১৬, অক্টোবর, ২০১৯, বুধবার | | ১৬ সফর ১৪৪১

এরশাদকে ক্ষমতা দখলের সুযোগ দিয়েছিল খালেদা জিয়া : প্রধানমন্ত্রী

প্রকাশিত: ১১:০৬ অপরাহ্ণ , সেপ্টেম্বর ৮, ২০১৯

এরশাদকে ক্ষমতা দখলের সুযোগ দিয়েছিল খালেদা জিয়া : প্রধানমন্ত্রী

নিউজ ডেস্ক: সংসদ নেতা প্রধানমন্ত্রী ও আওয়ামী লীগ সভাপতি শেখ হাসিনা বলেছেন, ১৯৮১ সালের নির্বাচনে বিএনপি প্রার্থী ছিলেন ছিলেন বিচারপতি সাত্তার। তাকে প্রার্থী করার কথা এরশাদ নিজেই বিদেশি পত্রিকায় বলেছেন। আমরা ওইসময় প্রতিবাদ করেছি। এরশাদ ৮২ সালে যে ক্ষমতা দখল করেছিলেন সেটির সুযোগ দেন কিন্তু খালেদা জিয়া। তিনি শুধু দুটি বাড়িই নয় ১০ লাখ টাকাও পেয়েছিলেন। খালেদা জিয়ার স্বামী জিয়াউর রহমানের মৃত্যুর পরে তার কোন ডায়েরিই হয়নি, তদন্তই হয়নি এখনো পর্যন্ত। খালেদা জিয়া দীর্ঘদিন জিয়া হত্যার জন্য এরশাদকে দায়ী পর্যন্ত করেননি। আমরাই প্রতিবাদ করি। কারণ এক স্বৈরাচ্চারের পরে আরেক স্বৈরাচ্চার আমরা চাইনি।

বিরোধী দলীয় নেতা ও জাতীয় পার্টির প্রতিষ্টাতা চেয়ারম্যান হুসেইন মুহম্মদ এরশাদের মৃত্যুতে রোববার জাতীয় সংসদে উত্থাপিত শোক প্রস্তাবের ওপর আলোচনায় তিনি এ কথা বলেন। পরে স্পিকার ড. শিরীন শারমিন চৌধুরী শোক প্রস্তাবটি সংসদে পাস করান।

শেখ হাসিনা বলেন, বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানকে হত্যা করে মার্শাল’ল জারি করে অবৈধভাবে ক্ষমতা দখল করে জেনারেল জিয়াউর রহমান। তেমনিভাবে জোর করে ক্ষমতা দখল করেন জেনারেল এরশাদও। হাইকোর্টের রায়ে তাদের সেই ক্ষমতা দখলকে অবৈধ ঘোষণা করা হয়েছে। এরপরে তাদেরকে আর রাষ্ট্রপতি বলা যায় না।

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা পরলোকগত বিরোধী দলের নেতা এরশাদের মৃত্যুতে শোক জানান। এছাড়াও মুক্তিযুদ্ধকালীন সরকারের উপদেষ্টা ও ন্যাপ চেয়ারম্যান অধ্যাপক মোজাফ্ফর আহমেদ, সাবেক সংসদ সদস্য সিরাজুল ইসলাম, সাবেক এমএলএ অধ্যক্ষ খালেদা হাবিব, সাবেক সংসদ সদস্য আনোয়ারা বেগম, ভারতের পররাষ্ট্রমন্ত্রী সুষমা স্বরাজের মৃত্যুতে শোক প্রকাশ করেন।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, যখন বঙ্গবন্ধুকে হত্যা করে মার্শাল’ল জারি করে অবৈধভাবে ক্ষমতা দখল করেছে জিয়া, তেমনিভাবে জোর করে ক্ষমতা দখল করেছেন এরশাদও। হাইকোর্টের রায়ে তাদের সেই ক্ষমতা দখলকে অবৈধ ঘোষণা করা হয়েছে। এরপরে তাকে আর রাষ্ট্রপতি বলা যায় না।

শেখ হাসিনা বলেন, এরশাদ কিছু ভাল কাজ করেছেন এটা সত্য। তবে তার সময়ে বার বার আমাদের নেতাকর্মীদের গ্রেপ্তার করা হয়। এরশাদের আমলে ১৯৮৮ সালে ২৪ জানুয়ারি লালদিঘির ময়দানে সভা করতে গিয়ে বাঁধা দেয়া হয়। ওই সভায় গুলিতে নিহত হন ২জন। ওইবছর নির্বাচনের নামে প্রহসন করে তিনি আরো বেশী বিতর্কিত হন। তার বিরুদ্ধে জনরোষ তৈরি হয়। এসব কারণে গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠায় আমরা তার বিরুদ্ধে আন্দোলন গড়ে তুলি এবং তিনি ক্ষমতা ছাড়তে বাধ্য হন।

সংসদ নেতা বলেন, শক্তিশালী বিরোধী দল ছাড়া গণতান্ত্রিক ধারা শক্তিশালী হয় না। গত টার্মে এবং এবারো জাতীয় পার্টি শক্তিশালী বিরোধী দল হিসেবে ভূমিকা রেখে চলেছেন। এজন্য এবারের সংসদ কার্যকর ভূমিকা রাখছে। সংসদের প্রতি জনগণের আস্থা ও বিশ্বাস ফিরে এসেছে। তিনি বলেন, বিএনপি যখন বিরোধী দলে ছিল তখন যে ধরনের আচরণ করা হতো, মোমবাতি হাতে নিয়ে পার্লামেন্টে ঢোকা, স্পিকারকে মারার চেষ্টা, চেয়ার ছোড়া- সবই করেছে। বর্তমানে সংসদ অনেক ভাল আচরণ করছে বিরোধী দল। আজকের পার্লামেন্টে আমরা বিএনপিকে অনেক উদারতা দেখাচ্ছি। বরং জাপা বিলসহ সব ব্যাপারে গঠনমূলক সমালোচনা করে, তাতে জনগণের আস্থা ফিরে এসেছে গণতন্ত্রের ওপর। গণতন্ত্রের স্বার্থে, দেশের স্বার্থে জসনগণের স্বার্থে আমরা কাজ করে যাচ্ছি, যাতে উন্নয়নের ফসল জনগণের ঘরে ঘরে পৌছায় সেদিকে লক্ষ্য করে কাজ করে যাচ্ছি।


সিএনআই’র প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।