১৯, সেপ্টেম্বর, ২০১৯, বৃহস্পতিবার | | ১৯ মুহররম ১৪৪১

‘শুধু ডাক্তার নয়, স্বাস্থ্যকর্মীদেরও অফিস সময়ে পাওয়া যায় না’

প্রকাশিত: ৩:৪৪ অপরাহ্ণ , সেপ্টেম্বর ১০, ২০১৯

‘শুধু ডাক্তার নয়, স্বাস্থ্যকর্মীদেরও অফিস সময়ে পাওয়া যায় না’

দেশের ইউনিয়ন থেকে উপজেলা পর্যায়ে কর্মরত চিকিৎসক, পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা, স্বাস্থ্য কর্মকর্তারা কর্মস্থলে যথা সময়ে উপস্থিত থেকে দায়িত্ব পালন না করায় দুঃখ প্রকাশ করেছেন পরিকল্পনামন্ত্রী এম এ মান্নান।

মঙ্গলবার (১০ সেপ্টেম্বর) দুপুরে রাজধানীর কারওয়ান বাজারের একটি অভিজাত হোটেলে এমন দুঃখ প্রকাশ করেন পরিকল্পনামন্ত্রী। ‘এইট জয়েন্ট মনিটরিং মিশন (জেএমএম)-২০১৯: স্টেকহোল্ডার্স মিটিং টু রিভিউ দ্য প্রোগ্রেস টুয়ার্ডস অ্যান্ড টিবি ইন বাংলাদেশ’ শীর্ষক এ অনুষ্ঠানে দেশের বিভিন্ন হাসপাতাল, উপজেলা থেকে চিকিৎসকরা যোগ দেন। উপস্থিত ছিলেন বেসরকারি খাতের লোকজন ও বিদেশিরা।

এ সময় পরিকল্পনামন্ত্রী বলেন, ‘আপনাদের (চিকিৎসক) ওপর যে দায়িত্ব আছে, সেটা পালন করছেন আমরা স্বীকার করি। তবে আরও ভালো করার জায়গা আছে। আমি গ্রামে বসবাস করি। প্রায় প্রতি হপ্তায় (সপ্তাহ) যাই গ্রামে। কিছু বিষয় আছে, যেগুলো আমাকে মাঝে মাঝে ব্যথিত করে। উপজেলার হাসপাতালগুলোর চমৎকার অবকাঠামো আমরা করে দিয়েছি। কিন্তু দুঃখের বিষয় হলো অনেক জায়গায় যতজন ডাক্তার থাকার কথা, তারা থাকেন না। শুধু ডাক্তার নয়, তাদের সঙ্গে যারা আছেন যেমন পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা, স্বাস্থ্য বিভাগের কর্মকর্তা, যারা উপজেলা থেকে ইউনিয়ন পর্যায়ে কাজ করছেন, যাদেরকে সবসময় জায়গায় পাওয়া যায় না।’

‘কমিউনিটি ক্লিনিকেও মাঝে মাঝে যতজন থাকার কথা, যথাসময়ে আমি তাদের পাই না’, যোগ করেন পরিকল্পনামন্ত্রী।

তিনি আরও বলেন, ‘বর্তমান সরকার বেতন-ভাতা, সুযোগ-সুবিধা সবচেয়ে বেশি দিচ্ছে। যদি এই সুযোগ-সুবিধা স্বীকার করেন, তাহলে নিজেকেই প্রশ্ন করেন। চিকিৎসকের যে দায়িত্ব, সেটা খেলাধুলার বিষয় নয়। একদিন জমিতে চাষ না করলে সমস্যা নেই, একদিন স্কুলে না গেলে সবকিছু শেষ হয়ে যাবে না, কিন্তু একদিন রোগীকে সেবা না দিলে তার জীবন-মরণ সমস্যা হয়ে দাঁড়ায়। তাহলে মাঠে বসে নিজের কাজটা ঠিকমতো করুন।’

‘শুধু টাকা দিয়ে সবকিছু করা যায় না, প্রয়োজন হয় নেতৃত্বের’ উল্লেখ করে এম এ মান্নান বলেন, ‘দেশের এত পরিবর্তন কীভাবে হচ্ছে? কারণ এখানে দৃঢ় মনোবল সম্পন্ন, দেশপ্রেমিক, দায়বোধসম্পন্ন নেতৃত্ব দিয়ে চলেছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। তার নেতৃত্বে সবার চেষ্টায় এই কাজ সম্পন্ন করা সম্ভব হয়েছে। কেন আমরা অহেতুক অভ্যন্তরীণ কোন্দলে জড়িয়ে জাতির যে সম্ভাবনা সেটা নষ্ট করব?’

দোষ ধরার জায়গা থেকে নয়, একজন সহকর্মী ও বয়োজ্যেষ্ঠ ব্যক্তি হিসেবে এসব কথা বলেছেন বলে জানান পরিকল্পনামন্ত্রী।

এ সময় উপস্থিত ছিলেন হেলথ সার্ভিসের মহাসচিব অধ্যাপক আবুল কালাম আজাদ, স্বাস্থ্যসেবা বিভাগের সচিব আসাদুল ইসলাম, স্বাস্থ্যশিক্ষা ও পরিবারকল্যাণ বিভাগের সচিব শেখ ইউসুফ হারুন, বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার (ডব্লিউএইচও) গ্লোবাল টিবি কন্ট্রোল প্রোগ্রামের পরিচালক ড. থেরেজা কাসিভা, বাংলাদেশ মেডিকেল অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি ডা. মোস্তফা জালাল মহিউদ্দিন প্রমুখ।


সিএনআই’র প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।