২৩, সেপ্টেম্বর, ২০১৯, সোমবার | | ২৩ মুহররম ১৪৪১

আলিবাবার নির্বাহী জ্যাক মা চেয়ারম্যান পদ থেকে অবসর নিলেন

প্রকাশিত: ৩:৪৯ অপরাহ্ণ , সেপ্টেম্বর ১০, ২০১৯

আলিবাবার নির্বাহী জ্যাক মা চেয়ারম্যান পদ থেকে অবসর নিলেন

চীনের জনপ্রিয় ই-কমার্স সাইট আলিবাবার নির্বাহী চেয়ারম্যান পদ থেকে অবসরের ঘোষণা দিয়েছেন এ খাতের পথিকৃৎ জ্যাক মা। তবে এ দায়িত্ব গ্রহণের জন্য নতুন কারো নাম জানাননি তিনি।

পূর্ব ঘোষণা অনুযায়ী, ৫৫ বছর বয়সে অবসর নেন জ্যাক মা। আলিবাবার দায়িত্ব থেকে তার অবসরকে কেন্দ্র করে নিজ শহর হ্যাংঝোতে বিশেষ অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়।

প্রায় দুই দশক আগে শিক্ষকতা পেশা পরিবর্তন করে আলিবাবা প্রতিষ্ঠা করেন জ্যাক মা। এ ব্যবসার সাথে চীনের প্রান্তিক অঞ্চলের মানুষদের সম্পৃক্ত করার মাধ্যমে তাদের জীবনমানের উন্নয়নে ভূমিকা রাখে প্রতিষ্ঠানটি। বর্তমানে এর সম্পদের পরিমাণ ছাড়িয়েছে ৪৬ হাজার কোটি ডলার। ব্যবসার পাশাপাশি সামাজিক দায়িত্ব পালনে ২০১৪ সালে জ্যাক মা ফাউন্ডেশন গঠন করেন তিনি।

উল্লেখ্য, ২০১৮ সালে অবসরের ঘোষণা দিয়ে জ্যাক মা বলেছিলেন, তিনি স্বাভাবিক প্রক্রিয়াতেই আলিবাবা ছাড়ছেন। তিনি বলেন, ‘আলিবাবা কখনো জ্যাক মা সম্পর্কিত কোনো বিষয় ছিল না, কিন্তু জ্যাক মা সব সময় আলিবাবার সঙ্গেই থাকবে।’

এর আগে ২০১৩ সালে জ্যাক মা আলিবাবার প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা (সিইও) পোস্ট ছেড়ে দেন। তার জায়গায় আসেন জোনাথান লু। ২০১৫ সালে লুয়ের জায়গা নেন প্রতিষ্ঠানের সাবেক পরিচালনা কর্মকর্তা (সিওও) ঝ্যাং। কয়েক দশক ধরে চীনের ক্রমবর্ধমান ই-কমার্স সাইট এখন কিছুটা ঝিমিয়ে পড়ছে। এ অবস্থায় চেয়ারম্যান ও সিইও পদ সামলাতে হবে ঝ্যাংকে।

জ্যাক মা সম্পর্কে কয়েকটি তথ্য:

২০১৫ সালের ২ ফেব্রুয়ারি হংকংয়ে এক অনুষ্ঠানে তরুণ উদ্যোক্তাদের উদ্দেশে জ্যাক মা বলেছিলেন, এখনকার তরুণদের যেসব যোগ্যতা থাকে, আমার সেসবের কিছুই ছিল না। আমাকে অনেকে বলত, ‘কী যোগ্যতা আছে তোমার? তুমি কখনো অ্যাকাউন্টিং শেখনি, ম্যানেজমেন্ট শেখনি। এমনকি কম্পিউটার সম্পর্কেও তেমন কিছু জানো না। তুমি কেন ব্যবসা করবে?’ আর সবাই জানে, বিশ্ববিদ্যালয়ের ভর্তি পরীক্ষার সময় গণিতে আমি ১ পেয়েছিলাম। তিনবার পরীক্ষা দিয়েও ভালো কোনো বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তির সুযোগ পাইনি। শেষ পর্যন্ত ‘চতুর্থ শ্রেণির’ না-হ্যাংঝোউ নরমাল ইউনিভার্সিটিতে ভর্তি হয়েছি।

জ্যাক মা: ফাউন্ডার অ্যান্ড সিইও অব দ্য আলীবাবা গ্রুপ বইতে তিনি লিখেছেন, ঝিঁঝিপোকা সংগ্রহ আর তাদের মধ্যে মারামারি বাধানোর শখ ছিল মার।

জ্যাক মা ১৯৮৮ সালে স্নাতক শেষ করতে পারলেও প্রায় ৩০টি চাকরির পরীক্ষায় ফেল করেন তিনি। যেখানেই আবেদন করেছেন, সেখানেই প্রত্যাখ্যাত হয়েছেন। চীনে যখন কেএফসি চালু হয়, তাতে যে ২৪ জন আবেদন করেছিল, তাদের মধ্যে ২৩ জনের চাকরি হয়েছে। জ্যাক মার চাকরি হয়নি। পরে স্থানীয় এক বিশ্ববিদ্যালয়ে ইংরেজির শিক্ষক হিসেবে চাকরি হয় তার।

ওয়ার্ল্ড ইকোনমিক ফোরামে ২০১৬ সালে জ্যাক মা বলেছিলেন, দশবার চেষ্টা করেও যুক্তরাষ্ট্রের হার্ভার্ড বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি হতে পারেননি।

জ্যাক মা যুক্তরাষ্ট্র থেকে ফিরে ইন্টারনেটভিত্তিক কোম্পানি তৈরি করলে তাও ব্যর্থ হয়। তিনি চায়না পেজেস নামে ইন্টারনেটে বিভিন্ন চীনা কোম্পানির ডিরেক্টরি চালু করেছিলেন। চায়না পেজ ব্যর্থ হলেও দমে যাননি তিনি। এর চার বছর পরেই শুরু করেন আলীবাবা।


সিএনআই’র প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।