১৬, অক্টোবর, ২০১৯, বুধবার | | ১৬ সফর ১৪৪১

সুনামগঞ্জে বয়স্ক ভাতা থেকে বঞ্চিত ৯জন কার্ডধারী বয়স্ক নারী

প্রকাশিত: ১২:১৮ অপরাহ্ণ , সেপ্টেম্বর ২২, ২০১৯

সুনামগঞ্জে বয়স্ক ভাতা থেকে বঞ্চিত ৯জন কার্ডধারী বয়স্ক নারী

সুনামগঞ্জ প্রতিনিধি: সুনামগঞ্জের ছাতকে বয়স্ক ভাতা থেকে বঞ্চিত ৯জন কার্ডধারী বয়স্ক নারী। ফলে বিগত ঈদুল ফিতর ও ঈদ-উল আযহায় তারা ভাতা বঞ্চিতভাবে নিরাশ হয়ে ফিরে যেতে হয়েছে। গত বৃহস্পতিবার দুপুরে দোলারবাজার ইউনিয়নের মঈনপুর কৃষি ব্যাংকের সামনে রাস্তায় দাঁড়িয়ে মৌন প্রতিবাদও জানিয়েছে ভাতা বঞ্চিতরা।

অভিযোগ উঠেছে দোলারবাজার ইউনিয়নের চেয়ারম্যানের নির্দেশে সরকারী কার্ডধারী ৯ জনের বয়স্ক ভাতা আটকে রেখেছে ব্যাংক কর্তৃপক্ষ।

কৃষিব্যাংক মঈনপুর শাখার ম্যানেজার ক্ষিতিশ রঞ্জন তালুকদার জানান,তাদের কার্ডে কোন রকম জটিলতা নেই। তাদের ব্যাংক একাউন্টে টাকাও বরাদ্দ রয়েছে। শুধুমাত্র ইউপি চেয়ারম্যান সায়েস্থা মিয়ার নির্দেশে তাদের ভাতা প্রদান করা সম্ভব হচ্ছে না।
জানা যায়,দোলারবাজার ইউনিয়নের অন্যান্যদের মতো ৫নং ওয়ার্ডের বয়োবৃদ্ধ ১১জনের কার্ড সরকারীভাবে ইস্যু করা হয়। তাদরে বয়স্ক ভাতার কার্ডের প্রতিটি ছবিতে স্থানীয় ওয়ার্ড মেম্বারের সীল-সাক্ষরও রয়েছে। ২০১৭-১৮ অর্থ বছরে তাদের কার্ড ইস্যু করা হলেও তারা এখন পর্যন্ত ভাতা পান নি।

গত বৃহস্পতিবার ছিল ইউনিয়নের ৫ নং ওয়ার্ডের ভাতাভোগীদের ভাতা প্রদানের দিন। ওইদিন কৃষি ব্যাংক মঈনপুর শাখা থেকে উপকার ভোগীদের ভাতা প্রদান করা হচ্ছিল। ভাতা প্রাপ্তীর প্রত্যাশায় বঞ্চিত ১১জন আবারো ভাতা নিতে এসে তাদের ভাতার কার্ড ব্যাংকে জমা দেয়। দুর-দুরান্ত থেকে এসে সকাল থেকে ভাতা প্রাপ্তীর প্রত্যাশা নিয়ে ব্যাংকের সামনে অপেক্ষা করেন।

কিন্তু ইস্যুকৃত কার্ডধারীদের মধ্যে সুমিনা বেগম ও লাল বিবিকে ভাতা প্রদান করা হলেও বাকী ৯ জন,জহুরা বিবি, বই নং-১১০৯৩ ও হিসাব নং-১৪২৩, ইন্তাজ আলী, বই নং-১১০৯৫ ও হিসাব নং-১৪২৫, কমরুন নেছা, বই নং-৬২২৪ ও হিসাব নং-১২৭২, এছন বিবি, বই নং-১১১০৪ ও হিসাব নং-১৪২৮, সবজান বিবি, বই নং-১১০৯৪ ও হিসাব নং- ১৪২৪, জয়ফুল বিবি, বই নং-১১১২২ ও হিসাব নং-১৪২৯, আহমদ আলী, বই নং-১১০৯৯ ও হিসাব নং-১৪২৭, নেকজান বিবি, বই নং-৬২১৮ ও হিসাব নং-১২৭১ ও ফুল তেরা বিবি, বই নং-১১০৯৬ এবং হিসাব নং-১৪২৬কে ফিরতে হয়েছে খালি হাতে। দ্বিতীয় বারের মতো ভাতা না পেয়ে বঞ্চিতরা কার্ড হাতে রাস্তায় দাঁড়িয়ে প্রতিবাদ করে।

এসময় তারা জানায়,চেয়ারম্যান সায়েস্থা মিয়া অনৈতিক চাহিদা না পাওয়ায় তাদের ভাতা অন্যায়ভাবে আটকে রেখেছে। বিষয়টি জেলা প্রশাসকসহ উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের কৃপাদৃষ্টি কামনা করেছেন ভাতা বঞ্চিতরা।

এ ব্যাপারে ইউপি চেয়ারম্যান সায়েস্থা মিয়া জানান,তার নির্দেশেই এসব কার্ডধারীদের ভাতা আটকে রাখা হয়েছে। এসব কার্ড তার মাধ্যমে তালিকাভুক্ত হয়নি বলে তিনি ভাতা প্রদানের জন্য নিষেধ করেছেন।


সিএনআই’র প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।