১৭, অক্টোবর, ২০১৯, বৃহস্পতিবার | | ১৭ সফর ১৪৪১

প্রকাশ পাচ্ছে ছাত্রলীগের সেই বিতর্কিত ১৯ জনের নাম

প্রকাশিত: ১১:০৮ অপরাহ্ণ , সেপ্টেম্বর ১৫, ২০১৯

প্রকাশ পাচ্ছে ছাত্রলীগের সেই বিতর্কিত ১৯ জনের নাম

ডেস্ক রিপোর্ট :  ছাত্রলীগের ৩০১ সদস্যের পূর্ণাঙ্গ কমিটিতে ৯৯ জনের বিরুদ্ধে একাধিক অভিযোগ ছিল পদবঞ্চিতদের। পরে ১৯ জন বিতর্কিত নেতাকে বাদ দিয়েছিল সদ্য সাবেক সভাপতি রেজওয়ানুল হক চৌধুরী শোভন ও সাধারণ সম্পাদক গোলাম রাব্বানী। তবে, তাদের বিজ্ঞপ্তিতে কমিটি থেকে বাদ পড়া ১৯ জনের নাম প্রকাশ করেনি।

রোববার ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের মধুর ক্যান্টিনে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে বিতর্কিত সেই ১৯ জনের নাম দ্রুত প্রকাশ করা হবে বলে জানিয়েছেন বাংলাদেশ ছাত্রলীগের সদ্য দায়িত্ব নেয়া ভারপ্রাপ্ত সাধারণ সম্পাদক লেখক ভট্টাচার্য।

তিনি বলেন, গত কমিটির সভাপতি সাধারণ সম্পাদককে কেন অপসারণ করা হয়েছে আমরা সেদিকে না যাই।

মাননীয় প্রধানমন্ত্রী আমাদের দায়িত্ব দিয়েছেন আমরা আমাদের দায়িত্ব যথাযথভাবে পালন করার চেষ্টা করব। ছাত্রলীগের সর্ব্বোচ্চ অভিভাবক শেখ হাসিনার ছাত্রলীগ নিয়ে যে অভিযোগ রয়েছে আমাদের প্রথম কাজ হবে সেগুলো ওভারকাম করা।

গত কমিটির সভাপতি সাধারণ সম্পাদকের বিরুদ্ধে যে অভিযোগ এসেছে আমাদের বিরুদ্ধে সে ধরণের অভিযোগ যেন না আসতে পারে।

বিতর্কিত ১৯ জন সম্পার্কে লেখক বলেন, বিতর্কিত ১৯ জনের লিস্ট আমরা প্রধানমন্ত্রীর সাথে কথা বলে খুব দ্রুতই তার কাছে দিব। অনেক পূর্ণাঙ্গ কমিটি ঝুলে আছে। আমরা আপার সাথে এক বা দু’দিনের মধ্যে বসে একটা কর্মপরিকল্পনা পেয়ে যাব। তারপর আমরা একটা কর্মী সভা করব। কর্মী সভার মাধ্যমে আমরা সবাই মিলে একটা ডিসিশন নিব।

ছাত্রলীগকে ঢেলে সাজানোর বিষয়ে তিনি বলেন, ছাত্রলীগের ইতিহাস এবং ঐতিহ্যের সাথে তাল মিলিয়ে আমরা এমন একটি ছাত্রলীগকে দাঁড় করাতে চাই; যেখানে ছাত্রলীগ হবে একটি ব্যানার। সেখানে অমুকের ছাত্রলীগ তমুকের ছাত্রলীগ বলে কিছু থাকবে না। ছাত্রলীগ বলতে আমরা এটি বুঝাবো সেটা শেখ হাসিনার ছাত্রলীগ।

কমিটির বিষয়ে তিনি বলেন, আমরা একটি চ্যালেঞ্জিং সিচুয়েশনে এসেছি। আমাদের নেতৃত্বে আসার প্রেক্ষাপট সম্পূর্ণ ভিন্ন। আমরা আমাদের সিনিয়র বড় ভাইদের সাথে কথা বলে এবং প্রাণপ্রিয় নেত্রীর সাথে কথা বলে তাদের সুপরামর্শে আমরা আমাদের সংগঠন পরিচালনা করব।

দায়িত্বপ্রাপ্তির বিষয়ে লেখক বলেন, বাংলাদেশ ছাত্রলীগের দায়িত্ব পাওয়ার চেয়ে বড় কোন সম্মানের বিষয় আর হতে পারে না। আমাদের নেতৃত্বের প্রেক্ষাপট আসলে গতানুগতিক ধারায় ছিলনা। অনেক কর্মী কষ্ট পেয়েছে এতে। যেসব কর্মী মনে কষ্ট নিয়ে ঘুরে বেড়াচ্ছে তাদের মনে কোন ধরণের কষ্ট থাকবে না। তাদের যেসব অভাব পূরণ হবে না বলে তারা কান্নকাটি করছে। যারা ভাবছে, শোভন ভাই রাব্বানী ভাই থাকলে আমরা ভালো থাকতাম।

আমি তাদের বলছি, শোভন ভাই, রাব্বানী ভাই তাদেরকে যেভাবে সাপোর্ট দিতো আমাদের কাছ থেকেও তারা সেই সাপোর্ট পাবে। শোভন রাব্বানী ভাইয়ের সময়ে যে পক্ষ-বিপক্ষ তৈরি হয়েছিল সেগুলো আর থাকেব না। এর জন্য আমাদের যা করা লাগে আমরা করবো।

এর আগে ৩০১ জনের পূর্ণাঙ্গ কমিটি ঘোষিত হওয়ার পর ৯৯ জনের বিরুদ্ধে মাদকসেবী, অছাত্র, বিবাহিতসহ নানা অভিযোগ তুলে কমিটিতে পদবঞ্চিতরা। তারা একই সময় রাজু ভাস্কর্যে একমাসেরও বেশি সময় আন্দোলন কর্মসূচি সহ অনশন পালন করে। পরে আন্দোলনের মুখে শোভন-রাব্বানী কমিটি প্রথমে ১৭ জন বিতর্কিতের কথা স্বীকার করলে দিত্বীয় দফায় ১৯ জনের পদ শূন্য ঘোষণা করে প্রেসবিজ্ঞপ্তি দেয়।

সেই সময় আন্দোলরতদের একজন ছাত্রলীগের সাবেক উপ-দফতর সম্পাদক শেখ নকিবুল ইসলাম সুমন বলেছিলেন ৩০১ জনের কমিটিতে শুধু ১৯ জন নয়। কমিটিতে থাকা বাকি বিতর্কিতদেরও বহিস্কার করতে হবে। একই সময় তারা বহিস্কৃত ১৯ জনের নাম প্রকাশেরও দাবি জানিয়েছিলেন।


সিএনআই’র প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।