১৭, অক্টোবর, ২০১৯, বৃহস্পতিবার | | ১৭ সফর ১৪৪১

১ অক্টোবরের মধ্যে জাবি ভিসির পদত্যাগ দাবি

প্রকাশিত: ১১:০০ অপরাহ্ণ , সেপ্টেম্বর ১৮, ২০১৯

১ অক্টোবরের মধ্যে জাবি ভিসির পদত্যাগ দাবি

চলমান দুর্নীতি ইস্যুতে এবার জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের ভিসি অধ্যাপক ফারজানা ইসলামের পদত্যাগ দাবি করেছে আন্দোলনকারী শিক্ষক-শিক্ষার্থীরা।এছাড়াও ২২ সেপ্টেম্বর থেকে জাবিতে অনুষ্ঠিতব্য ভর্তি পরীক্ষার কেন্দ্রে ভিসিকে অবাঞ্ছিত ঘোষণা করা হয়েছে। বুধবার সন্ধ্যায় ভিসির সাথে আন্দোলনকারীদের দীর্ঘ তিন ঘণ্টা আলোচনা শেষে এ দাবি জানান,‘দুর্নীতি বিরোধী জাহাঙ্গীরগনর’ ব্যানারের শিক্ষক- শিক্ষার্থীরা।

এ বিষয়ে আন্দোলনের অন্যতম সংগঠক আশিকুর রহমান জানান,‘ভিসির বিরুদ্ধে গুরুতর অভিযোগ ওঠার পরে এই পদে থাকার নৈতিক অধিকার তার নেই। আগামী ১ অক্টোবরের মধ্যে তাকে সসম্মানে পদত্যাগ করতে হবে। অন্যথায় কঠোর কর্মসূচি দেয়া হবে। এর মধ্যে ভর্তি পরীক্ষা চলাকালীন সময়ে ভিসি বাসায় বসে কাগজপত্রে স্বাক্ষর করবেন। আমাদের নিয়মতান্ত্রিক কর্মসূচি চলবে। ভর্তি পরীক্ষা চলাকালীন সময়ে অধ্যাপক ফারজানা ইসলামকে সকল পরীক্ষাকেন্দ্রে অবাঞ্ছিত ঘোষণা করা হয়েছে।’

এদিকে আলোচনা ও সিদ্ধান্তের বিষয়ে জাবি ভিসি অধ্যাপক ফারজানা ইসলাম বলেন,‘তারা আমাকে জিজ্ঞাসা করেছেন আমি নৈতিক অবস্থানে আছি কি নেই। তারা আমাকে বলেছিল,আপনি কেন শোভন-রাব্বানীর পার্সেন্টিজ দাবির বিষয়টি আগে বলেননি? আমরা যখন যেখানে জানানোর দরকার সেখানে জানিয়েছি।

তারা বিভিন্ন বিষয়ে আলোচনা শেষে একটা জায়গাতেই আসলেন। সেটা হলো-আমি বিচার বিভাগীয় তদন্ত করাবো কিনা। আমি তো আমার বিরুদ্ধে বিচার বিভাগীয় তদন্তের আবেদন করতে পারি না। আমি ইউজিসিকে জানিয়েছি, শিক্ষা মন্ত্রণালয়কে জানিয়েছি, প্রধানমন্ত্রী তো জানেনই। আমি আইন বিশেষজ্ঞের অভিমত নিয়েছি। সেই অভিমত অনুযায়ী, বিশ্ববিদ্যালয় অ্যাক্টের ১২ ধারা অনুসারে আমি কি পারি, কি পারি না তা বলা আছে। সেটা অনুযায়ী আমি বিভিন্ন তদন্ত কমিটি করতে পারি, চাইলে তদন্ত কমিটিতে হস্তক্ষেপও করতে পারি। কিন্তু আমি আমার নিজের সম্পর্কে কোন বিচার করতে পারি না। এ বিষয়ে কোন সুনির্দিষ্ট নির্দেশনা নাই। তাহলে আমাকে চ্যান্সেলর কিংবা ইউজিসির কাছে যেতে হবে। সেখানে তো তাদেরকে লিখিত দিতে হবে। আপনারা যদি লিখিতভাবে দরখাস্ত না দেন তাহলে তো তারা নিজেরা আপিল করবেন না। আপনারা রাস্তাঘাটেই তো বলছেন। শ্লোগানেই তো বলছেন। কিন্তু লিখিত কিছু দিবেন না।

জাবি ভিসি আরো বলেন,‘তারা সেটা না করে তারা আমাকে বলছেন,আমার কথার কোন সামাঞ্জস্যতা নাই। শোভন রাব্বানীর ক্যাম্পাসে আসার কথা আমি গোপন করেছি। এজন্য আমি নৈতিক অবস্থান হারিয়েছি। তাই আমার পদে থাকার কোন সুযোগ নেই।
তিনি আরো বলেন, বিশ্ববিদ্যালয়ের স্টেকহোল্ডার তো শুধু তারাই নন। এর বাহিরেও অনেকেই আছেন। যদি সবাই মনে করেন আমি নৈতিক অবস্থান হারিয়েছে তাহলে সেটা ভিন্ন কথা। আমি ইউজিসিকে বলবো যেন তারা একটা তদন্ত করেন। তদন্ত চলাকালীন সময়ে আমাকে দায়িত্ব ছেড়ে দিতে হবে কিনা তা আমি বলতে পারিনা। সেটা বলবেন মহামান্য।

ভিসি বলেন,‘আন্দোলনকারীরা পদত্যাগ দাবি করেছেন। কিন্তু আমি চাইলেই তো আর পদত্যাগ করতে পারি না। তাদের পদত্যাগের দাবিতেও যদি উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষ আমাকে এখানে থাকার নির্দেশ দেন তাহলে আমাকে গালমন্দ খেয়েও থাকতে হবে।

এদিকে বুধবার প্রো-ভিসি (প্রশাসন) অধ্যাপক আমির হোসেনসহ কয়েকজন আন্দোলনকারী শিক্ষক-শিক্ষার্থীর মোবাইল সেবা বন্ধ করে দেয়ার প্রতিবাদে আলোচনা ভয়কট করেন প্রো-ভিসি অধ্যাপক আমির হোসেন। আলোচনায় না আসার বিষয়ে অধ্যাপক আমির হোসেন বলেন,‘আমি বিশ্ববিদ্যালয়ের একটি গুরুত্বপূর্ণ পদে থাকা সত্ত্বেও আমার মোবাইল নাম্বার চার ঘণ্টা বন্ধ করে দেয়া হয়েছিল। আমি মনে করি এখানে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের সম্পৃক্ততা রয়েছে। তাই এর প্রতিবাদ করে আলোচনায় আসিনি।

মোবাইল সেবা বন্ধের বিষয়ে জানতে চাইলে ভিসি বলেন,‘আমি তো কারো মুখ বন্ধ করে রাখিনি। আপনারা প্রশ্ন করছেন। আমি তো উত্তর দিচ্ছি।’


সিএনআই’র প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।