১৬, সেপ্টেম্বর, ২০১৯, সোমবার | | ১৬ মুহররম ১৪৪১

ডেঙ্গুতে ২৪ ঘণ্টায় ৬ জনের মৃত্যু, হাসপাতালে নতুন রোগী ভর্তি ৬৩৪ জন

প্রকাশিত: ৫:৪৩ অপরাহ্ণ , সেপ্টেম্বর ১২, ২০১৯

ডেঙ্গুতে ২৪ ঘণ্টায় ৬ জনের মৃত্যু, হাসপাতালে নতুন রোগী ভর্তি ৬৩৪ জন

স্টাফ রিপোর্টার: বাংলাদেশের হাসপাতালগুলোতে ডেঙ্গু আক্রান্ত রোগী ভর্তির সংখ্যা কমলেও থামছে না মৃত্যু। ডেঙ্গু জ্বরে আক্রান্ত হয়ে রাজধানী ঢাকা ও বাইরের জেলায় গত ২৪ ঘণ্টায় অন্তত: ৬ জনের মৃত্যুর খবর পাওয়া গেছে। এর মধ্যে রাজধানীর কদমতলী এলাকার দরিদ্র পরিবারের আড়াই বছরের শিশু খাদিজা বুধবার বিকেলে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে মারা যায়। শিশুটির বাবা কারখানা শ্রমিক ইসমাঈল হোসেনও ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হয়ে গতকাল হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন।

কদমতলীর দনিয়া এলাকায় ডেঙ্গুতে একাধিক মানুষের মৃত্যু ও বহু মানুষ আক্রান্ত বলে জানান এলাকাবাসী।

ঢাকার বাইরে বান্দরবানের রুমা উপজেলা চেয়ারম্যানের ও উপজেলা আওয়ামী লীগ সভাপতি উহ্লাচিং মারমার স্ত্রী ডমেচিং মারমা বেবী (৩২) আজ ভোর ৪টা ৫৭ মিনিটে চট্টগ্রামের একটি বেসরকারি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যান।

তাছাড়া, বরিশাল শেরে-ই বাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় সুরাইয়া আক্তার (১৪) নামের এক স্কুল ছাত্রী আজ সকাল ৬টা ৫০ মিনিটে মারা যায়। এ নিয়ে এ হাসপাতালে ২৪ ঘণ্টায় দু’জনের মৃত্যু হয়েছে। এ হাসপাতালে এ পর্যন্ত আটজন ডেঙ্গু রোগীর মৃত্যু হয়েছে।

ওদিকে, যশোরে ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়ে জাহিদা বেগম নামে এক নারী বুধবার সকালে যশোরে মারা যায়। এ নিয়ে যশোরে মোট ৫ জন মারা গেলেন। জেলার বিভিন্ন হাসপাতালে এখনও চিকিৎসাধীন আছেন ২২৪ জন।

অপরজন, রহিমা বেগম গতরাতে (বুধবার) খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে মারা গেছেন। নিহতের বাড়ি সাতক্ষীরার তালা উপজেলায়। গত সোমবার তাকে খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। এ নিয়ে ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়ে জেলায় মারা গেছেন ১১ জন।

এদিকে, সরকারি পরিসংখ্যান অনুযায়ী ডেঙ্গু জ্বরে হাসপাতালে ভর্তির সংখ্যা ৭৮ হাজার ছাড়িয়েছে। বেসরকারি হিসাবে এটা কয়েকগুণ বেশি হবে। গত ২৪ ঘণ্টায় ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়ে দেশের বিভিন্ন হাসপাতালে ৬৩৪ জন নতুন রোগী ভর্তি হয়েছেন। রাজধানী ঢাকার ৪১টি হাসপাতালে ২২১ জন ও ঢাকার বাইরের হাসপাতালে ৪১৩ জন।

এ বছর ডেঙ্গু জ্বরে আক্রান্ত হয়ে সারা দেশে এ পর্যন্ত ১৯৭ জনের মৃত্যুর খবর পেয়েছে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর। তা পর্যালোচনার জন্য সরকারের রোগতত্ত্ব, রোগ নিয়ন্ত্রণ ও গবেষণা ইনস্টিটিউটে (আইইডিসিআর) পাঠানো হয়েছে। সংস্থাটি এর মধ্যে ১০১টি মৃত্যু ঘটনা পর্যালোচনা করে ৬০ জনের মৃত্যু ডেঙ্গুজনিত বলে নিশ্চিত হয়েছে। এখনও পর্যালোচনা অব্যাহত রয়েছে। বিভিন্ন হাসপাতাল সূত্র বলছে, এ পর্যন্ত মৃতের সংখ্যা দুই শতাধিক।

এদিকে গতকাল মহাখালীস্থ আইইডিসিআর এক অনুষ্ঠানে স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের মহাপরিচালক অধ্যাপক ডা. আবুল কালাম আজাদ বলেছেন, জলবায়ুর পরিবর্তনসহ বিভিন্ন কারণে এ বছর শুধু বাংলাদেশেই নয়, বিশ্বের বিভিন্ন দেশে ডেঙ্গুর প্রকোপ বেশি ছিল। ডেঙ্গুতে একজন মানুষের মৃত্যুও কাম্য নয় মন্তব্য করে মহাপরিচালক বলেন, থাইল্যান্ড ও মালয়েশিয়াসহ বিভিন্ন দেশের ডেঙ্গুতে মৃতের তুলনায় বাংলাদেশে ডেঙ্গুতে মৃত্যু সংখ্যা অনেক কম। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার উদ্ধৃতি দিয়ে তিনি বলেন, ডেঙ্গুতে মোট আক্রান্তদের মধ্যে এক শতাংশের নিচে মৃত্যুবরণ করলে তা সহনীয় বলে ধরা হয়। সেক্ষেত্রে বাংলাদেশে ডেঙ্গুতে মৃত্যু হার শূন্য দশমিক ২ শতাংশ।


সিএনআই’র প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।