১৫, ডিসেম্বর, ২০১৯, রোববার | | ১৭ রবিউস সানি ১৪৪১

আত্মহত্যা : কারণ ও প্রতিকার (১ম পর্ব)

প্রকাশিত: ৪:৫৪ অপরাহ্ণ , সেপ্টেম্বর ২৩, ২০১৯

আত্মহত্যা : কারণ ও প্রতিকার (১ম পর্ব)

আত্মহত্যা বর্তমানে এক মহামারির রূপ ধারণ করেছে। প্রতিনিয়ত বাড়ছে আত্মহত্যার ঘটনা। প্রতি ৪০ সেকেন্ডে বিশ্বের কোথাও না কোথাও কেউ না কেউ আত্মহত্যা করছে। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ২০১২ সালে বিশ্বে আত্মহত্যা করেছে ৮ লাখ মানুষ। এ সংখ্যা বেড়েই চলেছে। আর বাংলাদেশ পুলিশ সদর দপ্তরের এক প্রতিবেদন অনুযায়ী, বাংলাদেশে ২০১১ সালে ৯ হাজার ৬৪২ জন, ২০১২ সালে ১০ হাজার ১০৮, ২০১৩ সালে ১৬ হাজার ২৮৮, ২০১৪ সালে ১৬ হাজার ৭১৭ এবং ২০১৫ সালে ১৭ হাজার ৬২৩ জন আত্মহত্যা করেছে। দ্য ডেইলি স্টারের এক প্রতিবেদন বলছে যে, বাংলাদেশে ২০০২ থেকে ২০০৯ সাল পর্যন্ত ৭৩ হাজার ৩৮৯ জন আত্মহত্যা করে।

আত্মহত্যা কী?

আত্মহত্যা বা আত্মহনন (ইংরেজি: Suicide) হচ্ছে কোনো ব্যক্তি কর্তৃক ইচ্ছাকৃতভাবে নিজের জীবন বিসর্জন দেয়া বা স্বেচ্ছায় নিজের প্রাণনাশের প্রক্রিয়াবিশেষ। ল্যাটিন ভাষায় সুই সেইডেয়ার থেকে আত্মহত্যা শব্দটি এসেছে, যার অর্থ হচ্ছে নিজেকে নিজে হত্যা করা।

আত্মহত্যার কারণ

আত্মহত্যার প্রধান কারণ হলো মানসিক বিকৃতি। ২৭% থেকে ৯০% এরও বেশি সময় আত্মহত্যার সাথে মানসিক সমস্যার সম্পর্ক থাকে। জাতীয় মানসিক স্বাস্থ্য ইনস্টিটিউটের দেয়া তথ্য মতে, বাংলাদেশে মোট জনসংখ্যার ৩১ শতাংশ বা প্রায় ৫ কোটি মানুষ কোন না কোন মানসিক সমস্যায় আক্রান্ত।

আত্মহত্যার ব্যবহারিক নানাবিধ কারণের মাঝে রয়েছে স্বামী-স্ত্রীর মনোমালিন্য, যৌতুকের কারণে ঝগড়া-বিবাদ, বাবা-মা ও ছেলে-মেয়ের মাঝে মনোমালিন্য, প্রেম-বিরহ, মিথ্যা অভিনয়ের ফাঁদে পড়া, কারও কাছে পরাজয় বরণ করা, ধনদৌলত আত্মসাৎ হয়ে ফতুর হওয়া, দীর্ঘস্থায়ী রোগ যন্ত্রণায় জীবনযাপন করা, পরীক্ষায় ব্যর্থ হওয়া, জীবনের লক্ষ্য-উদ্দেশ্য ও আত্মবোধ সম্পর্কে অবহিত না হওয়া, ধর্মীয় রীতিনীতি, আদর্শ সম্পর্কে অবগত না হওয়া, জাতীয় পর্যায়ে ধর্মীয় ও নীতিনৈতিকতাপূর্ণ শিক্ষার বাস্তবায়ন না থাকা ইত্যাদি।

ইসলামের দৃষ্টিতে আত্মহত্যা

ইসলামের দৃষ্টিতে আত্মহত্যা কবিরা গুনাহ। শিরকের পর সবচে বড় গুনাহ। ফকিহ ইমামগণের সর্বসম্মত মতে আত্মহত্যা হারাম। আল্লাহ তায়ালা বলেন, ‘আর তোমরা নিজেরা নিজেদের হত্যা করো না। নিশ্চয়ই আল্লাহ তোমাদের প্রতি দয়ালু। আর যে কেউ যুলুম করে, অন্যায়ভাবে তা (আত্মহত্যা) করবে, অবশ্যই আমি তাকে অগ্নিদগ্ধ করবো, আল্লাহর পক্ষে তা সহজসাধ্য।’ [সুরা নিসা, ৪ : ২৯-৩০]

অন্য আয়াতে আল্লাহ তায়ালা বলেন, ‘আর তোমরা নিজ হাতে নিজদেরকে ধ্বংসে নিক্ষেপ করো না।’ [সুরা বাকারা, ২ : ১৯৫]

রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, ‘যে ব্যক্তি দুনিয়াতে যে বস্তু দিয়ে আত্মহত্যা করবে, কিয়ামতের দিন তাকে সে বস্তু দিয়েই শাস্তি প্রদান করা হবে।’ [বুখারি, আসসাহিহ : ৫৭০০; মুসলিম, আসসাহিহ : ১১০]

অপর এক হাদিসে রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেন, ‘যে ব্যক্তি নিজেকে পাহাড়ের ওপর থেকে নিক্ষেপ করে আত্মহত্যা করবে, সে জাহান্নামে যাবে। সেখানে সর্বদা সে ওইভাবে নিজেকে নিক্ষেপ করতে থাকবে অনন্তকাল ধরে। যে ব্যক্তি বিষপান করে আত্মহত্যা করবে, জাহান্নামে সর্বদা সে ওইভাবে নিজেকে বিষ খাইয়ে মারতে থাকবে অনন্তকাল ধরে। যে কোনো ধারালো অস্ত্র দ্বারা আত্মহত্যা করেছে, তার কাছে জাহান্নামে সে ধারালো অস্ত্র থাকবে, যার দ্বারা সে সর্বদা নিজের পেটকে ফুঁড়তে থাকবে। [বুখারি, আসসাহিহ : ৫৪৪২; মুসলিম, আসসাহিহ : ১০৯]


সিএনআই’র প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।