব অ্যান্টিবায়োটিক পশু এবং মানুষ উভয়ের শরীরে ব্যবহৃত হয়। সেগুলোকে এড়িয়ে চলার কথা বলা হয়েছে।

এছাড়া অ্যান্টিবায়োটিকের কোর্স শেষ করা আর ওষুধ খাওয়ানো শেষে এটি বিক্রির আগে ৭ থেকে ১৫ দিন রেস্টে থাকার বিষয়টিও প্রচার করা হয়েছে। ফার্মেসিগুলোতেও মনিটরিং এর চেষ্টা চলছে।

বেশি করে জনবল সৃষ্টির জন্য একটা প্রস্তাবনা সরকারের কাছে জমা দেওয়া হয়েছে। তাদের সেই প্রস্তাবনা বর্তমানে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয় হয়ে অর্থ মন্ত্রণালয়ে প্রক্রিয়াধীন আছে। সেটা পাস হলে সমস্যাগুলো অনেকাংশেই সমাধান হয়ে যাবে বলে জানান তিনি।

অ্যান্টিবায়োটিক দেওয়া গরুর মাংস খাবো কীভাবে?

গরুর মাংসে যে অ্যান্টেবায়োটিক ব্যবহার করা হয় সেটা যদি মানবদেহে প্রবেশ করে তাহলে বড় ধরণের স্বাস্থ্য ঝুঁকির আশঙ্কা থাকে বলে জানিয়েছেন পুষ্টিবিদেরা। তবে নিয়ম মেনে গরুর মাংস রান্না করলে বা সংরক্ষণ করলে সেই ঝুঁকি থাকেনা। যেহেতু বাইরে থেকে গরুর মাংসে অ্যান্টিবায়োটিক আছে কিনা সেটা বোঝার উপায় নেই। এমন অবস্থায় ভোক্তাদের সচেতন হওয়াটা সবচেয়ে জরুরি।

আমাদের দেশে যেভাবে গরুর মাংস রান্না করা হয়, ওই তাপে অ্যান্টিবায়োটিকের অস্তিত্ব মাংসে আর থাকেনা। কিন্তু মাংসটাকে যখন কাটা হচ্ছে, ধোয়া হচ্ছে তখন এটা ছড়াতে পারে। এজন্য কাঁচা মাংস নিয়ে কাজ করার সময় হাতে গ্লাভস পরতে হবে।

এছাড়া রান্নার আগে বা ফ্রিজে সংরক্ষণের আগে মাংস খুব ভালভাবে পানি দিয়ে ধুয়ে নিতে হবে, যেন রক্তের কোন চিহ্ন না থাকে।

কিছু সতর্কতা আপনার জন্য

কেউ যদি আধা কাঁচা মাংস বা স্টেক, মাংসের কিমা অথবা মাংস সেদ্ধ খেতে পছন্দ করেন তাহলে মিট পয়জনিংয়ে আক্রান্ত হওয়ার ঝুঁকি থাকে। চিকিৎসকের মতে, দুষিত মাংস খাওয়ার ফলে ভয়াবহ ফুড পয়জনিং এমনকি রক্তের সংক্রামক রোগ সেপ্টিসেমিয়া হওয়ারও আশঙ্কা থাকে।

তাই বলে আতঙ্কিত হয়ে গরুর মাংস খাওয়া ছেড়ে দেওয়ার কোনো কারণ নেই। শুধুমাত্র সচেতন হলেই এ ধরণের ঝুঁকি শতভাগ কাটিয়ে ওঠা সম্ভব বলে মনে করেন বিশেষজ্ঞরা।

সূত্র: বিবিসি বাংলা


সিএনআই’র প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।