১৭, অক্টোবর, ২০১৯, বৃহস্পতিবার | | ১৭ সফর ১৪৪১

র‌্যাবের অভিযানে সাভারের চাঞ্চল্যকর হাসি হত্যা মামলার আসামী আটক

প্রকাশিত: ১:৩৭ অপরাহ্ণ , সেপ্টেম্বর ১৬, ২০১৯

র‌্যাবের অভিযানে সাভারের চাঞ্চল্যকর হাসি হত্যা মামলার আসামী আটক

ডেস্ক রিপোর্ট :  র‌্যাবের অভিযানে সাভার আমিনবাজারের চাঞ্চল্যকর হাসি আক্তার হত্যা মামলার পলাতক প্রধান আসামী সোহেল রানাকে কুমিল্লা হতে গ্রেফতার করেছে র‌্যাব-৪।

রবিবার (১৫ সেপ্টেম্বর) সন্ধায় কুমিল্লা শহরের ধর্মসাগর পার্কের সামনে অভিযান পরিচালনা করে এ পলাতক আসামীকে গ্রেফতার করা হয়।

র‌্যাব সূত্রে জানা যায়,  মামলার ভিকটিম মোসাঃ হাসি আক্তার এর সাথে ঘটনার ৪ মাস পূর্বে আসামী মোঃ সোহেল রানার বিবাহ হয়। বিবাহের পর দাম্পত্য জীবন ভালভাবে শুরু করার পূর্বেই ভিকটিমের জীবনে নেমে আসে অন্ধকার। পারিবারিক বিভিন্ন বিষয় নিয়ে সোহেল সহ তার পরিবারের অন্যান্য সদস্যদের সাথে মতপার্থক্যের কারণে তার উপর নেমে আসে অমানুষিক নির্যাতন। এক পর্যায় ভিকটিম তার নির্যাতনের হাত থেকে বাচার জন্য ঘটনার ২ মাস আগে উভয় পক্ষের অভিভাবক এর উপস্থিতিতে আসামী সোহেল এর সাথে বিবাহ বিচ্ছেদ ঘটায়। স্বামীর সাথে বিবাহ বিচ্ছেদ হওয়ার পরে ভিকটিম হাসি আক্তার মানসিক বিপর্যস্ত হয়ে পড়ে। তারপরেও বেচে থাকার তাগিদে সে একটি এনজিওতে চাকুরী নেয় এবং সাভার থানাধীন আমীন বাজার শিবপুর গ্রামস্থ নাজিম উদ্দিনের বাড়িতে ভাড়াটিয়া হিসেবে বসবাস করে।

আসামী সোহেল ভিকটিম হাসিকে তার অফিসে যাওয়া আসার পথে এবং ভাড়া বাসায় গিয়া বিভিন্ন ভাবে উত্যক্ত করা সহ ভিকটিমের কাছে টাকা দাবি করে। ভিকিটিমকে পথে ঘাটে উত্যক্ত না করা সহ আসামী সোহেলকে তার বাসায় যেতে নিষেধ করে। কিন্তু আসামী সোহেল ভিকটিমের কথায় ক্ষুদ্ধ হয়ে আরো বেশি করে উত্যক্ত করতে থাকে এবং ভিকটিমের নিকট টাকা দাবী করে।

 


ভিকটিম আসামী সোহেলকে কোন টাকা দিবেনা বলে ষ্পষ্ট জানালে আসামী সোহেল আরো ক্ষিপ্ত হয় এবং ভিকটিমকে হত্যা করবে বলে হুমকি দেয়। এরপর থেকে আসামী সোহেল ভিকটিমকে হত্যার জন্য সুযোগ খুজতে থাকে। এক পর্যায়ে গত ০১-৫-২০১৯ ইং তারিখ অফিস বন্ধ থাকায় ভিকটিম তার উক্ত ভাড়া বাসায় অবস্থান করে। ঐ দিন সকাল ০৮.৩০ টার সময় সোহেল ভিকটিমের ভাড়াবাসায় জোর পূর্বক প্রবেশ করে এবং তার নিকট পূর্বের মতো টাকা দাবী করে। ভিকটিম হাসি আক্তার আসামী সোহেল’কে টাকা পয়সা দিতে অস্বীকার করলে আসামী সোহেল ভিকটিমকে এলোপাথারিভাবে চড়, থাপ্পর, কিল ও ঘুসি মারতে থাকে। ভিকটিম চোখে এবং মাথার এক পাশে মারাত্বক আঘাত প্রাপ্ত হয়ে অজ্ঞান হয়ে ফ্লোরে পড়ে যায়।

আসামী সোহেল ভিকটিমের চুল ধরে ফ্লোরের টাইলস্ এর সাথে উপর্যুপরি মাথায় আঘাত করতে থাকে এবং সবশেষে খাটের নীচে থাকা ইট দিয়ে মাথায় আঘাত করে মারাত্বক থেতলানো রক্তাক্ত জখম করে। পরবর্তীতে ভিকটিমের মাথা থেকে রক্ত ক্ষরন হয়ে ফ্লোর ভিজে যায়, তার রক্তাক্ত নিথর দেহ ফ্লোরে পড়ে থাকে। আসামী ভিকটিমের মৃত্যু নিশ্চিত জেনে ভিকটিমের আলমারীর ড্রয়ার হতে তিন ভরি স্বর্ন ও নগদ ৩০,০০০/- হাজার টাকাসহ সর্বমোট ১,৫০,০০০/- (এক লক্ষ প াশ হাজার) টাকার মালামাল নিয়ে দরজা বন্ধ করে পালিয়ে যায়।

বাড়ির মালিক ভিকটিমকে গুরুতর রক্তাক্ত জখম ও অজ্ঞান অবস্থায় শহীদ সোহরাওয়ার্দি হাসপাতলে নিয়ে ভর্তি করলে ভিকটিম নিউরোলজী সায়েন্সের আইসিওতে লাইফ সাপোর্টে ৬ দিন মৃত্যুর সাথে পাঞ্জালড়ে অবশেষে গত ৭-৫-২০১৯ ইং তারিখ ১৫.৪৫ ঘটিকায় মৃত্যু বরণ করেন। উক্ত ঘটনা সংক্রান্তে ভিকটিমের মা বাদী হয়ে সাভার থানায় একটি মামলা দায়ের করেন। থানায় মামলা হওয়ার পরে আসামী এবং তার পরিবার মামলা তুলে নেওয়ার জন্য মামলার বাদীকে খুন জখমের ভয়ভীতি ও হুমকি প্রদান করে। উক্ত মামলার গুরুত্ব বিবেচনা করে পুলিশের পাশাপাশি র‌্যাব-৪ মামলাটির ছায়াতদন্ত শুরু করে।

 

ঘটনাস্থল পরিদর্শন, পারিপার্শ্বিক অবস্থাসহ সার্বিক বিবেচনায় র‌্যাব-৪ মামলার প্রধান পলাতক আসামীকে গ্রেফতারের লক্ষ্যে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহন করে। বিশ্বস্ত সোর্স নিয়োগ পূর্বক তথ্য সংগ্রহ ও বিভিন্ন পদ্ধতিতে প্রাপ্ত গোপন সংবাদের ভিত্তিতে জানা যায় যে, পলাতক আসামী মোঃ সোহেল রানা (২৫) পিতা আবুল কাশেম সাং-বিদ্যাকুট, থানা- নবীনগর, জেলা- ব্রাহ্মনবাড়ীয়া গত প্রায় ৫ মাস যাবৎ কুমিল্লা শহরে আত্মগোপনে আছে। উক্ত সংবাদের ভিত্তিতে র‌্যাব-৪ এর একটি আভিযানিক দল ১৫ সেপ্টেম্বর ২০১৯ তারিখ ১৯.৩০ ঘটিকায় কুমিল্লা শহরের ধর্মসাগর পার্কের সামনে অভিযান পরিচালনা করে পলাতক আসামী মোঃ সোহেল রানা‘কে গ্রেফতার করেন।


সিএনআই’র প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।