২৩, সেপ্টেম্বর, ২০১৯, সোমবার | | ২৩ মুহররম ১৪৪১

তানিয়াকে যেভাবে পতিতাপল্লীতে নেয়া হলো

প্রকাশিত: ১২:১৮ অপরাহ্ণ , সেপ্টেম্বর ৯, ২০১৯

তানিয়াকে যেভাবে পতিতাপল্লীতে নেয়া হলো

সঙ্ঘবদ্ধ মানব পাচার চক্রের সদস্য আজিজুল হককে (৬২) গ্রেফতার করেছে সাতক্ষীরা জেলা সিআইডি পুলিশ। গত শনিবার রাতে শ্যামনগরের বুড়িগোয়ালিনী ইউনিয়নের আবাদচণ্ডিপুর পানখালী গ্রাম থেকে তাকে গ্রেফতার করা হয়। সে একই গ্রামের মৃত আব্দুল লতিফ গাজীর ছেলে।

তার দুই ছেলে আশিক গাজী (৩২), আশরাফ গাজী (২৪), পানখালীর শহীদ গাজী, যশোর জেলার ঝিকরগাছার বাঁকড়া গ্রামের আব্দুল বারেকসহ কয়েকজন সহযোগীকে নিয়ে তার নেতৃত্বে সঙ্ঘবদ্ধ চক্রটি দীর্ঘ দিন ধরে মানব পাচার করছে বলে অভিযোগ রয়েছে।

এদিকে আজিজুলকে আটকের পর ভারত থেকে তার ছেলে আশিক জানিয়েছে এক বছর আগে পাচার হওয়া গৃহবধূ বিলকিস খাতুন তানিয়াকে সাত দিনের মধ্যে পরিবারের হাতে উঠিয়ে দেয়া হবে। বিলকিছ খাতুন ওরফে তানিয়াকে ভারতে পাচার এবং পতিতা পল্লীতে বিক্রির ঘটনায় এক বছর আগে দায়ের হওয়া মামলার সূত্র ধরে সিআইডি গত শনিবার আজিজুলকে আটক করে।

সিআইডি ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, ২০১৮ সালের ২৩ জুলাই ঝিকরগাছার মহেশপাড়া গ্রামের রফিকুল ইসলামের মেয়ে বিলকিছ খাতুন তানিয়াকে (২১) সঙ্ঘবদ্ধ চক্রটি ভালো চাকরির প্রলোভন দেখিয়ে ভারতে পাচার করে। চক্রের অন্যতম সদস্য শহীদ গাজী ও আব্দুল বারেকের মাধ্যমে ভারতে নিয়ে যাওয়ার পর আজিজুল হকের ছেলে আশিক প্রথমে তানিয়াকে মুম্বাইয়ের একটি পতিতালয়ে বিক্রি করে। পরবর্তীতে সেখান থেকে তানিয়াকে দিল্লির অপর একটি পতিতালয়ে নিয়ে যাওয়ার পর পুলিশ তাকে গ্রেফতার করে। এ সময় ভারতে অবস্থানরত সঙ্ঘবদ্ধ চক্রের সদস্যরা জামিনে মুক্ত করে এনে তানিয়াকে প্রথমে দীঘা এবং পরবর্তীতে মহারাষ্ট্রের পুনে এলাকায় আটকে রাখে।

উল্লেখ্য তানিয়াকে পাচারের ঘটনায় ২০১৮ সালের ১৫ আগস্ট তার মা সখিনা খাতুন বাদি হয়ে একটি মামলা করেন। মামলাটির তদন্তভার শুরুতে পুলিশের ওপর থাকলেও সম্প্রতি তা সিআইডির ওপর ন্যস্ত করা হয়। সিআইডি মামলা তদন্তের দায়িত্ব পেয়ে এজাহার নামীয় একজনকে আটক করলেও অল্পদিনের মধ্যে পাচার ঘটনার রহস্য উন্মোচন করে পাচার চক্রটিকে চিহ্নিত করে।

এ বিষয়ে সিআইডির পরিদর্শক মো: জাকির হোসেন জানান, পাচার চক্রের সদস্যরা অত্যন্ত চতুর। তারা তানিয়াকে পাচার করে নিষিদ্ধ পল্লীতে বিক্রি করলেও কৌশলে নিজেদের প্রতিপক্ষের বিরুদ্ধে মামলা করতে বাধ্য করে।

তানিয়া পাচার ঘটনার রহস্য উন্মোচনকারী এ পুলিশ কর্মকর্তা আরো জানান, বাবা আজিজুল হককে আটকের পরপরই তানিয়াকে পরিবারের কাছে হস্তান্তরের বিষয়ে সম্মত হয়েছে ভারতে অবস্থানরত আশিক।

সঙ্ঘবদ্ধ এ চক্রটি দেশের বিভিন্ন স্থান থেকে নারী ও শিশুদের ভালো চাকরিসহ নানা প্রলোভন দেখিয়ে ভারতে পাচার করে আসছিল। তানিয়ার মতো আরো অন্তত সাতজন নারী এ পাচার চক্রের মাধ্যমে ভারতে পাচার হয়ে বিভিন্ন নিষিদ্ধ পল্লীতে আটক রয়েছে বলে জানিয়েছে আজিজুল হক। বাবাকে আটক করা গেলেও তার দুই ছেলেসহ চক্রটির সদস্য আব্দুল বারেক মিস্ত্রি ভারতে অবস্থান করছে বলে তাদের পরিবারের পক্ষ থেকে নিশ্চিত করা হয়েছে।


সিএনআই’র প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।