১৯, অক্টোবর, ২০১৯, শনিবার | | ১৯ সফর ১৪৪১

বঙ্গবন্ধু ও বাঙালি

প্রকাশিত: ৫:১২ অপরাহ্ণ , সেপ্টেম্বর ১৮, ২০১৯

বঙ্গবন্ধু ও বাঙালি

বঙ্গবন্ধু’ নামটা একজন সাধারণের অসাধারণ হয়ে ওঠার চেতনা শক্তি। যেই নামটা বন্ধুত্বের মাহাত্ম্যকে মহিমান্বিত করেই শুধু ক্ষান্ত হয়নি শেষমেষ একটি দেশের ত্রাণকর্তা হিসেবে আবির্ভূত হয়ে বন্ধুত্বের সার্থকতার পথটি করেছিলেন আরও বহুগুণ প্রশস্ত।

যদি বঙ্গবন্ধু ও রাজনীতি শব্দ দুইটি প্রবাদে রূপান্তর হতো? তাহলে হয়তো কিছু ভুল হতো না। তবে এ কথার একটা বিপরীত সত্য হলো যে, বঙ্গবন্ধুকে নিয়ে তার পরবর্তী প্রজন্মের অপরাজনীতিই বঙ্গবন্ধু ও তার আদর্শের জায়গা থেকে আমাদের মতো তৃতীয়-চতুর্থ প্রজন্মের তরুণদের দূরে সরিয়ে তৃপ্তির ছোঁয়া নিয়েছিল।

রাজনীতি শব্দটি যতটা না সহজলভ্য তার চেয়ে অধিক রয়েছে এর তাৎপর্যতা। কথিত তথ্যমতে রাজনীতি শব্দের সরলীকরণ হচ্ছে রাজার নীতি। অর্থাৎ শাসকযন্ত্রের প্রণীত নীতির সমষ্টিই হচ্ছে রাজনীতি। যেখানে যিনি শুধু একজন নীতিবাক্যের কবি হয়ে জয় ছিনিয়ে আনলেন। তিনি আর যাই হোন না কেন সাধারণ কেউ নন। সদা তারুণ্যের আমাদের বঙ্গবন্ধু আসলেন, জনতার মন জয় করে দেশকে স্বাধীনতা দিলেন।

সত্যিকারার্থে, এর প্রতিদানে আমরা তাকে কী দিলাম? রক্তস্রোতের ১৫ আগস্ট ও কিছু তাজা ফুলে মোড়ানো স্তূপ। অকৃতজ্ঞে মোড়া জাতি হিসেবে আমরা অনেকেই কখনো লজ্জিত হইনি, আজও হচ্ছি না, হয়ত হবও না কোনোদিন। কথাগুলো বলায় অনেকের বাঁধলেও এটাই সত্য যে, একটা মানুষ তার জীবনের অধিকাংশ সময় ঠেলে দিলেন কারাবরণে, নিজের দেশের ও তার মানুষের প্রতি ভালোবাসাবোধ থেকে তৎকালীন ভারত সরকারের দেওয়া তার (বঙ্গবন্ধুর) ওপর সন্ত্রাসী হামলার খবর পেয়েও সরলমনে তা প্রত্যাখান করলেন। স্বজাতির ছোঁড়া শেষ বুলেট পর্যন্ত বিশ্বাস রাখলেন; তার অখণ্ড এ স্বাধীন জনতা তারই ভাই। সুতরাং তারা তার এ ক্ষতিসাধন কোনো ক্রমেই করতে পারেন না।

তিনিই ছিলেন মুজিবকোটে ছয় দফা লালন করা স্বাধিকারের নায়কখ্যাত বঙ্গবন্ধু। বঙ্গবন্ধুর সামগ্রিক জীবন রাজনৈতিক সংগঠনভিত্তিক আদর্শপ্রীতিতে জড়ানো থাকলেও তিনি আসলে অরাজনৈতিক বঙ্গবন্ধু। যেখানে আমরা চাই, তিনি কখনো রাজনৈতিক অপব্যাখ্যার শিকার হবেন না। হবেন না কখনো কোনো অপমানের শিকার। যখন এ কথাগুলো বলছি? তখন চোখে ভেসে উঠছে বঙ্গবন্ধু অবমাননাকর খবরের চিত্রগুলো। তার আদর্শিক সত্তাগুলোকে ভিন্নখাতে প্রবাহিত করার দৃশ্যগুলো। আসলে বঙ্গবন্ধু কোনো রাজনৈতিক দলের মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকার একটা নাম নয়। বঙ্গবন্ধু দল-মত নির্বিশেষে কেবলই হবেন একজন বঙ্গবন্ধু। সময় এসেছে পরিবর্তিত হওয়ার। নতুন প্রজন্মকে বঙ্গবন্ধু নামক একটা ছায়া থেকে বঞ্চিত করে রাষ্ট্র রাজনীতির কেন্দ্রবিন্দুতে কাদা ছোঁড়ার মাধ্যম হিসেবে তিনি বিবেচিত হতে পারেন না। কখনোই পারেন না রাজনৈতিক হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহৃত হতে। তাই, রবীন্দ্র-নজরুল ইনস্টিটিউটের মতো বঙ্গবন্ধুকে নিয়েও স্বতন্ত্র ইনস্টিটিউট, ডিসিপ্লিন কিংবা বিস্তর গবেষণা এখন সময়ের দাবি। যেখানে হাজার বছর পরেও কোটি মানুষের বাংলাদেশ মানেই মনে হবে এক অনন্য বঙ্গবন্ধু। বাংলাপ্রতিম বিশ্ববন্ধু।


সিএনআই’র প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।